নেপালে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অপু বিশ্বাস

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮৫ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক :

নেপালে সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছিল ‘শিকার’ সিনেমার টিম। টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও শেষ পর্যন্ত শুটিং শেষ করে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পী। পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম পরিবেশে কাজ চললেও হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা দেখা দেয়। কোথাও সড়ক পানিতে ডুবে যায়, আবার কোথাও ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগের পথ। এমন পরিস্থিতিতে শুটিং দ্রুত শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় সিনেমাটির টিম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালে কাটানো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।

জায়েদ-অধরার সঙ্গে যুক্ত হলেন শিরিন শিলা
বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন অপু ও তার টিম। এর মধ্যেই দেশটিতে ভয়াবহ হড়পা বান, বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর আসতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার বদলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় টিমটি।

অপু জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটে। কাকতালীয়ভাবে পরদিন, অর্থাৎ ২৭ আগস্ট, একই পথ দিয়ে তাদের যাওয়ার কথা ছিল। এক দিনের ব্যবধানে যাত্রা হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি নিয়ে অপু বলেন, “আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে, দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”

তবে, শুধু নিজেদের নিরাপত্তার বিষয় নয়, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথাও বিবেচনায় নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে তিনি সে সময় সমীচীন মনে করেননি।

কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অপু বলেন, “এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।”

নেপালে অপুর সঙ্গে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে ছিলেন পুরো ইউনিট। সিনেমায় তার পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। নেপালের পরিস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। গতকাল (২৮ আগস্ট) কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে খরাজ ভক্তদের আশ্বস্ত করেন, তারা নিরাপদে ছিলেন। এর কয়েকট ঘণ্টা পর ঢাকায় ফিরে একই অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু।

শুটিং আপাতত থেমে গেলেও ‘শিকার’ ঘিরে তৈরি হওয়া এই অভিজ্ঞতা সিনেমাটির দলের জন্য নিছক শুটিং-স্মৃতি হয়ে থাকছে না। প্রকৃতির ভয়াবহতার সামনে কাজের পরিকল্পনার চেয়ে মানুষের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতাই যে বড় হয়ে উঠতে পারে, নেপালে সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে সিনেমাটির টিম।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কুয়েত-বাংলাদেশ রুটে বিমানের ফ্লাইট ফের চালু

নেপালে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অপু বিশ্বাস

প্রকাশের সময় : ০১:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক :

নেপালে সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছিল ‘শিকার’ সিনেমার টিম। টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও শেষ পর্যন্ত শুটিং শেষ করে নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পী। পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম পরিবেশে কাজ চললেও হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা দেখা দেয়। কোথাও সড়ক পানিতে ডুবে যায়, আবার কোথাও ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগের পথ। এমন পরিস্থিতিতে শুটিং দ্রুত শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় সিনেমাটির টিম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে নেপালে কাটানো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।

জায়েদ-অধরার সঙ্গে যুক্ত হলেন শিরিন শিলা
বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন অপু ও তার টিম। এর মধ্যেই দেশটিতে ভয়াবহ হড়পা বান, বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর আসতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার বদলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় টিমটি।

অপু জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটে। কাকতালীয়ভাবে পরদিন, অর্থাৎ ২৭ আগস্ট, একই পথ দিয়ে তাদের যাওয়ার কথা ছিল। এক দিনের ব্যবধানে যাত্রা হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি নিয়ে অপু বলেন, “আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে, দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”

তবে, শুধু নিজেদের নিরাপত্তার বিষয় নয়, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথাও বিবেচনায় নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে তিনি সে সময় সমীচীন মনে করেননি।

কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অপু বলেন, “এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।”

নেপালে অপুর সঙ্গে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে ছিলেন পুরো ইউনিট। সিনেমায় তার পাশাপাশি অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও। নেপালের পরিস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। গতকাল (২৮ আগস্ট) কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে খরাজ ভক্তদের আশ্বস্ত করেন, তারা নিরাপদে ছিলেন। এর কয়েকট ঘণ্টা পর ঢাকায় ফিরে একই অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু।

শুটিং আপাতত থেমে গেলেও ‘শিকার’ ঘিরে তৈরি হওয়া এই অভিজ্ঞতা সিনেমাটির দলের জন্য নিছক শুটিং-স্মৃতি হয়ে থাকছে না। প্রকৃতির ভয়াবহতার সামনে কাজের পরিকল্পনার চেয়ে মানুষের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতাই যে বড় হয়ে উঠতে পারে, নেপালে সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে সিনেমাটির টিম।