নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে-স্কেল প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন পে-স্কেলের তথ্য অনুযায়ী, ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বেড়েছে।অর্থাৎ এসব গ্রেডে বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে।১ম গ্রেডে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত) থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।

২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ টাকা। ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার টাকা এবং ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা করা হয়েছে।

৮ম গ্রেডে বর্তমান ২৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা। ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা, ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এসব গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

তবে ১২তম গ্রেড থেকে বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ১২তম গ্রেডে বর্তমান ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ।

১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার টাকা, যা ১১৮ শতাংশ বৃদ্ধি। ১৪তম গ্রেডেও ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রারম্ভিক মূল বেতন হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১৩০ শতাংশ।

১৫তম গ্রেডে বর্তমান ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ। ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, বৃদ্ধি ১৩৫ শতাংশ।

১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৪০০ টাকা। এ গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩৮ শতাংশ। ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার টাকা, এতে বৃদ্ধি ১৩৯ শতাংশ।

১৯তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। এ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪১ শতাংশ।

সবশেষে ২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ফলে এ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।

নতুন বেতনস্কেলে উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হলেও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বৈঠক উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আসতে থাকেন। ৫টার কিছু পরেও দু-একজন প্রতিমন্ত্রীকে বৈঠক স্থলে আসতে দেখা গেছে।

সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে, কিন্তু তা ভেঙে ভেঙে দেওয়া হবে। অবশ্য নতুন বেতন স্কেল কীভাবে কার্যকর হবে, তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এরপর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বেতন (গ্রেড-১) ছিল ৭৮ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন (গ্রেড-২০) ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোতে তা গড়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে বদলি

নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে-স্কেল প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন পে-স্কেলের তথ্য অনুযায়ী, ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বেড়েছে।অর্থাৎ এসব গ্রেডে বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের দ্বিগুণ নির্ধারণ করা হয়েছে।১ম গ্রেডে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত) থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।

২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ টাকা। ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার টাকা এবং ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা করা হয়েছে।

৮ম গ্রেডে বর্তমান ২৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা। ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা, ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এসব গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

তবে ১২তম গ্রেড থেকে বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ১২তম গ্রেডে বর্তমান ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ।

১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার টাকা, যা ১১৮ শতাংশ বৃদ্ধি। ১৪তম গ্রেডেও ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রারম্ভিক মূল বেতন হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১৩০ শতাংশ।

১৫তম গ্রেডে বর্তমান ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ। ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, বৃদ্ধি ১৩৫ শতাংশ।

১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৪০০ টাকা। এ গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩৮ শতাংশ। ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার টাকা, এতে বৃদ্ধি ১৩৯ শতাংশ।

১৯তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। এ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪১ শতাংশ।

সবশেষে ২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ফলে এ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।

নতুন বেতনস্কেলে উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হলেও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বৈঠক উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আসতে থাকেন। ৫টার কিছু পরেও দু-একজন প্রতিমন্ত্রীকে বৈঠক স্থলে আসতে দেখা গেছে।

সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে, কিন্তু তা ভেঙে ভেঙে দেওয়া হবে। অবশ্য নতুন বেতন স্কেল কীভাবে কার্যকর হবে, তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এরপর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বেতন (গ্রেড-১) ছিল ৭৮ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন (গ্রেড-২০) ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোতে তা গড়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।