পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি :
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শক্তিশালী না হলে আবারও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের পথ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির উত্তারাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুরে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস বলেন, আমাদের এই সংগঠন যেকোনো মূল্যে গড়ে তুলতে হবে। এনসিপি যদি আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি হিসেবে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের পথ তৈরি হবে। সেই পথ এনসিপি তৈরি হতে দিতে পারে না। আর সেটা যদি হয়, তাহলে মানুষকে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ লাগবে তাদের, যারা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তখন তারা ভাববে এত কষ্টের পর আবার ফ্যাসিবাদী চরিত্র দেখা যায়, স্বজনপ্রীতি দেখা যায়, চাঁদাবাজি দেখা যায়। মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য চাঁদা দিতে হয়, আর কেউ প্রতিবাদ করলে চোখ তুলে নেয়। তাহলে মানুষ এই দেশের প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি এবং রাজনীতির প্রতি আর আস্থা রাখবে না।
সারজিস বলেন, আমরা বাংলাদেশে একটা কঠিন সময় পার করছি। অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছিল। তারা অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অন্তর্র্বতী সরকারের যে অবস্থা ছিল, বিএনপির এই ছয় মাসে নেতৃত্বের জায়গায়, সুশাসনের জায়গায় তার চেয়ে বেশি অদক্ষতা দেখা যাচ্ছে। তার চেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজি দেখা দিচ্ছে।’
সারজিস বলেন, ‘আমরা সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা করতে চাই না। কিন্তু যে ভাই বিএনপি করেন এবং ১৭ বছরের জুলুমের শিকার হয়েছেন, সেই ত্যাগী নেতাকর্মী তার বিবেকবোধ থেকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও জানেন—বাংলাদেশের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশার জায়গা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।’
সারজিস আলম আরো বলেন, বিএনপির আমাদেরকে শেখাতে হবে না আমরা কিভাবে কর্মসূচি করবো। তারা বলছে এটা লং মার্চ না, রোড মার্চ। আবার কেউ কেউ বলছে লং ড্রাইভ। আমাদের এটা যদি লং ড্রাইভ হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া যেটা করেছিলেন, সেটাও লং ড্রাইভ। আর বেগম খালেদা জিয়ারটা যদি লং মার্চ হয়, তাহলে আমাদেরটাও লং মার্চ।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ ছিলেন। আপনারা যখন মার্চ টু ডেমোক্রেসির ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন শুধুমাত্র একটি বালুর ট্রাক দিয়ে আপনাদের পুরো লং মার্চকে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। আপনারা বালুর ট্রাকও সরাতে পারেন নাই। তাহলে সেই ব্যর্থ বিরোধী দলের নসিহত নিয়ে আমাদের বিরোধী দলের কার্যক্রম ঠিক করতে হবে না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আমরা জাতীয় পার্টির মতো পোষা বিরোধী দল হবো না, বিএনপি যেন সেই স্বপ্ন না দেখে। আমরা আমাদের কর্মসূচি নিজেরা ঠিক করব। যদি বিএনপি মনে করে তারা তাদের জায়গা থেকে আমাদের প্রতিরোধ করবে, তাহলে আমরা মনে করি এটার ফলাফল কখনও ভালো হবে না।
বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করায় সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেলে নিয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তারেক রহমান এই যে বাক্স্বাধীনতার কথা বলে, এগুলো মিথ্যা আর প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। তাহলে কি আমরা মনে করব, জনাব তারেক রহমানের মুখের কথা এক আর মনের ভিতরের কথা আর এক— এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এদিকে, সিফাত নামের ওই তরুণের সমালোচনার ভাষা এনসিপি সমর্থন করে না জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, সিফাত নামের ছেলেটা যে গালি দিয়েছে, সেই গালিকে আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে মামলাটা দেওয়া হয়েছে, এটা তো মিথ্যা মামলা, সন্ত্রাসবিরোধী মামলা, এক বছর আগের মামলা।
এনসিপির পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এবং সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্নার সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার। আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব শামীম হামিদী, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও পিরোজপুর জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফাহাদ সিকদার প্রমুখ।
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি 
























