পারস্য উপসাগরের দ্বীপদেশ বাহরাইনে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন শ্রমিক ভিসা দেওয়া কার্যত স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই স্থবিরতায় জনবল সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা, পরিবার থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছিন্নতা ও আকস্মিক চাকরি হারানোর মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন দেশটিতে থাকা প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী।
মধ্যপ্রাচ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখন বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের আবেদন জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংকট কেবল নতুন শ্রমিক ভিসাতেই সীমাবদ্ধ নয়; ফ্যামিলি ও ভ্রমণ ভিসার ওপর বাহরাইন সরকারের বিধিনিষেধ প্রবাসীদের জীবনযাত্রাকে বিষিয়ে তুলেছে। মানামাভিত্তিক ট্রেডিং ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা আজগর আলী জানান, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ফ্যামিলি ভিসা না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিবার বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
একই দুর্দশার কথা জানান চাঁদপুরের ব্যবসায়ী ওমর ফারুক। মানামায় সেলুন, কোল্ড স্টোর ও স্ক্র্যাপ ব্যবসাসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া সত্ত্বেও পরিবারকে সময় দিতে দেশে গেলেই ব্যবসা সশরীরে তদারকি না থাকায় গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান।
অন্যদিকে, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা মুখোমুখি হচ্ছেন কর্মী সংকটের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাসিন্দা ও ‘এম রহমান গ্রুপ ট্রেডিং’-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদ জানান, বাহরাইনের শ্রমবাজার পুনর্দখলে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবে নতুন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি বাহরাইন সফর অথবা সরকারি উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনার বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
পাশাপাশি, ছুটিতে দেশে ফেরা প্রবাসীদের ওপর ঝুলছে আকস্মিক ভিসা বাতিলের অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা ও ‘মা ট্রেডিং’-এর স্বত্বাধিকারী সালাউদ্দিন লাভলু অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই গত জুনে দেশে আসার পর নিয়োগকর্তা কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই তার ভিসা বাতিল করে দেন। দেশে ভিসা চালু থাকলে তিনি পুনরায় নতুন ভিসায় বাহরাইনে ফিরতে পারতেন।
এ ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। প্রবাসীদের মতে, বাংলাদেশের এই স্থবির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার কর্মীরা বাহরাইনের শ্রমবাজারে নিজেদের ভিত্তি উত্তরোত্তর শক্তিশালী করে তুলছে।
১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনাকারী বাহরাইনই ছিল পশ্চিম এশিয়ার প্রথম দেশ যা স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি বহু বছর ধরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে দেশটির অবস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে। এই সৌহার্দ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চান প্রবাসীরা।
প্রতিনিধির নাম 























