নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত ৩৫ বছরে দেশে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জনের প্রাণ গেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮০৭ জন। একই সময়ে নৌযানের বিরুদ্ধে ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, গত ৩৫ বছরে নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলার মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়। এটি কোনো সাময়িক কাজ নয়, বরং সারা বছরব্যাপী চলমান একটি প্রক্রিয়া বলে।
চট্টগ্রাম বন্দরে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং করার পরিকল্পনা ও সময়সীমা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নদীর পলি জমার কারণে নাব্যতা যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে ড্রেজিং একটি নিরবচ্ছিন্ন কাজ। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং পরিচালনা করা হয়।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত এলাকায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে ওই এলাকায় নদীর গভীরতা ৮ মিটারে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসন ও নৌপথকে জনপ্রিয় করতে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে (রিং ওয়াটার ওয়েজ) পুনরায় ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালিত হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ১০ বছর ধরে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু ছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতে গত ১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা অর্থাৎ প্রতিবছর প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো লোকসান হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ এসব সমস্যা চিহ্নিত করেছে। দ্রুতই অবাধ যাতায়াতের জন্য ওয়াটার বাস নামানো হবে।
বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণের কারণ হিসেবে ৪২৪টি স্পট (কেমিক্যাল, লিকুইড ও সলিড বর্জ্য) চিহ্নিত করা হয়েছে।
নদী দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শিল্পবর্জ্য নদীতে পড়া ঠেকাতে পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এদিকে দেশের নদীপথগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার অভিযোগ খারিজ করে মন্ত্রী সংসদকে নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে এবং আরও ১২০০ কিলোমিটার নদীতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে ১২ মিটার ড্রাফট নিশ্চিত রাখা হয়েছে, যা পরে ১৬ মিটারে উন্নীত করা হবে। এছাড়া গোমতী নদী হয়ে ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত যৌথ উদ্যোগে নৌ-বন্দর স্থাপনের বিষয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন চৌধুরীর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নদী দখল ও উচ্ছেদ অভিযানের জটিলতা প্রসঙ্গে মহিলা আসন-৩৯ এর সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিআইডব্লিউটিএ সরাসরি কোনো অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করার আইনি ক্ষমতা রাখে না। তাদের কাজ নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলদারদের তালিকা তৈরি করা। চূড়ান্ত উচ্ছেদের জন্য পুরোপুরি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসনের লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে কিছুটা গতিহীনতা তৈরি হলেও সরকার এটি নিরসনে আরও গুরুত্ব প্রদান করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















