পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পটুয়াখালীতে গণপরিবহনসহ সড়কপথে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিদিন এই টার্মিনাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসহ বরিশাল, বরগুনা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনাল এলাকায় পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দের। ফলে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দশক আগে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর পটুয়াখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই টার্মিনাল নির্মাণ করে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে পৌরসভাই এটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পরই বাস টার্মিনালটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বর্তমানে এই টার্মিনাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ৭টি রুটের ১৫০টি বাস এবং বরিশাল-বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন আন্তজেলার আরও দেড় শতাধিক বাস চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা পোর্টকে কেন্দ্র করে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও টার্মিনালের আধুনিকায়ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অল্প বৃষ্টিতেই বাস টার্মিনালের ভেতরে পানি জমে থাকছে। মহাসড়কের পাশে অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো জমে থাকা কাদাপানির মধ্যেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে নোংরা পানির ভেতর দিয়েই বাসে ওঠানামা করছেন। এতে বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঢাকা ফেরত যাত্রী কবির মুন্সি বলেন, পরিবার নিয়ে বাড়ি আসছিলাম। এখন আবার ঢাকা ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডের যে অবস্থা, পরিবার নিয়ে গাড়িতে ওঠাই দায়। সম্পূর্ণ বাসস্ট্যান্ড বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে।
কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক আল আমিন বলেন, বাসস্ট্যান্ডে বর্তমানে বৃষ্টির পানি আর কাদা জমে একাকার। আমাদের ওঠানামা করতে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, এখানে যেন দ্রুত একটি সুন্দর ও আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়।
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক মো. জুয়েল রানা বলেন, প্রতি বছরই আমরা বাস টার্মিনালের খানাখন্দগুলো মেরামতের জন্য কাজ করি। তবে পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
এদিকে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, পৌরসভাকে আমরা জমি অধিগ্রহণ করতে বলেছি। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়ে গেলেই আমরা এখানে একটি সুন্দর ও আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শুরু করব।
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি 




















