Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বায়ার্নকে হতাশায় ডুবিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ১৮৩ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভেসোঁ কম্পানি। কিন্তু সেরা ফর্মের ধারেকাছেও যেতে পারল না তার দল। শেষ সময়ে গোল শোধ করে হার এড়াতে পারল বটে; কিন্তু বিদায় ঠেকাতে পারল না তারা। বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফিরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

বুধবার (৬ মে) রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইটি ১-১ গোলে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লুইস এনরিকের দল।

গত সপ্তাহে প্যারিসে প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল পিএসজি। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সেই লিড ধরে রেখে সব মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে তারা। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ফরাসি জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরুতে উসমান দেম্বেলের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। প্রায় পুরোটা সময় নিজের ছায়া হয়ে থাকা হ্যারি কেইন যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সমতা টানেন।

প্রথমার্ধে বায়ার্নের তোলা দুটি হ্যান্ডবলের জোরাল আবেদন নাকোচ করে দেন রেফারি, যা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় স্বাগতিকরা। নিশ্চিতভাবে ম্যাচের পরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে ওই দুটি ঘটনা।

এই মাঠে গত আসরের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল পিএসজি। সেখানে ফিরে এবার ম্যাচ জিততে না পারলেও, লক্ষ্য পূরণ হলো তাদের। এখন টানা দ্বিতীয় শিরোপা থেকে স্রেফ একটি জয় দূরে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্সেনাল, যারা ফাইনালে উঠেছে ২০ বছর পর।

ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে থেকে গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়ে কেবল ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বায়ার্ন। পিএসজির ১৫ শটের সাতটি ছিল লক্ষ্যে। প্রথম লেগে একটিও সেভ করতে না পারা মানুয়েল নয়ার এবার দারুণ কিছু সেভ করেন।

প্যারিসে ৯ গোলের পাগলাটে লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জয়ী পিএসজি এবার তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায়। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাট-ব্যাক করেন খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া আর বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান অরক্ষিত ব্যালন দ’র জয়ী দেম্বেলে।

এই অ্যাসিস্টে দারুণ এক কীর্তি গড়লেন কাভারাৎসখেলিয়া। তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরে নকআউট পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করলেন।

২১তম মিনিটে গোল করার সুযোগও পেয়ে যান কাভারাৎসখেলিয়া। তবে তার শট অনায়াসে ঠেকান নয়ার। সেমি-ফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে অভিজ্ঞ জার্মান গোলরক্ষকের প্রথম সেভ এটি। ৩০তম মিনিটে মাঝমাঠের কাছে মাইকেল ওলিসের পা থেকে বল পিএসজির নুনো মেন্দেসের হাতে লাগলে এই ডিফেন্ডারের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও ফ্রি-কিকের জোরাল দাবি জানায় বায়ার্ন। কিন্তু রেফারির সাড়া মেলেনি। টাচলাইনে ভীষণ ক্ষুব্ধ দেখা যায় বায়ার্ন কোচ কম্পানিকে।

একটু পর ভিতিনিয়া নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ারের চেষ্টায় শট করলে তারই সতীর্থ জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে। এবার পেনাল্টির দাবি জানায় বায়ার্ন। কিন্তু এবারও তাদের দাবি নাকোচ করে দেন পর্তুগিজ রেফারি। প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বায়ার্নের খেলোয়াড়রা। ওই দুটি ঘটনার পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পায় পিএসজি। কাছ থেকে নেভেসের হেড ব্যর্থ করে দেন নয়ার।

প্রথমার্ধে কেবল একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে বায়ার্ন। বিরতির আগে জামাল মুসিয়ালার ওই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফানভ। গোলের জন্য বায়ার্নের বড় ভরসা যিনি, সেই কেইনকে প্রথমার্ধে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ওলিসেও ভালো খেলতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধেও পিএসজির শুরুটা হয় ইতিবাচক। মুহূর্তের ব্যবধানে দিজিরে দুয়ে ও কাভারাৎসখেলিয়ার শট ঠেকিয়ে বায়ার্নকে লড়াইয়ে রাখেন নয়ার। ৬৪তম মিনিটে দুয়ারের আরেকটি শট ফিরিয়ে দেন তিনি। এই অর্ধে বায়ার্ন প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ৬৯তম মিনিটে। কাছ থেকে লুইস দিয়াসের জোরাল শট ঠেকান সাফানভ। পরের মিনিটে ওলিসের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি।

