নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমাদের সরকার প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি। বিশেষ করে এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আমরা আগ্রহী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তাদের বলতে চাই, দেশের ক্রাইসিসকে বাড়িয়ে দিয়ে আপনারা কিছু হাসিল করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, অতীতের সরকার উন্নয়নের নাম দিয়ে ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে দেখলাম, কোথায় পয়সা বানানো যাবে, সেখানে উন্নয়ন হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এখন একটা এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল) বন্ধ হয়েছে আর সারাদেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার লেগে গেছে। গ্যাস সংকট নিয়ে আমরা শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসবো। আমাদের দেশের শিল্পমালিকরা যেন বিপদে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।
তিনি বলেন, আমাদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে আগাতে হবে। কেননা এগুলো করার কারণে অনেক ফাইন্যান্স বন্ধ হয়ে গেছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সোলারের ব্যাপারে আমরা অ্যাগ্রেসিভ। এটাকে বিজনেস অরিয়েন্টেড করার জন্য আমরা কাজ করেছি। দুই মাসের মধ্যে আমরা পলিসি তৈরি করেছি। আমরা যা পলিসিতে বলেছি, ওটাই বাস্তবায়ন হবে। ওপেক্স মডেলে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে সারাদেশে সোলার ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দরপত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আমি ওখানে গিয়ে দেশটির কোম্পানিগুলোকে দরপত্রে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাব।
তেলের ব্যবসা বেসরকারি খাতে দেয়ার প্রস্তাবও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছিলেন বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বলা হচ্ছে, এটি নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির জন্য করা হচ্ছে। কিন্তু আইন তৈরি হলে তা কোনো একটি কোম্পানির জন্য হবে না, সব কোম্পানির জন্যই প্রযোজ্য হবে।
বেসরকারি খাতে তেলের ব্যবসা দেয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও অভিযোগেরও সমালোচনা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে বলা হচ্ছে, ২ লাখ কোটি টাকা নাকি তার পকেটে ঢুকছে। এ টাকা গুনতে কত সময় লাগবে; এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এনার্জি প্রবলেম হয়ে গেছে, শক্তির ক্রাইসিস হয়ে গেছে, সারা দেশে হাহাকার লেগে গেছে।’
বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে একটি বয়লার চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি চালু হলে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তবে এটি কখন চালু করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি।
শিল্প উদ্যোক্তাদের সংকট কমাতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। শিল্প খাতের বর্তমান সংকট ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে উদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেবেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টদের আজকে যে আমাদের ক্রাইসিস আছে, আমাদের যে বুদ্ধিজীবীরা আছেন, বিশেষজ্ঞরা যারা আছেন—তাদের নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর মিটিং করা প্রয়োজন।’
তিনি আরও জানান, শিল্পখাতের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংক্রান্ত প্রস্তাবনা তৈরির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্প উদ্যোক্তাদের দেওয়া উপস্থাপনাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
দেশের শিল্পায়নের প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার বেসরকারি বিনিয়োগ নীতির কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় বেসরকারি বিনিয়োগের সীমা বাড়ানোর মাধ্যমে শিল্পায়নের যাত্রাকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং ব্যাংকগুলোকে শিল্প খাতে অর্থায়নে উৎসাহিত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের শিল্পখাত আজকের অবস্থানে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজের বিষয়ে আলোচনা করছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইছেন।
‘আমরা যারা মন্ত্রী আছি, আমরা কিন্তু এখন আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে গেছি। উনি ডাকলে আমাদেরকে নোটসপত্র নিয়ে যেতে হয়, ফাইন্ডিংস—কোন প্রশ্নটা করে!’—বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শিল্প উদ্যোক্তাদের সংকট কমানোর বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এ কারণে শিল্প ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সরেজমিনে দেখতে এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজতে মাতারবাড়ীতে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের যতটা সম্ভব কম বিপদের মধ্যে রেখে শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















