চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলায় মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচ আসামির পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ’র আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত মো.মুসার ছেলে। বাকী চারজন হলেন- মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ, মোহাম্মদ শামীম, মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন ও আল ইসলাম আলিফ।
এর আগে হত্যা ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুটি মামলার প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যা ও সম্প্রতি গ্রেফতারে পর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় আসামি ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এই দুই মামলায় আদালত শুনানি শেষে ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমন ছাড়াও আরও চার জন সহযোগী রয়েছেন। আদালত তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
এর ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) ও মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 





















