বাসর রাতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বরের

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলের স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২) নামে এক নববিবাহিত যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাস ও সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। সাইরা উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদির আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ রাত পর্যন্ত চলছিল। আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড-ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আনাস। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিয়ের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িতে ছিল বিয়ের আনন্দ ও অতিথিদের কোলাহল, রাত পেরোতেই সেখানে শুরু হয় কান্না ও আহাজারি। স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নববধূ সাইরা।

আনাসের বাবা ইউসুফ আলী বলেন, বিকেলে কত সুন্দর করে বউ নিয়ে ঘরে ফিরল। কত আনন্দ, কত হাসি-খুশি! শুক্রবার সবাইকে ডেকে ধুমধাম করে খাওয়াব—সব আয়োজন শেষ করছিলাম আমরা। কিন্তু আমার ছেলেটা নিজেই আর খেয়ে গেল না।

হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিলন হোসেন বলেন, স্ট্যান্ড-ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তাঁর বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।

আনাসের সাবেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসিন রেজা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আনাস গত ১৯ আগস্ট আমার সঙ্গে হাসিমাখা মুখে দেখা করেছিল। আমি আনাসকে অনেক শাসন করেছি, ভালোবেসেছি, সে আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলত, স্যার একটা মারেন। ১৯ আগস্ট সেটাই বলেছিল, কিন্তু আনাস চলে গেল? ভাবা যায়! আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিক।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রযুক্তিগত পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে : জয়সওয়াল

বাসর রাতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বরের

প্রকাশের সময় : ০৮:২৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলের স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২) নামে এক নববিবাহিত যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাস ও সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। সাইরা উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদির আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ রাত পর্যন্ত চলছিল। আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড-ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আনাস। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিয়ের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িতে ছিল বিয়ের আনন্দ ও অতিথিদের কোলাহল, রাত পেরোতেই সেখানে শুরু হয় কান্না ও আহাজারি। স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নববধূ সাইরা।

আনাসের বাবা ইউসুফ আলী বলেন, বিকেলে কত সুন্দর করে বউ নিয়ে ঘরে ফিরল। কত আনন্দ, কত হাসি-খুশি! শুক্রবার সবাইকে ডেকে ধুমধাম করে খাওয়াব—সব আয়োজন শেষ করছিলাম আমরা। কিন্তু আমার ছেলেটা নিজেই আর খেয়ে গেল না।

হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিলন হোসেন বলেন, স্ট্যান্ড-ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তাঁর বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।

আনাসের সাবেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসিন রেজা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আনাস গত ১৯ আগস্ট আমার সঙ্গে হাসিমাখা মুখে দেখা করেছিল। আমি আনাসকে অনেক শাসন করেছি, ভালোবেসেছি, সে আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলত, স্যার একটা মারেন। ১৯ আগস্ট সেটাই বলেছিল, কিন্তু আনাস চলে গেল? ভাবা যায়! আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিক।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে।