মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করা হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সভাকক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কল্যাণ অফিস স্থাপন করা হবে। মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের খাবারের মানও বৃদ্ধি করা হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন করে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪২ হাজার কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাত বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং আমরা করব।

তিনি  বলেন, হাম থেকে শিশুদের রক্ষায় প্রতি চার বছর পরপর প্রচারণা করার নির্দেশ ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। কিন্তু ২০২০ সালের পরে বাংলাদেশে কোনো হামের প্রচারণা করেনি ফ্যাস্টিট সরকার এমনকি হামের কোনো টিকা বা টাকাও রেখে যায়নি তারা। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইউনিসেফ বারবার অনুরোধ করেছে শিশুদের হাম থেকে রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হামের ভ্যাকসিন ক্রয় করতে। কিন্তু ইউনূস সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্যর কাছ থেকে হামের টিকা ক্রয় না করে খোলা বাজার থেকে ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কিনে ব্যর্থ হয়ে তারা সরকার থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশব্যপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইপিআই স্টকে হাত দিয়ে দেখলাম কোনো ভ্যাকসিন নেই। আমরা এসে হামের টিকার জন্য বিশ্ব দরবারে সহযোগিতা চেয়েছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রত্যেকটি স্তর থেকে আমাদের দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। কারণ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সেই ভোটের সুযোগ আপনারা সবাই করে দিয়েছেন, সাংবাদিকরা করে দিয়েছেন। সবাই মিলে আমরা জনগণের রায় নিয়েছি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে। কাজেই আমাদের অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমাদের একেবারে নিশ্চিত সততা ফিরিয়ে আনতে হবে। হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার, ডাক্তার ও নার্সদের রোগীর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার, বিভিন্ন সাইটে এটাকে উন্নত করতে হবে। ঘুরেফিরে একটা কথাই আমাদের দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স হতে হবে। দেশটা বাঁচাতে হলে আমাদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। নেশাকে না বলতে হবে, জুয়াকে না বলতে হবে। দেশটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হলে চিকিৎসার মানোন্নয়ন করতে হবে।

মাদক নির্মূলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে মাদক কারবারি ও ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচন এলেই থানার ওসি, ডিসিসহ নির্বাহী কর্মকর্তারা কোটি টাকার বরাদ্দ পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে তাদের ওই বরাদ্দ গ্রহণে বাধ্য করা হতো। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা বেগম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মাঈনুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে বদলি

মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু করা হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সভাকক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কল্যাণ অফিস স্থাপন করা হবে। মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের খাবারের মানও বৃদ্ধি করা হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন করে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪২ হাজার কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাত বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং আমরা করব।

তিনি  বলেন, হাম থেকে শিশুদের রক্ষায় প্রতি চার বছর পরপর প্রচারণা করার নির্দেশ ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। কিন্তু ২০২০ সালের পরে বাংলাদেশে কোনো হামের প্রচারণা করেনি ফ্যাস্টিট সরকার এমনকি হামের কোনো টিকা বা টাকাও রেখে যায়নি তারা। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইউনিসেফ বারবার অনুরোধ করেছে শিশুদের হাম থেকে রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হামের ভ্যাকসিন ক্রয় করতে। কিন্তু ইউনূস সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্যর কাছ থেকে হামের টিকা ক্রয় না করে খোলা বাজার থেকে ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কিনে ব্যর্থ হয়ে তারা সরকার থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশব্যপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইপিআই স্টকে হাত দিয়ে দেখলাম কোনো ভ্যাকসিন নেই। আমরা এসে হামের টিকার জন্য বিশ্ব দরবারে সহযোগিতা চেয়েছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রত্যেকটি স্তর থেকে আমাদের দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। কারণ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সেই ভোটের সুযোগ আপনারা সবাই করে দিয়েছেন, সাংবাদিকরা করে দিয়েছেন। সবাই মিলে আমরা জনগণের রায় নিয়েছি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে। কাজেই আমাদের অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমাদের একেবারে নিশ্চিত সততা ফিরিয়ে আনতে হবে। হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার, ডাক্তার ও নার্সদের রোগীর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার, বিভিন্ন সাইটে এটাকে উন্নত করতে হবে। ঘুরেফিরে একটা কথাই আমাদের দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স হতে হবে। দেশটা বাঁচাতে হলে আমাদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। নেশাকে না বলতে হবে, জুয়াকে না বলতে হবে। দেশটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হলে চিকিৎসার মানোন্নয়ন করতে হবে।

মাদক নির্মূলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে মাদক কারবারি ও ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচন এলেই থানার ওসি, ডিসিসহ নির্বাহী কর্মকর্তারা কোটি টাকার বরাদ্দ পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে তাদের ওই বরাদ্দ গ্রহণে বাধ্য করা হতো। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা বেগম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মাঈনুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান।