নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় নগরীকে একটি আধুনিক সিটিতে রূপান্তর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকার চারপাশে যেসব নদী রয়েছে সেগুলোকে নৌ চলাচলের উপযোগী করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণকে দায়িত্বসচেতন হতে হবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বুড়িগঙ্গা নদীর সোয়ারীঘাটে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতেই বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজারের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গাকে রক্ষায় সিটি করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্জ্য রিসাইক্লিং করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। বর্জ্য রিসাইক্লিং করে কীভাবে আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি, সেটার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রাথমিক ধাপে যেতে পারবো।
তিনি বলেন, তখন বর্জ্য একটি সম্পদে রূপান্তরিত হবে। তখন আর বর্জ্য যেখানে-সেখানে পড়ে থাকবে না। একদিকে জনগণকে সচেতন করতে হবে, অন্যদিকে বর্জ্য রিসাইক্লিং করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদন করতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বুড়িগঙ্গা একসময় ঢাকার প্রাণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে নদীতে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ভাসছে। নদী ও পরিবেশ দূষণ রোধে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের বার্তা দিতেই ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা জানি, আজকের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। কিন্তু জনগণের কাছে একটি বার্তা যাবে—আমরা এটা করতে চাই এবং এটা আমাদের করা দরকার।
বুড়িগঙ্গাকে রক্ষায় নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর দুই পাড়ে যারা বসবাস করেন এবং যারা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বুড়িগঙ্গা যে পর্যায়ে এসেছে, এটিকে রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে নৌ চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার নদীগুলোকে ঘিরে আগের নৌ যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আবদুস সালাম বলেন, বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কার্যক্রমের আওতায় নদী ও নদীর তীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে। এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কামরাঙ্গীরচরে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য রিসাইক্লিং করে কীভাবে তা সম্পদে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ডাবের খোসা, এসির পানি, ছাদে জমে থাকা পানি কিংবা অন্য কোনও স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
বিরোধী দলের লংমার্চ বা রোডমার্চের মতো কর্মসূচি না করে সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সরকারের পাশে থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা উচিত।
আব্দুস সালাম বলেন, বিরোধী দলকে বলবো লংমার্চ না করে, রোডমার্চ না করে সরকারকে একটু সময় দেন। আপনারাও ধৈর্য ধরেন, দেশটা যাতে ভালো দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়। পাঁচ বছরের জন্য জনগণ রায় দিয়েছে, অপেক্ষা করেন। ছয় মাসও অতিক্রান্ত হয়নি, এখনই বলেন ‘পাই নাই, পাই নাই’ এভাবে তো হবে না।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের কাছে যাদুর চেরাগ নেই যে তিনি ঘষা দিলেই ছয় মাসে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। দুর্ভোগ না বাড়িয়ে, পুরাতন স্বৈরাচারকে ফিরে আসার পথ তৈরি না করে জনগণের পাশে থাকেন।
বিরোধী দলকে বর্জ্য পরিস্কারে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যদি দুই-চার জায়গায় আবর্জনা পরিস্কারে আমাদের সহযোগিতা করতেন, তাহলে আমরা খুশি হতাম। আসেন, আমাদের সঙ্গে বর্জ্য পরিস্কার করেন। আমরা এই বুড়িগঙ্গাটাকে পরিস্কার করার চেষ্টা করি। আর যদি সেটা না করেন, অন্তত ডিস্টার্ব না করে সরকারকে সহযোগিতা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হামিদুর রহমান বলেন, নদী ও নদীর পাড়ে পড়ে থাকা প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য ও নিত্যপণ্য দেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনার ধারণা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, নদীপাড়ের দরিদ্র মানুষদের সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখা প্রয়োজন। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহের স্থান ও অফিস স্থাপন করা হলে বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্যের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























