জন্মদিনে জয়া আহসানকে নিয়ে যা বললেন চঞ্চল

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১৮৪ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

তার অভিনয়ের দ্যুতিতে মিশে যায় কাঁটাতার। একাকার হয়ে যায় বাংলাদেশ-ভারত। দুই দেশের মানুষ বুঁদ হয়ে থাকেন তার অভিনয়ে। তিনি জয়া আহসান। গুণী এ অভিনেত্রীর জন্মদিন বুধবার (১ জুলাই)। বিশেষ দিনে ভক্তদের শুভেচ্ছা যেমন পাচ্ছেন, তেমনি তাকে ভালোবাসা জানাচ্ছেন কাছের মানুষেরাও।

জয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন আরেক দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তাতে দেখা গেল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন বন্ধু। তুমি আমাদের গর্ব। তুমি জয়া আহসান একজনই।’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন কালো রঙের হার্ট ইমোজি। চঞ্চলের ওই পোস্টে অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন আরো অনেকে।

গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া জয়া আহসানের বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ এবং মা রেহানা মাসউদ ছিলেন একজন শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান ও চিত্রাঙ্কনের প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। অভিনয়ে আসার আগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি একটি সংগীত স্কুলও পরিচালনা করেন।ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৮ সালে মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল আহসানকে বিয়ে করেছিলেন জয়া। ২০১১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই কখনোই তার পেশাদার জীবনের পথচলাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে আরও পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হলেও, ‘গেরিলা’ সিনেমাতে বিলকিস বানু চরিত্রে অভিনয় তাকে এনে দেয় ব্যাপক প্রশংসা ও জাতীয় স্বীকৃতি। ২০১৩ সালে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পান জয়া আহসান। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। এনেছি সূর্যের হাসি ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর জাতিসংঘের নারী ও শিশু সহায়তা বিভাগের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা, চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার অসাধারণ ক্ষমতা এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিরন্তর ভেঙে গড়ার মানসিকতার কারণেই জয়া আহসান শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন; তিনি দুই বাংলার চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। অভিনয়জীবনে তিনি পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। জনপ্রিয়তা, সাফল্য ও শিল্পসত্তার অনন্য সমন্বয়ে জয়া আহসান আজও সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছেন দর্শকদের।

ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান, ও ছবি আঁকায় হাতেখড়ি। বড় হয়ে আসেন অভিনয়ে। তিনি ‘ডুবসাঁতার’, ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রি’, ‘খাঁচা’, ‘দেবী’, ‘বিউটি সার্কাস’সহ অনেক ছবিতে দেখা গেছে তাকে। আর ভারতে তিনি মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন ‘বিসর্জন’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘বিজয়া’, ‘বিনিসুতোয়’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘দশম অবতার’, ‘কড়ক সিং’-এর মতো ছবিতে।

দেশে অভিনয়ের জন্য পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন জয়া। এছাড়া নয়বার পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার। ভারতেও তাক লাগিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনবার জিতেছেন ফিল্মফেয়ার (বাংলা) পুরস্কারও।

জয়া বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে তার নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র প্রচারে। কৌশিক গাঙ্গুলির ছবিটি মুক্তি পাবে ১০ জুলাই। এতে জয়ার সঙ্গে আছেন কৌশিক সেন ও চূর্ণী গাঙ্গুলির মতো তুখোড় অভিনয়শিল্পীরা।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

জন্মদিনে জয়া আহসানকে নিয়ে যা বললেন চঞ্চল

প্রকাশের সময় : ০৬:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

তার অভিনয়ের দ্যুতিতে মিশে যায় কাঁটাতার। একাকার হয়ে যায় বাংলাদেশ-ভারত। দুই দেশের মানুষ বুঁদ হয়ে থাকেন তার অভিনয়ে। তিনি জয়া আহসান। গুণী এ অভিনেত্রীর জন্মদিন বুধবার (১ জুলাই)। বিশেষ দিনে ভক্তদের শুভেচ্ছা যেমন পাচ্ছেন, তেমনি তাকে ভালোবাসা জানাচ্ছেন কাছের মানুষেরাও।

জয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন আরেক দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তাতে দেখা গেল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন বন্ধু। তুমি আমাদের গর্ব। তুমি জয়া আহসান একজনই।’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন কালো রঙের হার্ট ইমোজি। চঞ্চলের ওই পোস্টে অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন আরো অনেকে।

গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া জয়া আহসানের বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ এবং মা রেহানা মাসউদ ছিলেন একজন শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান ও চিত্রাঙ্কনের প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। অভিনয়ে আসার আগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি একটি সংগীত স্কুলও পরিচালনা করেন।ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৮ সালে মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল আহসানকে বিয়ে করেছিলেন জয়া। ২০১১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই কখনোই তার পেশাদার জীবনের পথচলাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে আরও পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হলেও, ‘গেরিলা’ সিনেমাতে বিলকিস বানু চরিত্রে অভিনয় তাকে এনে দেয় ব্যাপক প্রশংসা ও জাতীয় স্বীকৃতি। ২০১৩ সালে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পান জয়া আহসান। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। এনেছি সূর্যের হাসি ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর জাতিসংঘের নারী ও শিশু সহায়তা বিভাগের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা, চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার অসাধারণ ক্ষমতা এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিরন্তর ভেঙে গড়ার মানসিকতার কারণেই জয়া আহসান শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন; তিনি দুই বাংলার চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। অভিনয়জীবনে তিনি পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। জনপ্রিয়তা, সাফল্য ও শিল্পসত্তার অনন্য সমন্বয়ে জয়া আহসান আজও সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছেন দর্শকদের।

ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান, ও ছবি আঁকায় হাতেখড়ি। বড় হয়ে আসেন অভিনয়ে। তিনি ‘ডুবসাঁতার’, ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রি’, ‘খাঁচা’, ‘দেবী’, ‘বিউটি সার্কাস’সহ অনেক ছবিতে দেখা গেছে তাকে। আর ভারতে তিনি মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন ‘বিসর্জন’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘বিজয়া’, ‘বিনিসুতোয়’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘দশম অবতার’, ‘কড়ক সিং’-এর মতো ছবিতে।

দেশে অভিনয়ের জন্য পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন জয়া। এছাড়া নয়বার পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার। ভারতেও তাক লাগিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনবার জিতেছেন ফিল্মফেয়ার (বাংলা) পুরস্কারও।

জয়া বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে তার নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র প্রচারে। কৌশিক গাঙ্গুলির ছবিটি মুক্তি পাবে ১০ জুলাই। এতে জয়ার সঙ্গে আছেন কৌশিক সেন ও চূর্ণী গাঙ্গুলির মতো তুখোড় অভিনয়শিল্পীরা।