স্পোর্টস ডেস্ক :
হুনাইন শাহর লেংথ ডেলিভারি লেগ সাইডে খেললেন ফারহান ইউসুফ। ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকাতে পারলেন না কিপার উসমান খান। তার পাশ দিয়ে বল চলে গেল বাউন্ডারিতে। ডাগ আউট থেকে মাঠে ছুটে গেলেন পেশাওয়ার জালমির ক্রিকেটাররা। দুই ব্যাটসম্যানকে কোলে তুলে নিলেন কেউ কেউ। চলল তাদের আনন্দ-উল্লাস। আট মৌসুম পর আবার পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চ্যাম্পিয়ন হলো পেশোয়ার জালমি।
রোববার (৩ মে) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৫ উইকেটে জিতেছে পেশোয়ার। পিএসএলে এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। নয় বছর আগে ২০১৭ সালের আসরে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল তারা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়। জবাব দিতে নেমে ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে ১৩০ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পেশোয়ার।
ইনিংসের মাঝপথেই জয়ের পথটা সহজ করে রেখেছিল পেশোয়ারের বোলাররা। অস্ট্রেলিয়ান পেসার অ্যারন হার্ডি ৪ ওভারে ২৭ রানের বিনিময়ে নেন ৪ উইকেট। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাও। ফাইনাল খেলতে পাকিস্তানে উড়ে গিয়ে ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে এই গতিতারকা নিয়েছেন ২ উইকেট।
হার্ডি-রানাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মুখ থুবডে পড়ে ১২ বল আগেই ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় হায়দরাবাদ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইম আইয়ুব। তার ৫০ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন।

নাহিদ রানা প্রথমবার বোলিংয়ে আসেন ষষ্ঠ ওভারে। এর আগে প্রথম ৫ ওভারে ২ উইকেট হারালেও ৫৬ রান তুলে ফেলেছিল হায়দরাবাদ। নাহিদ রানার প্রথম ওভার শেষে স্কোরে যোগ হয় আরও ১৩ রান। সুফিয়ান মুকিমের করা পরের ওভারে ৪ বলের মধ্যে উসমান খান ও ইরফান খানের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ।
নাহিদ রানা নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে অস্ট্রেলীয় তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে চাপটা আরও বাড়িয়ে দেন। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ওভারটার পঞ্চম বলে কুশল পেরেরাও রানআউট। তাতে ৭৩/৬ হয়ে যায় হায়দরাবাদের স্কোর।
ওভারটায় মাত্র ৫ রান দেওয়া নাহিদ রানা আবার বোলিংয়ে আসেন ১৪তম ওভারে। এর আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলা হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যানরা একটি রানও নিতে পারেননি নাহিদ রানার দুর্দান্ত গতির সামনে। ওভারের পঞ্চম বলে হুনাইন শাহকে বোল্ড করে দ্বিতীয় উইকেটটি পেয়ে যান নাহিদ রানা। মেডেন উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা ১৭তম ওভারে দেন ৪ রান।
পেশোয়ারের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার হার্ডি। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২ টি, মোহাম্মদ বাসিত ও সুফিয়ান মুকিম একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।
ছোট লক্ষ্যে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় পেশোয়ার। প্রথম ওভারে মোহাম্মদ হারিস ও বাবর আজমকে এক বলের বিরতি দিয়ে ফেরান মোহাম্মদ আলি। দারুণ ফর্মে থাকা বাবর গোল্ডেন ডাক মারেন। হারিস করেন ৬ রান।
৭ রানে দুই উইকেট পড়ার পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ফের হোঁচট খায় পেশোয়ার। পাওয়ার প্লেতেই ৭ রানের ব্যবধানে কুশল মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে হারায় তারা। এরপর এরন হার্ডি ও আব্দুল সামাদের অপরাজিত জুটিতে জয় দেখছিল পেশোয়ার। কিন্তু সামাদকে ৪৮ রানে ফিরিয়ে ৮৫ রানের জুটি ভেঙে দেন আলি। ফারহান ইউসুফ চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন। ১৫.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রান করে পেশোয়ার। হার্ডি ৩৯ বলে ৯ চারে ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
স্পোর্টস ডেস্ক 























