রাকসুর তহবিল থেকে নেওয়া ১৮ লাখ টাকার হিসাব দেননি আম্মার

  • রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭৭ জন দেখেছেন

রাবি প্রতিনিধি : 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো বিল-ভাউচার জমা দেননি তিনি। বিপরীতে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, বর্তমান রাকসু পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির জন্য রাকসু তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। এর একটি অংশের কর্মসূচি অবশ্য এখনো চলমান।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিএস সালাউদ্দীন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিন ধাপে নেওয়া ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এই অর্থের মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য নেওয়া ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, গত ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং গত ১৩ এপ্রিল রাকসু সদস্যদের দাপ্তরিক খরচ বাবদ নেওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা রয়েছে।

এ বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসুর ছয় সম্পাদকের মধ্যে পাঁচ জন ভাউচার জমা দিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের ৮৫ হাজার টাকার ভাউচার বাকি থাকায় পুরো ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকাকেই পেন্ডিং দেখানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলনের ৩ লাখ এবং আপ্যায়ন বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভাউচার আগেই জমা দেওয়া হয়েছে।

আম্মারের দাবি, ‘ভর্তি পরীক্ষার বুথের জন্য পাওয়া ৩ লাখ ২ হাজার টাকা রাকসু ফান্ডের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া। এ অর্থের ভাউচারে প্রায় ৪৫-৪৬ হাজার টাকা ভ্যাটের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাকসুর মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় সেটি ঝুলে আছে।’

তার দাবি, ‘আমার কাছে আসা সব ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি অর্থ উত্তোলনে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন নিতে হয়েছে। তাই পুরো অর্থকে পেন্ডিং দেখানো বিভ্রান্তিকর।’

নথিতে দেখা যায়, জিএসের পর সবচেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন। তার নামে সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার ধাপে নেওয়া ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার বিল-ভাউচার জমা হয়নি। এছাড়া ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নেওয়া হলেও তিনি ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার একটি কর্মসূচির ভাউচার জমা দিয়েছেন। তার বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ভাউচার জমা হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, রাকসুর গঠনতন্ত্রে কোনো কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হিসাব দিতেই হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সব প্রতিষ্ঠানের মতো রাকসুতেও হিসাব সংরক্ষণের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিছু ভাউচার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়নি। সেগুলো সংশোধন করে দিতে বলা হয়েছে। অফিসের নির্ধারিত ফরম্যাটে ভাউচার প্রস্তুত করতে হয়। যেসব ভাউচার জমা পড়েছে, সেগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অসংগতি পাইনি। এমন কোনো অসংগতি আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি যে, দুই টাকা খরচ করে এক টাকা দেখানো হয়েছে। কারণ প্রতিটি কার্যক্রমই আমরা তদারকি করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনও বরাদ্দ বা বাজেট নেওয়ার আগের গৃহীত অর্থের ভাউচার জমা দিয়ে তা অ্যাডজাস্ট (সমন্বয়) করতে হয়। রাকসু কোষাধ্যক্ষকে আমি বিষয়টি ইতিপূর্বেও নির্দেশ দিয়েছি যেন আগের হিসাবগুলো দ্রুত সমন্বয় করা হয়। দীর্ঘদিনের এক বড় অঙ্কের অর্থ এভাবে অসমন্বিত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বর্তমানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। রাজশাহী ফিরে রাকসু কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরদার মনিটরিং করা হবে, যেন দ্রুত এই হিসাবের সমন্বয় ঘটে। রাকসু কোষাধ্যক্ষের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও, রাকসুর সভাপতি হিসেবে এ বিষয়ে মনিটরিং করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে এবং আমি তা পর্যবেক্ষণ করছি।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসুর ভোট হয়েছিল। যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৩ পদের বিপরীতে ২০টিতেই জয় পেয়েছিল শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। জিএস, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাকসুর তহবিল থেকে নেওয়া ১৮ লাখ টাকার হিসাব দেননি আম্মার

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রাবি প্রতিনিধি : 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো বিল-ভাউচার জমা দেননি তিনি। বিপরীতে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, বর্তমান রাকসু পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির জন্য রাকসু তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। এর একটি অংশের কর্মসূচি অবশ্য এখনো চলমান।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিএস সালাউদ্দীন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিন ধাপে নেওয়া ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এই অর্থের মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য নেওয়া ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, গত ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং গত ১৩ এপ্রিল রাকসু সদস্যদের দাপ্তরিক খরচ বাবদ নেওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা রয়েছে।

এ বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসুর ছয় সম্পাদকের মধ্যে পাঁচ জন ভাউচার জমা দিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের ৮৫ হাজার টাকার ভাউচার বাকি থাকায় পুরো ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকাকেই পেন্ডিং দেখানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলনের ৩ লাখ এবং আপ্যায়ন বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভাউচার আগেই জমা দেওয়া হয়েছে।

আম্মারের দাবি, ‘ভর্তি পরীক্ষার বুথের জন্য পাওয়া ৩ লাখ ২ হাজার টাকা রাকসু ফান্ডের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া। এ অর্থের ভাউচারে প্রায় ৪৫-৪৬ হাজার টাকা ভ্যাটের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাকসুর মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় সেটি ঝুলে আছে।’

তার দাবি, ‘আমার কাছে আসা সব ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি অর্থ উত্তোলনে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন নিতে হয়েছে। তাই পুরো অর্থকে পেন্ডিং দেখানো বিভ্রান্তিকর।’

নথিতে দেখা যায়, জিএসের পর সবচেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন। তার নামে সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার ধাপে নেওয়া ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার বিল-ভাউচার জমা হয়নি। এছাড়া ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নেওয়া হলেও তিনি ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার একটি কর্মসূচির ভাউচার জমা দিয়েছেন। তার বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ভাউচার জমা হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, রাকসুর গঠনতন্ত্রে কোনো কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হিসাব দিতেই হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সব প্রতিষ্ঠানের মতো রাকসুতেও হিসাব সংরক্ষণের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিছু ভাউচার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়নি। সেগুলো সংশোধন করে দিতে বলা হয়েছে। অফিসের নির্ধারিত ফরম্যাটে ভাউচার প্রস্তুত করতে হয়। যেসব ভাউচার জমা পড়েছে, সেগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অসংগতি পাইনি। এমন কোনো অসংগতি আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি যে, দুই টাকা খরচ করে এক টাকা দেখানো হয়েছে। কারণ প্রতিটি কার্যক্রমই আমরা তদারকি করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনও বরাদ্দ বা বাজেট নেওয়ার আগের গৃহীত অর্থের ভাউচার জমা দিয়ে তা অ্যাডজাস্ট (সমন্বয়) করতে হয়। রাকসু কোষাধ্যক্ষকে আমি বিষয়টি ইতিপূর্বেও নির্দেশ দিয়েছি যেন আগের হিসাবগুলো দ্রুত সমন্বয় করা হয়। দীর্ঘদিনের এক বড় অঙ্কের অর্থ এভাবে অসমন্বিত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বর্তমানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। রাজশাহী ফিরে রাকসু কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরদার মনিটরিং করা হবে, যেন দ্রুত এই হিসাবের সমন্বয় ঘটে। রাকসু কোষাধ্যক্ষের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও, রাকসুর সভাপতি হিসেবে এ বিষয়ে মনিটরিং করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে এবং আমি তা পর্যবেক্ষণ করছি।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসুর ভোট হয়েছিল। যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৩ পদের বিপরীতে ২০টিতেই জয় পেয়েছিল শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। জিএস, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন।