বিমান টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় রাখতে বিমান টিকিটের কৃত্রিম সংকট এবং সিন্ডিকেট ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে বিমান টিকিটের দুর্বৃত্তায়ন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। যাত্রী স্বার্থ রক্ষা এবং টিকিটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রাভেল এজেন্সি আইন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ১০ দফা সম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসারে আকাশপথের যাত্রী সাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণে সকল ট্রাভেল এজেন্সিকে এয়ার টিকিটের গায়ে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং টিকিটের বিক্রয়মূল্য স্পষ্টাক্ষরে লেখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ প্রণোদনা এবং বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা প্রদান, আলাদা ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং প্রায়োরিটি চেক-ইন এর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আগামী দিনে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আরও কমানোর চিন্তা-ভাবনা করা হবে বলে জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আসলে বিমান ভাড়া আমাদের প্রায় ২ লাখ টাকা ছিল হজের জন্য। সেটাকে প্রথম অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার কমিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করেছিল। আমরা গতবার প্রথম হজ পেয়েছি, সেই হজে আমরা ক্যালকুলেশন করে ১ লাখ ৫৪ হাজার পর্যন্তই নিতে পেরেছিলাম। এবার আমরা ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে, আমরা ক্যালকুলেশন করে এটাকে ১ লাখ ৩০ হাজারে করেছি। আগামী দিনে আমরা আরও কমানোর জন্য চিন্তা-ভাবনা করবো।

তিনি বলেন, যেহেতু বিমান ক্রয়ের একটি বিষয় রয়েছে এবং আমাদের রুটগুলো যদি সম্পূর্ণভাবে চালু হয় তাহলে আমাদের আয় বেশি হবে। সেক্ষেত্রে আমরা বিমানের ভাড়া কমানোর চিন্তা করবো। অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো যেভাবে চলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যতাপূর্ণ রেখে আমাদের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হবে।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিরোধী দলের নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ-এর আনীত অভিযোগের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি ঠিকাদারকে নতুন করে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া নয়, বরং ২.১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিকে দ্রুত সচল করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ।

সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ উত্থাপন করে জানান, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়ে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। সেখানে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর তদন্ত করে প্রায় ৪ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করা সত্ত্বেও কাজের প্রায় ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পুনরায় ৯০২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা ঠিকাদারকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার শামিল কি না, তা তিনি জানতে চান।

সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শুধুমাত্র ভবন উদ্বোধন করেই কাজ শেষ বলে চালিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা ছিল। কিন্তু বাস্তবে থার্ড টার্মিনালের মেশিনারিজ ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকেত বা সংযোজন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। টার্মিনালে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এর ফলে সরকার একদিকে এটি ব্যবহার করতে পারছিল না, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বড় অঙ্কের কিস্তি এরইমধ্যে পরিশোধ করা শুরু হলেও অবকাঠামো সচল না থাকায় কোনো আয় হচ্ছিল না।

মন্ত্রী সংসদে আরও নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, কাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা, ঠিকাদারের আগে থাকা কিছু বকেয়া পরিশোধ এবং অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মিটিয়ে অবকাঠামো চালুর জন্য স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া না হলে সুবিশাল টার্মিনালটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতো। অতিরিক্ত এই বরাদ্দ অনুমোদন হলে খুব দ্রুতই টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে এবং বর্তমান ১.২ মিলিয়ন যাত্রীর জায়গায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে জাইকার ঋণ সহজেই পরিশোধ করা যাবে। সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে।

সংসদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নে বিমানের অতিরিক্ত ভাড়া ও টিকিট কালোবাজারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া হঠাৎ ৬ হাজার টাকা থেকে লাফিয়ে দ্বিগুণ বা ১২ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়, যা যাত্রীসাধারণের জন্য মারাত্মক অসহনীয় ও অস্বাভাবিক। এই ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়।

উত্তরে বিমানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে কারণ কোনো সাধারণ ওয়ান-ওয়ে টিকিটের দাম কখনো ১২ হাজার টাকা স্পর্শ করেনি। সাধারণত রিটার্ন টিকিটের দাম বা বিশেষ ট্যাক্সসহ খরচ হিসাব করলে এটি সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে বেসিক টিকিট প্রাইস নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকে, যার ওপর সরকারকে প্রায় ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। সব মিলিয়ে একটি টিকিটের স্বাভাবিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৪০০ টাকা।

মহিলা আসন-১৭-এর সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ডেলিভারির সময় কমিয়ে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিট এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অপ্রতুল ব্যাগেজ বেল্ট, ট্রলি রাখার সীমিত জায়গা, সংকীর্ণ চলাচলপথ, সীমিত বোর্ডিং ব্রিজ এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় এখনও সমস্যা রয়েছে। এদিকে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটে কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ প্রশ্নে অভিযোগ করেন, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর টিকিট সিন্ডিকেট এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে লাগেজ বিলম্বের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবামূলক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি বিমানের অভ্যন্তরে এসব অসাধু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালুর সময়সীমা জানতে চান।

জবাবে মন্ত্রী জানান, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে লাগেজ ডেলিভারির ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিটে এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ক্ষেত্রে ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

তবে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিমানবন্দরে ব্যাগেজ বেল্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ছাড়া ট্রলি রাখার জায়গা সীমিত এবং ব্যাগেজ এলাকায় চলাচলের পথ সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে জট তৈরি হয়।

সীমিত সংখ্যক বোর্ডিং ব্রিজ ও রিমোট ব্যবহারের কারণেও লাগেজ ডেলিভারিতে কিছুটা বেশি সময় লাগে বলে জানান তিনি। পুরোনো এবং ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহৃত অবকাঠামোর কারণে বিমানের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারও সীমিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বিমানভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং টিকিট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয় থেকে ১০ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বুকিং করার পর নির্ধারিত সময়ে টিকিট ইস্যু না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বুকিং বাতিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রুপ বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাত্রীর নাম ও পাসপোর্টের তথ্য নিশ্চিত করার বিধান করা হয়েছে। কোনও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক দামে টিকিট বিক্রি বা টিকিট সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে টিকিটে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর ও বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম পুরোপুরি চলমান রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন স্থান চিহ্নিত করে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে পর্যটন খাতের সঠিক তথ্যের ঘাটতি দূর করা এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রণয়নের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক বিকাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনসাধারণকে সরাসরি যুক্ত করে ‘কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম’ মডেলে পর্যটন স্পটগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সমন্বিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সাংস্কৃতিক পর্যটনের সার্বিক প্রসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে শীঘ্রই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। স্মারক স্বাক্ষরের পর দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি প্রণয়ন করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এছাড়া বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ (beautifulbangladesh.gov.bd) শিরোনামে একটি নতুন অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অতিরিক্ত দায়িত্বে হুমায়ুন কবির

বিমান টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় রাখতে বিমান টিকিটের কৃত্রিম সংকট এবং সিন্ডিকেট ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে বিমান টিকিটের দুর্বৃত্তায়ন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। যাত্রী স্বার্থ রক্ষা এবং টিকিটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রাভেল এজেন্সি আইন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ১০ দফা সম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসারে আকাশপথের যাত্রী সাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণে সকল ট্রাভেল এজেন্সিকে এয়ার টিকিটের গায়ে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং টিকিটের বিক্রয়মূল্য স্পষ্টাক্ষরে লেখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ প্রণোদনা এবং বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা প্রদান, আলাদা ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং প্রায়োরিটি চেক-ইন এর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আগামী দিনে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আরও কমানোর চিন্তা-ভাবনা করা হবে বলে জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আসলে বিমান ভাড়া আমাদের প্রায় ২ লাখ টাকা ছিল হজের জন্য। সেটাকে প্রথম অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার কমিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করেছিল। আমরা গতবার প্রথম হজ পেয়েছি, সেই হজে আমরা ক্যালকুলেশন করে ১ লাখ ৫৪ হাজার পর্যন্তই নিতে পেরেছিলাম। এবার আমরা ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে, আমরা ক্যালকুলেশন করে এটাকে ১ লাখ ৩০ হাজারে করেছি। আগামী দিনে আমরা আরও কমানোর জন্য চিন্তা-ভাবনা করবো।

তিনি বলেন, যেহেতু বিমান ক্রয়ের একটি বিষয় রয়েছে এবং আমাদের রুটগুলো যদি সম্পূর্ণভাবে চালু হয় তাহলে আমাদের আয় বেশি হবে। সেক্ষেত্রে আমরা বিমানের ভাড়া কমানোর চিন্তা করবো। অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো যেভাবে চলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যতাপূর্ণ রেখে আমাদের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হবে।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিরোধী দলের নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ-এর আনীত অভিযোগের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি ঠিকাদারকে নতুন করে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া নয়, বরং ২.১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিকে দ্রুত সচল করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ।

সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ উত্থাপন করে জানান, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়ে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। সেখানে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর তদন্ত করে প্রায় ৪ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করা সত্ত্বেও কাজের প্রায় ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পুনরায় ৯০২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা ঠিকাদারকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার শামিল কি না, তা তিনি জানতে চান।

সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শুধুমাত্র ভবন উদ্বোধন করেই কাজ শেষ বলে চালিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা ছিল। কিন্তু বাস্তবে থার্ড টার্মিনালের মেশিনারিজ ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকেত বা সংযোজন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। টার্মিনালে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এর ফলে সরকার একদিকে এটি ব্যবহার করতে পারছিল না, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বড় অঙ্কের কিস্তি এরইমধ্যে পরিশোধ করা শুরু হলেও অবকাঠামো সচল না থাকায় কোনো আয় হচ্ছিল না।

মন্ত্রী সংসদে আরও নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, কাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা, ঠিকাদারের আগে থাকা কিছু বকেয়া পরিশোধ এবং অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মিটিয়ে অবকাঠামো চালুর জন্য স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া না হলে সুবিশাল টার্মিনালটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতো। অতিরিক্ত এই বরাদ্দ অনুমোদন হলে খুব দ্রুতই টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে এবং বর্তমান ১.২ মিলিয়ন যাত্রীর জায়গায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে জাইকার ঋণ সহজেই পরিশোধ করা যাবে। সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে।

সংসদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নে বিমানের অতিরিক্ত ভাড়া ও টিকিট কালোবাজারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া হঠাৎ ৬ হাজার টাকা থেকে লাফিয়ে দ্বিগুণ বা ১২ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়, যা যাত্রীসাধারণের জন্য মারাত্মক অসহনীয় ও অস্বাভাবিক। এই ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়।

উত্তরে বিমানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে কারণ কোনো সাধারণ ওয়ান-ওয়ে টিকিটের দাম কখনো ১২ হাজার টাকা স্পর্শ করেনি। সাধারণত রিটার্ন টিকিটের দাম বা বিশেষ ট্যাক্সসহ খরচ হিসাব করলে এটি সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে বেসিক টিকিট প্রাইস নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকে, যার ওপর সরকারকে প্রায় ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। সব মিলিয়ে একটি টিকিটের স্বাভাবিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৪০০ টাকা।

মহিলা আসন-১৭-এর সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ডেলিভারির সময় কমিয়ে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিট এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অপ্রতুল ব্যাগেজ বেল্ট, ট্রলি রাখার সীমিত জায়গা, সংকীর্ণ চলাচলপথ, সীমিত বোর্ডিং ব্রিজ এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় এখনও সমস্যা রয়েছে। এদিকে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটে কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ প্রশ্নে অভিযোগ করেন, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর টিকিট সিন্ডিকেট এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে লাগেজ বিলম্বের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবামূলক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি বিমানের অভ্যন্তরে এসব অসাধু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালুর সময়সীমা জানতে চান।

জবাবে মন্ত্রী জানান, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে লাগেজ ডেলিভারির ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিটে এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ক্ষেত্রে ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

তবে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিমানবন্দরে ব্যাগেজ বেল্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ছাড়া ট্রলি রাখার জায়গা সীমিত এবং ব্যাগেজ এলাকায় চলাচলের পথ সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে জট তৈরি হয়।

সীমিত সংখ্যক বোর্ডিং ব্রিজ ও রিমোট ব্যবহারের কারণেও লাগেজ ডেলিভারিতে কিছুটা বেশি সময় লাগে বলে জানান তিনি। পুরোনো এবং ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহৃত অবকাঠামোর কারণে বিমানের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারও সীমিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বিমানভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং টিকিট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয় থেকে ১০ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বুকিং করার পর নির্ধারিত সময়ে টিকিট ইস্যু না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বুকিং বাতিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রুপ বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাত্রীর নাম ও পাসপোর্টের তথ্য নিশ্চিত করার বিধান করা হয়েছে। কোনও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক দামে টিকিট বিক্রি বা টিকিট সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে টিকিটে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর ও বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম পুরোপুরি চলমান রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন স্থান চিহ্নিত করে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে পর্যটন খাতের সঠিক তথ্যের ঘাটতি দূর করা এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রণয়নের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক বিকাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনসাধারণকে সরাসরি যুক্ত করে ‘কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম’ মডেলে পর্যটন স্পটগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সমন্বিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সাংস্কৃতিক পর্যটনের সার্বিক প্রসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে শীঘ্রই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। স্মারক স্বাক্ষরের পর দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি প্রণয়ন করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এছাড়া বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ (beautifulbangladesh.gov.bd) শিরোনামে একটি নতুন অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।