Dhaka রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশের টেকসই পরিবেশগত উন্নয়ন নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন সম্ভব করতে নিজেদের অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়া হাসান।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি কনক্লেভ-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের দাবিই প্রমাণ করে পরিবেশের সুরক্ষা কতটা জরুরি। সাদা পাথর লুটের ঘটনা এর একটি বড় উদাহরণ। একইভাবে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার কমাতে হবে, পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং উন্নয়নের নামে পাহাড় ও বনভূমির অযাচিত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং অতিরিক্ত ভোগ কমাতে হবে। আমরা আমাদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করব।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য, নিরাপদ বায়ু ও নিরাপদ পানির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সুজলা-সুফলা, নিরাপদ ও সবুজ শস্য শ্যামল দেশে রূপান্তর করতে হবে। এজন্য, আমাদের অবশ্যই সাসটেইনেবিলিটির দিকে অগ্রসর হতে হবে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কাছে ট্যাক্স প্রণোদনার প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো উৎসাহিত হয়। আমাদের কাছে অনেক নীতি আছে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্যকর বাস্তবায়ন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, হাতিলের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের হেড অব ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া মো. শরীফুল ইসলাম এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়ন কেবল নীতি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্ব। নাগরিক, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংস্কার না হলে নুরের পরিণতি আমাদের জন্যও অপেক্ষা করছে : হাসনাত আবদুল্লাহ

পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশের টেকসই পরিবেশগত উন্নয়ন নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন সম্ভব করতে নিজেদের অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়া হাসান।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি কনক্লেভ-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের দাবিই প্রমাণ করে পরিবেশের সুরক্ষা কতটা জরুরি। সাদা পাথর লুটের ঘটনা এর একটি বড় উদাহরণ। একইভাবে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার কমাতে হবে, পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং উন্নয়নের নামে পাহাড় ও বনভূমির অযাচিত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং অতিরিক্ত ভোগ কমাতে হবে। আমরা আমাদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করব।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য, নিরাপদ বায়ু ও নিরাপদ পানির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সুজলা-সুফলা, নিরাপদ ও সবুজ শস্য শ্যামল দেশে রূপান্তর করতে হবে। এজন্য, আমাদের অবশ্যই সাসটেইনেবিলিটির দিকে অগ্রসর হতে হবে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কাছে ট্যাক্স প্রণোদনার প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো উৎসাহিত হয়। আমাদের কাছে অনেক নীতি আছে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্যকর বাস্তবায়ন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, হাতিলের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের হেড অব ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া মো. শরীফুল ইসলাম এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়ন কেবল নীতি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্ব। নাগরিক, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।