যত ক্ষমতাবানই হোক, নদী ও খালের জমি দখল করতে দেওয়া হবে না : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যতই ক্ষমতাবান বা যে দলেরই হোক না কেন, নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। রূপগঞ্জের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করব।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন অগ্রণী সেচ প্রকল্পভুক্ত যাত্রামুড়া পাম্প হাউস ও প্রধান নিষ্কাশন খাল, রূপসী, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পরোক্ষ মদদে খালগুলো দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করার পরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, যে যত শক্তিশালী হোক না কেন সরকারি নদী, নালা, খাল, বিল, জমি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের বিভিন্ন খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন মাঠে নেমেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।

পরিদর্শনকালে এ অঞ্চলের সেচ ও জলাবদ্ধতার অতীত ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার সহায়তায় প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

তবে সময়ের বিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সেচ প্রকল্পের অনেক জমি ও খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। বর্তমানে রূপগঞ্জে প্রায় ৭৪১টি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় তীব্র জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে রূপগঞ্জে সড়কপথের পাশাপাশি একটি আধুনিক নৌপথ চালু হবে। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, যানজট নিরসনে সহায়ক হবে এবং মানুষ অল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, রূপগঞ্জে আগে ৩০ হাজার মন ধান হতো, এখন ধান হয় না। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিগত ১৭ বছর ইচ্ছাকৃতভাবে পানিবন্দি করে রাখা হয়েছে। চেয়েছিল দখল করে নিতে, রূপগঞ্জবাসী যাতে এই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানি সচল করার চেষ্টা করব।

এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম, পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহমেদ, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাঙামাটিতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ যুবক আটক

যত ক্ষমতাবানই হোক, নদী ও খালের জমি দখল করতে দেওয়া হবে না : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যতই ক্ষমতাবান বা যে দলেরই হোক না কেন, নদী ও খালের জমি দখল করে জলাবদ্ধতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। রূপগঞ্জের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করব।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন অগ্রণী সেচ প্রকল্পভুক্ত যাত্রামুড়া পাম্প হাউস ও প্রধান নিষ্কাশন খাল, রূপসী, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পরোক্ষ মদদে খালগুলো দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করার পরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, যে যত শক্তিশালী হোক না কেন সরকারি নদী, নালা, খাল, বিল, জমি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের বিভিন্ন খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন মাঠে নেমেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।

পরিদর্শনকালে এ অঞ্চলের সেচ ও জলাবদ্ধতার অতীত ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জাপানি প্রযুক্তি ও জাইকার সহায়তায় প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

তবে সময়ের বিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সেচ প্রকল্পের অনেক জমি ও খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। বর্তমানে রূপগঞ্জে প্রায় ৭৪১টি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় তীব্র জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে রূপগঞ্জে সড়কপথের পাশাপাশি একটি আধুনিক নৌপথ চালু হবে। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, যানজট নিরসনে সহায়ক হবে এবং মানুষ অল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, রূপগঞ্জে আগে ৩০ হাজার মন ধান হতো, এখন ধান হয় না। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিগত ১৭ বছর ইচ্ছাকৃতভাবে পানিবন্দি করে রাখা হয়েছে। চেয়েছিল দখল করে নিতে, রূপগঞ্জবাসী যাতে এই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানি সচল করার চেষ্টা করব।

এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম, পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহমেদ, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।