নিজস্ব প্রতিবেদক :
দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটিগুলোর পরিবহন সমস্যা সমাধান ও স্মার্ট যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নগর পরিবহনে এসব প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে যাত্রীসেবা উন্নত করা, যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীনের থোংচি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ট্রান্সপোর্টেশনের সহযোগী অধ্যাপক ড. চিয়াং লি সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারে নগর পরিবহনে এআই ও এলএলএমের ব্যবহার নিয়ে তার গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ ভাষা মডেলের ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব বিষয় উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে ড. চিয়াং লি ব্যাখ্যা করেন, কিভাবে সাধারণ এআই মডেলগুলোকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য বিশেষায়িত পেশাদারি মডেলে রূপান্তর করা হচ্ছে। নগর পরিবহনে এআইয়ের প্রয়োগকে তিনি চারটি প্রধান স্তরে ভাগ করেন।
এগুলো হলো- ডেটা এনহ্যান্সমেন্ট, নলেজ গ্রাফভিত্তিক নলেজ এনহ্যান্সমেন্ট, অ্যালগরিদমিক মডেল এনহ্যান্সমেন্ট এবং মাল্টি-এজেন্ট সহযোগিতার মাধ্যমে টাস্ক এনহ্যান্সমেন্ট।
তিনি চীনের সাংহাইয়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পরিচালিত কয়েকটি গবেষণা ও এর সফলতার উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে নাগরিকদের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দ্রুত বাস রুট সংস্কার, ‘সাংহাই পাবলিক ট্রানজিট নলেজ গ্রাফ’ ব্যবহার করে নীতিমালা-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ এবং ডোর-টু-ডোর স্মার্ট রুট পরিকল্পনার মতো উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শুল্ক ও এইচএস কোড শ্রেণিবিন্যাস, স্বল্প-কার্বন যাতায়াত পরিকল্পনা এবং বাস রুট পরিবর্তনের পর যাত্রীদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এআইয়ের মাধ্যমে সিমুলেশনের বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।
ড. চিয়াং লি বলেন, শুধু তাত্ত্বিক মডেল তৈরি করলেই হবে না; কার্যকর ও টেকসই স্মার্ট পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ওপেন-সোর্স স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















