ই-রিকশা চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ই-রিকশা নিয়ে ঢাকায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ বাস্তবতাকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নেতৃত্ব দেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ই-রিকশার যান্ত্রিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্সিং, যানবাহনের নিবন্ধন এবং কোন কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে এসব বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, এটা একটা বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতাটাকে আমরা একটা নীতিমালার মধ্যে আসলে আনব। নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা হলে বর্তমানে ই-রিকশা চলাচল নিয়ে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আর থাকবে না।

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটা বিস্তারিত ডেটা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। লোডশেডিং নিয়ে এটুকু বলি, জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড।

তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি বড় শহরে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে এই জন্য না যে এখানে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে, এটা এই জন্য যে বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু যেহেতু এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।

তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের আমি সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটাটা নিয়ে আমি কাজ করছি। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে।

তার দাবি, ওই সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছি। আমরা আশা করি জনগণ এটা বুঝবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল।

চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে এবং সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটা আমাদের সবাইকে কমবেশি সেটার কষ্টটা নিতে হবে। এই কষ্টটা যে খুব দীর্ঘ সময় হবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

দেশে সার সংকট নেই বলে আবারও দাবি করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের সরবরাহে কোনো সংকট নেই, বিতরণ পর্যায়ে দু-একটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার সমাধান করেছে।

তিনি বলেন, আমি আবারও বলি, সংকট নেই। আমি গত ব্রিফিংয়েও বলেছি। বিতরণ পর্যায়ে দু-একটা জায়গায়, খুব বেশি জায়গায় না, সমস্যা হয়েছিল।

সারের বর্তমান মজুতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সার মজুত সমান বা কিছুটা বেশি রয়েছে।

‘মজুতের সংকট না, বিতরণ পর্যায়ে দুই-একটা জায়গায় একটু সমস্যা হয়েছিল, সেটা আশা করি ঠিক হয়ে যাবে’- বলেন তিনি।

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কাজ করবে।

বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি ‘রিয়েল প্রবলেম’। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ডের আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাবি থাকা দশম ওয়েজ বোর্ডও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই বাস্তবায়ন…, আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না।

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবো এবং আমি এটা একেবারেই একমত নীতিগতভাবে। আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার কথাও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয় ও ভালো বলা যায়। কিন্তু দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কে ছিল এবং তা ডাবল ডিজিট অতিক্রম করেছে। বর্তমানে অবশ্য কিছুটা কমেছে।

নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

তিনি বলেন, নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ার বিষয়টি দেখে মনে হতে পারে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সেরকম নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে এ নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে এবং প্রায় নিখুঁত একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

৪০ লাখ পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সহায়তার আওতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই কোটি মানুষের কাছে প্রতি মাসে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শিগগির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দরজা খুলছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের ব্যয় বহন করতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী এই উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে শিগগির নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ কর্মীদের কোনো ব্যয় বহন করতে হবে না।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি দূর করার কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকার কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে তিনি বলেন, আগের তালিকায় থাকা ৪৩টি এজেন্সির মধ্য থেকে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে সরকারের অনুরোধের পর মালয়েশিয়া সরকার এ ক্ষেত্রে আরও বড় সুযোগ দিয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু ২৫টি এজেন্সিই কর্মী পাঠাতে পারবে এমন ধারণা সঠিক নয়। নতুন করে আরও ৩১২টি এজেন্সি যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পরিসর অনেক বাড়বে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে নানা অভিযোগ ও অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। আগের সরকারের সময়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি ৩১২টি অ্যাসোসিয়েট এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকারের দর-কষাকষির (বার্গেইনিং) একটি বড় অর্জন। এর ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরে এমন জিডির সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৮৭৬টি

তবে প্রতিটি জিডির অর্থ শিশু আর ফিরে আসেনি এমন নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে ফিরে আসে। ঠিক কত শিশু আর ফিরে আসেনি, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা হিসাব করতে পারি এর বিরাট একটা অংশ ফেরত আসে। কোনো কোনো পত্রিকা পরে ফলোআপ রিপোর্ট করেছে এবং আসলে এটা মিডিয়ার কাজ।

প্রাপ্তবয়স্ক নিখোঁজের জিডির সংখ্যাও তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাত মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ১৩ হাজার ৫৮০ জনের বিষয়ে জিডি হয়েছে। আগের সাত মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৩ জন। অর্থাৎ দুই সময়ের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়, তবে এটিকে বাংলাদেশের একেবারে নতুন সংকট হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

