বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিসিয়ার সাথে জাপানের দাপুটে জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চলতি আসরে আগের ম্যাচে ডাচদের রুখে দেওয়া জাপানের জন্য ম্যাচটি ছিল নকআউটের রাস্তা সহজের। তবে পুরো বিশ্বের জন্য এই ম্যাচটি ছিল আলাদাভাবে নজরে। কেননা ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের হাজারতম ম্যাচ। মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেইয়ে ঐতিহাসিক এই ম্যাচে তিউনিসিয়াকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করলো জাপান। বিশাল ব্যবধানে বড় জয় নকআউটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকল হাজিমে মোরিয়াসুর দলটি।

বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ জুন) সকালে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছে জাপান। জোড়া গোল করেছেন আয়াসে উয়েদা। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতো।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল খেলে জাপান তিউনিসিয়ার রক্ষণকে একেবারে ছন্নছাড়া করে দিয়েছে। দ্রুত গোল, সুনিপুণ পাসিং আর তীব্র গতির সমন্বয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছে সামুরাই ব্লুরা।

মন্তেরেই স্টেডিয়ামে তৃতীয় মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় তিউনিসিয়া। হানিবালের মেজব্রির বাঁকানো শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে! পরের মিনিটে এগিয়ে যায় জাপান। কেইতো নাকামুরার কাট ব্যাকে জটলার মধ্য থেকে জাল খুঁজে নেন কামাদা। বিশ্বকাপে এটাই এশিয়ার দেশটির দ্রুততম গোল।

দশম মিনিটে অল্পের জন্য দ্বিগুণ হয়নি ব্যবধান। আয়াসে উয়েদার শট গোললাইন প্রায় পেরিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু স্রেফ কয়েক সেন্টিমিটার বাকি থাকতে ফিরিয়ে দেন তিউনিসিয়া গোলরক্ষক!

৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উ। ডি বক্সের বাইরে থেকে আড়াআড়ি গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।

বিরতির পর তিউনিসিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ড দুটি পরিবর্তন এনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেন। ৪৯ মিনিটে ম্যাচে তিউনিসিয়ার সামনে সেরা সুযোগটি এসেছিল, কিন্তু বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি হানিবাল।

তিউনিসিয়া যখন ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুঁজছিল, তখনই তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন জুনিয়া ইতো। ৬৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে তানাকার পাস খুঁজে নেয় উয়েদাকে। উয়েদার প্রথম টাচের পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ইতো।

ম্যাচের শেষদিকে ৮৩ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাইশু সানো এবং জুনিয়া ইতোর ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং থেকে সানোর চমৎকার ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ঐতিহাসিক চতুর্থ গোলটি করেন আয়াসে উয়েদা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তিউনিসিয়া কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।

এই জয়ের পর জাপানের পয়েন্ট নেদারল্যান্ডসের সমান হলেও গোল গড়ে পিছিয়ে তারা আছে দুইয়ে। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে সুইডেন। দুই ম্যাচে নয় গোল হজম করা তিউনিসিয়া বিদায় নিল বিশ্বকাপ থেকে।

আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে সুইডেনের মুখোমুখি হবে জাপান। একই সময়ে অন্য ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে লড়বে নেদারল্যান্ডস।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিসিয়ার সাথে জাপানের দাপুটে জয়

প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চলতি আসরে আগের ম্যাচে ডাচদের রুখে দেওয়া জাপানের জন্য ম্যাচটি ছিল নকআউটের রাস্তা সহজের। তবে পুরো বিশ্বের জন্য এই ম্যাচটি ছিল আলাদাভাবে নজরে। কেননা ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের হাজারতম ম্যাচ। মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেইয়ে ঐতিহাসিক এই ম্যাচে তিউনিসিয়াকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করলো জাপান। বিশাল ব্যবধানে বড় জয় নকআউটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকল হাজিমে মোরিয়াসুর দলটি।

বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ জুন) সকালে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছে জাপান। জোড়া গোল করেছেন আয়াসে উয়েদা। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতো।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল খেলে জাপান তিউনিসিয়ার রক্ষণকে একেবারে ছন্নছাড়া করে দিয়েছে। দ্রুত গোল, সুনিপুণ পাসিং আর তীব্র গতির সমন্বয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছে সামুরাই ব্লুরা।

মন্তেরেই স্টেডিয়ামে তৃতীয় মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় তিউনিসিয়া। হানিবালের মেজব্রির বাঁকানো শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে! পরের মিনিটে এগিয়ে যায় জাপান। কেইতো নাকামুরার কাট ব্যাকে জটলার মধ্য থেকে জাল খুঁজে নেন কামাদা। বিশ্বকাপে এটাই এশিয়ার দেশটির দ্রুততম গোল।

দশম মিনিটে অল্পের জন্য দ্বিগুণ হয়নি ব্যবধান। আয়াসে উয়েদার শট গোললাইন প্রায় পেরিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু স্রেফ কয়েক সেন্টিমিটার বাকি থাকতে ফিরিয়ে দেন তিউনিসিয়া গোলরক্ষক!

৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উ। ডি বক্সের বাইরে থেকে আড়াআড়ি গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।

বিরতির পর তিউনিসিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ড দুটি পরিবর্তন এনে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেন। ৪৯ মিনিটে ম্যাচে তিউনিসিয়ার সামনে সেরা সুযোগটি এসেছিল, কিন্তু বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি হানিবাল।

তিউনিসিয়া যখন ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুঁজছিল, তখনই তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন জুনিয়া ইতো। ৬৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে তানাকার পাস খুঁজে নেয় উয়েদাকে। উয়েদার প্রথম টাচের পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ইতো।

ম্যাচের শেষদিকে ৮৩ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাইশু সানো এবং জুনিয়া ইতোর ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং থেকে সানোর চমৎকার ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ঐতিহাসিক চতুর্থ গোলটি করেন আয়াসে উয়েদা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তিউনিসিয়া কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।

এই জয়ের পর জাপানের পয়েন্ট নেদারল্যান্ডসের সমান হলেও গোল গড়ে পিছিয়ে তারা আছে দুইয়ে। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে সুইডেন। দুই ম্যাচে নয় গোল হজম করা তিউনিসিয়া বিদায় নিল বিশ্বকাপ থেকে।

আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে সুইডেনের মুখোমুখি হবে জাপান। একই সময়ে অন্য ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে লড়বে নেদারল্যান্ডস।