জ্বালানির দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে কয়েকটি মার্কিন এয়ারলাইনস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

জেট জ্বালানির দাম বাড়ায় ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইনস। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, জ্বালানির বাড়তি খরচ সামলাতে তারা ফ্লাইট সূচি পর্যালোচনা করছেন এবং সক্ষমতা সমন্বয় করছেন। খবর ফক্স বিজনেসের।

আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট জ্বালানির গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠেছে।

মরগ্যান স্ট্যানলির ১৪তম বার্ষিক লাগুনা সম্মেলনে আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ডেভন মে বলেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট জ্বালানির দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের চেয়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হচ্ছে। এতে এয়ারলাইনটির জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যবসা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে গত চার সপ্তাহে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে চতুর্থ প্রান্তিকের শেষ দিকে জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্লাইট সক্ষমতা আরও সমন্বয় করবে আমেরিকান এয়ারলাইনস।

এদিকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট ইসম বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে চাহিদা এবং প্রিমিয়াম ও ইকোনমি শ্রেণির যাত্রী বুকিংয়ের শক্ত অবস্থানের কারণে এই প্রবৃদ্ধির আশা করছে এয়ারলাইনটি।

ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানান, জ্বালানির দাম বাড়ায় ডিসেম্বরের জন্য পরিকল্পনা করা কিছু ফ্লাইট আর পরিচালনা করা হবে না। জ্বালানির দাম বেশি থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক ও পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে ইউনাইটেডের চতুর্থ প্রান্তিকের বুকিংকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বলে উল্লেখ করেছেন লেস্কিনেন। প্রিমিয়াম ভ্রমণ, করপোরেট যাত্রা এবং ইকোনমি শ্রেণির বুকিংয়েও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা টম ডক্সি জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, বছরের ব্যবধানে তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানোই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হবে। তবে পরে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা খুবই সামান্য। ডক্সির বক্তব্যটি সম্ভাব্য সক্ষমতা কমানোর একটি উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, কোনো নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা হিসেবে নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরতের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী বুকিং সাউথওয়েস্টের বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করছে। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগের পূর্বাভাস বহাল রেখেছে।

আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মুখপাত্ররা ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গ্রামীণ ছোট সড়কে ইটের পরিবর্তে ইউনি ব্লক-সিসি ব্লক ব্যবহারের নির্দেশ

জ্বালানির দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে কয়েকটি মার্কিন এয়ারলাইনস

প্রকাশের সময় : ০১:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

জেট জ্বালানির দাম বাড়ায় ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইনস। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, জ্বালানির বাড়তি খরচ সামলাতে তারা ফ্লাইট সূচি পর্যালোচনা করছেন এবং সক্ষমতা সমন্বয় করছেন। খবর ফক্স বিজনেসের।

আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট জ্বালানির গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠেছে।

মরগ্যান স্ট্যানলির ১৪তম বার্ষিক লাগুনা সম্মেলনে আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ডেভন মে বলেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট জ্বালানির দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের চেয়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হচ্ছে। এতে এয়ারলাইনটির জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যবসা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে গত চার সপ্তাহে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে চতুর্থ প্রান্তিকের শেষ দিকে জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্লাইট সক্ষমতা আরও সমন্বয় করবে আমেরিকান এয়ারলাইনস।

এদিকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট ইসম বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে চাহিদা এবং প্রিমিয়াম ও ইকোনমি শ্রেণির যাত্রী বুকিংয়ের শক্ত অবস্থানের কারণে এই প্রবৃদ্ধির আশা করছে এয়ারলাইনটি।

ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানান, জ্বালানির দাম বাড়ায় ডিসেম্বরের জন্য পরিকল্পনা করা কিছু ফ্লাইট আর পরিচালনা করা হবে না। জ্বালানির দাম বেশি থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক ও পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে ইউনাইটেডের চতুর্থ প্রান্তিকের বুকিংকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বলে উল্লেখ করেছেন লেস্কিনেন। প্রিমিয়াম ভ্রমণ, করপোরেট যাত্রা এবং ইকোনমি শ্রেণির বুকিংয়েও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা টম ডক্সি জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, বছরের ব্যবধানে তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানোই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হবে। তবে পরে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা খুবই সামান্য। ডক্সির বক্তব্যটি সম্ভাব্য সক্ষমতা কমানোর একটি উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, কোনো নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা হিসেবে নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরতের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী বুকিং সাউথওয়েস্টের বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করছে। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগের পূর্বাভাস বহাল রেখেছে।

আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মুখপাত্ররা ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই।