রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
রোববার (২ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ১৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনা কাটিয়ে নতুন বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করা এসব কর্মকর্তাকে চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ যেন সেবা নিতে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেড় যুগ আগে একটি অবৈধ সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে রাষ্ট্রের রূপান্তরে পুলিশ এই ব্যাচটি চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার আমলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশবাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমানে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হতে হবে পুলিশ কর্মকর্তাদের।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছেন। এ অবস্থায় চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।
ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন কর্মকর্তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে তিনি পুরস্কার তুলে দেন।
২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস-পুলিশ ব্যাচের ৪ জন নারী, ৫৩ জন পুরুষ ও ২৮তম ব্যাচের ১ জন কর্মকর্তা কুচকাওয়াজে অংশ নেন। ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রায় দেড় যুগ নিয়োগবঞ্চিত ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা নিয়োগের সুপারিশ পান
রাজশাহীর সারদায় তাদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সংক্ষিপ্ত করে ছয় মাসে সম্পন্ন করা হয়েছে। ৫৬ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে এরই মধ্যে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী দুই বছরে দুই ধাপে প্রশিক্ষণের অবশিষ্ট ৬ মাস সম্পন্ন হবে। মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিলেও তাদের মূল পদায়ন ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বহাল থাকবে।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের আইজিপি, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’- দুই ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন।
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি 

