‘শিল্প কোনো পাপ নয়’—শিল্পীর মর্যাদা নিয়ে সোচ্চার প্রভা

ই-রিকশা চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০১:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ই-রিকশা নিয়ে ঢাকায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ বাস্তবতাকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নেতৃত্ব দেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ই-রিকশার যান্ত্রিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্সিং, যানবাহনের নিবন্ধন এবং কোন কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে এসব বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, এটা একটা বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতাটাকে আমরা একটা নীতিমালার মধ্যে আসলে আনব। নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা হলে বর্তমানে ই-রিকশা চলাচল নিয়ে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আর থাকবে না।

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটা বিস্তারিত ডেটা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। লোডশেডিং নিয়ে এটুকু বলি, জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড।

তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি বড় শহরে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে এই জন্য না যে এখানে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে, এটা এই জন্য যে বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু যেহেতু এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।

তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের আমি সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটাটা নিয়ে আমি কাজ করছি। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে।

তার দাবি, ওই সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছি। আমরা আশা করি জনগণ এটা বুঝবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল।

চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে এবং সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটা আমাদের সবাইকে কমবেশি সেটার কষ্টটা নিতে হবে। এই কষ্টটা যে খুব দীর্ঘ সময় হবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

দেশে সার সংকট নেই বলে আবারও দাবি করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের সরবরাহে কোনো সংকট নেই, বিতরণ পর্যায়ে দু-একটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার সমাধান করেছে।

তিনি বলেন, আমি আবারও বলি, সংকট নেই। আমি গত ব্রিফিংয়েও বলেছি। বিতরণ পর্যায়ে দু-একটা জায়গায়, খুব বেশি জায়গায় না, সমস্যা হয়েছিল।

সারের বর্তমান মজুতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সার মজুত সমান বা কিছুটা বেশি রয়েছে।

‘মজুতের সংকট না, বিতরণ পর্যায়ে দুই-একটা জায়গায় একটু সমস্যা হয়েছিল, সেটা আশা করি ঠিক হয়ে যাবে’- বলেন তিনি।

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কাজ করবে।

বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি ‘রিয়েল প্রবলেম’। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ডের আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাবি থাকা দশম ওয়েজ বোর্ডও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই বাস্তবায়ন…, আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না।

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবো এবং আমি এটা একেবারেই একমত নীতিগতভাবে। আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার কথাও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয় ও ভালো বলা যায়। কিন্তু দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কে ছিল এবং তা ডাবল ডিজিট অতিক্রম করেছে। বর্তমানে অবশ্য কিছুটা কমেছে।

নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

তিনি বলেন, নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ার বিষয়টি দেখে মনে হতে পারে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সেরকম নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে এ নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে এবং প্রায় নিখুঁত একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

৪০ লাখ পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সহায়তার আওতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই কোটি মানুষের কাছে প্রতি মাসে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শিগগির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দরজা খুলছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের ব্যয় বহন করতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী এই উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে শিগগির নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ কর্মীদের কোনো ব্যয় বহন করতে হবে না।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি দূর করার কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকার কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে তিনি বলেন, আগের তালিকায় থাকা ৪৩টি এজেন্সির মধ্য থেকে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে সরকারের অনুরোধের পর মালয়েশিয়া সরকার এ ক্ষেত্রে আরও বড় সুযোগ দিয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু ২৫টি এজেন্সিই কর্মী পাঠাতে পারবে এমন ধারণা সঠিক নয়। নতুন করে আরও ৩১২টি এজেন্সি যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পরিসর অনেক বাড়বে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে নানা অভিযোগ ও অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। আগের সরকারের সময়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি ৩১২টি অ্যাসোসিয়েট এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকারের দর-কষাকষির (বার্গেইনিং) একটি বড় অর্জন। এর ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরে এমন জিডির সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৮৭৬টি

তবে প্রতিটি জিডির অর্থ শিশু আর ফিরে আসেনি এমন নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে ফিরে আসে। ঠিক কত শিশু আর ফিরে আসেনি, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা হিসাব করতে পারি এর বিরাট একটা অংশ ফেরত আসে। কোনো কোনো পত্রিকা পরে ফলোআপ রিপোর্ট করেছে এবং আসলে এটা মিডিয়ার কাজ।

প্রাপ্তবয়স্ক নিখোঁজের জিডির সংখ্যাও তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাত মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ১৩ হাজার ৫৮০ জনের বিষয়ে জিডি হয়েছে। আগের সাত মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৩ জন। অর্থাৎ দুই সময়ের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়, তবে এটিকে বাংলাদেশের একেবারে নতুন সংকট হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।