বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :
বগুড়ায় নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে খালেক নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ওই ব্যক্তি তার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। সে বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সৎমা তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিশুটি সৎমাকে বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের কথা জানায়। তবে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস না করে শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। পরে নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে শিশুটি তার দুই সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। তাদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করেন। এরপর ভুক্তভোগীর মা (আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী) ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, কোনো বাবার কাছে যদি তার সন্তান নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন। সমাজে যেন এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং নাবালিকা শিশুরা নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে, যা সামাজিক কাঠামো রক্ষা ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বর্তমান কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দিয়েছিল। আদালত তার উপযুক্ত বিচার করেছেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি 





