৭২তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন দুয়ে। কাভারাৎসখেলিয়ার চমৎকার পাস বক্সে পেয়ে বাইরে মারেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। আট মিনিট পর দারুণ সুযোগ পেয়েও কাছ থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি কাভারাৎসখেলিয়া।

পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ম্যাচে সমতা টানেন কেইন। আলফুঁস ডেভিসের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের চমৎকার শটে জালে পাঠান ইংলিশ স্ট্রাইকার। ওই গোলে হয়তো কিছুটা আশা জাগে বায়ার্ন শিবিরে। কিন্তু বাকি সময়টুকুতে অভাবনীয় কিছু তারা করে দেখাতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি শিবির।

পিএসজি এবং বায়ার্ন ৪৩ ও ৪২ গোল করে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে দ্বিতীয় লেগে খেলতে নেমেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম একই মৌসুমে দুটি দল ৪০-এর বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ল, যেখানে অবশ্য টুর্নামেন্টের নতুন ‘লিগ ফেজ’ ফরম্যাট বড় ভূমিকা রেখেছে।

পুরো ম্যাচজুড়ে বায়ার্ন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে হ্যারি কেইনের সান্ত্বনামূলক গোলটি ছাড়া আর কোনো জালের দেখা পায়নি। এর ফলে ২০২০ এবং ২০১৩ সালের মতো ‘ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন এক গোলের ব্যবধানে শেষ হয়ে যায় বায়ার্নের।

মঙ্গলবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল।

পিএসজি এখন রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার এই শিরোপা জিতেছিল।

আবহাওয়া

শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

বায়ার্নকে হতাশায় ডুবিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি

প্রকাশের সময় : ১২:১৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভেসোঁ কম্পানি। কিন্তু সেরা ফর্মের ধারেকাছেও যেতে পারল না তার দল। শেষ সময়ে গোল শোধ করে হার এড়াতে পারল বটে; কিন্তু বিদায় ঠেকাতে পারল না তারা। বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফিরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

বুধবার (৬ মে) রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইটি ১-১ গোলে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লুইস এনরিকের দল।

গত সপ্তাহে প্যারিসে প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল পিএসজি। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সেই লিড ধরে রেখে সব মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে তারা। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ফরাসি জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরুতে উসমান দেম্বেলের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। প্রায় পুরোটা সময় নিজের ছায়া হয়ে থাকা হ্যারি কেইন যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সমতা টানেন।

প্রথমার্ধে বায়ার্নের তোলা দুটি হ্যান্ডবলের জোরাল আবেদন নাকোচ করে দেন রেফারি, যা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় স্বাগতিকরা। নিশ্চিতভাবে ম্যাচের পরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে ওই দুটি ঘটনা।

এই মাঠে গত আসরের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল পিএসজি। সেখানে ফিরে এবার ম্যাচ জিততে না পারলেও, লক্ষ্য পূরণ হলো তাদের। এখন টানা দ্বিতীয় শিরোপা থেকে স্রেফ একটি জয় দূরে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্সেনাল, যারা ফাইনালে উঠেছে ২০ বছর পর।

ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে থেকে গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়ে কেবল ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বায়ার্ন। পিএসজির ১৫ শটের সাতটি ছিল লক্ষ্যে। প্রথম লেগে একটিও সেভ করতে না পারা মানুয়েল নয়ার এবার দারুণ কিছু সেভ করেন।

প্যারিসে ৯ গোলের পাগলাটে লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জয়ী পিএসজি এবার তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায়। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাট-ব্যাক করেন খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া আর বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান অরক্ষিত ব্যালন দ’র জয়ী দেম্বেলে।

এই অ্যাসিস্টে দারুণ এক কীর্তি গড়লেন কাভারাৎসখেলিয়া। তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরে নকআউট পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করলেন।

২১তম মিনিটে গোল করার সুযোগও পেয়ে যান কাভারাৎসখেলিয়া। তবে তার শট অনায়াসে ঠেকান নয়ার। সেমি-ফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে অভিজ্ঞ জার্মান গোলরক্ষকের প্রথম সেভ এটি। ৩০তম মিনিটে মাঝমাঠের কাছে মাইকেল ওলিসের পা থেকে বল পিএসজির নুনো মেন্দেসের হাতে লাগলে এই ডিফেন্ডারের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও ফ্রি-কিকের জোরাল দাবি জানায় বায়ার্ন। কিন্তু রেফারির সাড়া মেলেনি। টাচলাইনে ভীষণ ক্ষুব্ধ দেখা যায় বায়ার্ন কোচ কম্পানিকে।

একটু পর ভিতিনিয়া নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ারের চেষ্টায় শট করলে তারই সতীর্থ জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে। এবার পেনাল্টির দাবি জানায় বায়ার্ন। কিন্তু এবারও তাদের দাবি নাকোচ করে দেন পর্তুগিজ রেফারি। প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বায়ার্নের খেলোয়াড়রা। ওই দুটি ঘটনার পরপরই ব্যবধান বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পায় পিএসজি। কাছ থেকে নেভেসের হেড ব্যর্থ করে দেন নয়ার।

প্রথমার্ধে কেবল একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে বায়ার্ন। বিরতির আগে জামাল মুসিয়ালার ওই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফানভ। গোলের জন্য বায়ার্নের বড় ভরসা যিনি, সেই কেইনকে প্রথমার্ধে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ওলিসেও ভালো খেলতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধেও পিএসজির শুরুটা হয় ইতিবাচক। মুহূর্তের ব্যবধানে দিজিরে দুয়ে ও কাভারাৎসখেলিয়ার শট ঠেকিয়ে বায়ার্নকে লড়াইয়ে রাখেন নয়ার। ৬৪তম মিনিটে দুয়ারের আরেকটি শট ফিরিয়ে দেন তিনি। এই অর্ধে বায়ার্ন প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ৬৯তম মিনিটে। কাছ থেকে লুইস দিয়াসের জোরাল শট ঠেকান সাফানভ। পরের মিনিটে ওলিসের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি।

৭২তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন দুয়ে। কাভারাৎসখেলিয়ার চমৎকার পাস বক্সে পেয়ে বাইরে মারেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। আট মিনিট পর দারুণ সুযোগ পেয়েও কাছ থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি কাভারাৎসখেলিয়া।

পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ম্যাচে সমতা টানেন কেইন। আলফুঁস ডেভিসের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের চমৎকার শটে জালে পাঠান ইংলিশ স্ট্রাইকার। ওই গোলে হয়তো কিছুটা আশা জাগে বায়ার্ন শিবিরে। কিন্তু বাকি সময়টুকুতে অভাবনীয় কিছু তারা করে দেখাতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি শিবির।

পিএসজি এবং বায়ার্ন ৪৩ ও ৪২ গোল করে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে দ্বিতীয় লেগে খেলতে নেমেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম একই মৌসুমে দুটি দল ৪০-এর বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ল, যেখানে অবশ্য টুর্নামেন্টের নতুন ‘লিগ ফেজ’ ফরম্যাট বড় ভূমিকা রেখেছে।

পুরো ম্যাচজুড়ে বায়ার্ন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে হ্যারি কেইনের সান্ত্বনামূলক গোলটি ছাড়া আর কোনো জালের দেখা পায়নি। এর ফলে ২০২০ এবং ২০১৩ সালের মতো ‘ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন এক গোলের ব্যবধানে শেষ হয়ে যায় বায়ার্নের।

মঙ্গলবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল।

পিএসজি এখন রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার এই শিরোপা জিতেছিল।