গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে, এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। তারা পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে এখানে আসিনি। আমরা এসেছি আপনাদের দাবি আদায়ের জন্য। আপনারা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছিলেন কিন্তু সরকার সেটি বাস্তবায়ন না করে অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে আমরা এসেছি।
জামায়াত আমির বলেন, আজকের লংমার্চ সব জায়গায় চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে, দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে।
তিনি বলেন, সরকারকে আমরা বলছি, আজ আমরা ৮ দফা দাবি নিয়ে নেমেছি। জনগণের প্রয়োজনে এই ৮ দফা যে কোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।
জামায়াত আমির বলেন, সকাল ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি বিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, ইন্ডাস্ট্রির চাকা ঘোরানোর দাবিতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, টেম্পু স্ট্যান্ডে সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের লংমার্চ আধিপাত্যিবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তোরণের দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ।
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, এগুলো আপনাদের দাবি কি না। আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনও দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পানির সংকটে থাকা মানুষের দুর্ভোগ দূর করার দাবিতে এই কর্মসূচি। পাশাপাশি রাস্তা, ঘাট, হাট-বাজার ও টেম্পু স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ, দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিও তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। তিনি জানান, এসব দাবি সাধারণ মানুষের দাবি বলেই তারা মাঠে নেমেছেন। তিনি জনগণকে কর্মসূচির সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।
সভায় এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তরজনপদে লংমার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পথসভায় গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীরা।
এর আগে, এ দিন সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। লংমার্চ যাত্রা শুরুর আগে উদ্বোধনী সমাবেশে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।
উদ্বোধনী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
উত্তরবঙ্গমুখী লংমার্চে আঞ্চলিক একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এ ছাড়া গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি 



















