গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক এখন যেন এক ‘দুর্ভোগের প্রতীক’। অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে, বাড়ছে যানজট, নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ এবং প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে চালকরা গর্ত দেখতে না পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
সিংহশ্রী সেতু টোলমুক্ত হওয়ায় দূরপাল্লার ভারী ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ককে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন গাজীপুর, ঢাকা, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, নরসিংদীর মনোহরদী, গাজীপুরের কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের হাজারো মানুষ।
কাপাসিয়ার টোক, সিংহশ্রী, রায়েদ ও বারিষাব ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্যও এটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম।
বরমী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুয়েল রানা ও মারিয়া আক্তারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ভেঙে গেছে। সিএনজি বা অটোরিকশা দিয়ে চলাচল করলে ভাঙা স্থানে পড়ে উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।এতে ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয় আমাদের।
শ্রীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার ও সুমাইয়া বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে কলেজে যেতে হয়। বৃষ্টির দিনে চলাচল খুবই কষ্ট হয়ে যায়। গর্তের কারণে প্রায়ই যানজটে আটকে পড়ে সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না।
কাপাসিয়ার সিংহশ্রী এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া, যিনি মাওনার একটি পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত বলেন, সড়ক ভালো থাকা অবস্থায় অফিস সময়ের এক ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে বের হলে যথাসময়ে অফিসে পৌঁছানো যেত এখন দুই কিলোমিটার ভাঙা সড়ক পার হতে দুই ঘণ্টা আগে বের হতে হয়।
সিএনজি চালক কফিল উদ্দিন বলেন, সড়কের ভাঙা অংশের জন্য গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে গ্যারেজে গাড়ি মেরামত করতে হয়। এতে ইনকামের অর্ধেক চলে যায় গাড়ি মেরামতে।
দ্রুত সড়ক সংস্কার করা না হলে কয়েকদিন পর থেকে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, দাবি করেন তিনি।
অটোরিকশা চালক আবু মুসা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
তিনি দাবি করেন. সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ও হাফিজুল ইসলাম, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও নূরুল আমীন দ্রুত সড়ক সংস্কার, ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহম্মেদ বলেন, বরমা থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দ্রুতই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কাজ শুরু করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি 

























