বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগিতে (ক্যান্টিন) এক নারী যাত্রীকে (৪৪) ধর্ষণের ঘটনায় ট্রেনে কর্তব্যরত সান্তাহার রেলওয়ে থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় রেলের ঈশ্বরদী সার্কেলের এএসপিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- সান্তাহার রেলওয়ে থানার কনস্টেবল খোকন ইসলাম, ফজলে রাব্বী, গোলাম মোস্তফা ও আশিকুল রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, ৩১ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন চলন্ত অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় তার করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্য তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে ধর্ষণ করেন ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক।
তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আবু বক্কর সিদ্দিক। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা আমলি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে চলন্ত ট্রেনের ক্যানটিনে শারীরিক সম্পর্ক হয়। তবে সেটি ধর্ষণ নয়। দুজনের সমঝোতার ভিত্তিতেই তা হয়।
জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালত আবু বক্কর সিদ্দিককে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল টেস্টের পর ওই নারীকে তার ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস ছেড়ে আসার পর তিনি ক্যানটিনে এসে দেখেন ওই নারী বসে আছেন। তখন তিনি সেখানে ঘুমানোর জন্য ওই নারীকে অন্য কোথাও যেতে বলেন। উত্তরে ওই নারী জানান, তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাবেন।
এরপর বিছানা পেতে আবু বক্কর সিদ্দিক ঘুমানোর সময় বুঝতে পারেন কেউ তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছেন। এরপর উভয়ের সম্মতিতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এসময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এরপর ওই নারী বিছানা থেকে উঠে বসেন এবং তার ছেলেসহ কয়েকটি জায়গায় কল করেন। ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করলে পার্বতীপুর রেলওয়ে পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দিকসহ ওই নারীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে গ্রেফতার আসামি আবু বক্কর সিদ্দিককে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী দাসের আদালতে হাজির করেন। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া ডাক্তারি পরীক্ষার পর ওই নারীকে তার ছেলের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন বলেন, বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের এসপির নির্দেশে ঘটনার দিন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে কর্তব্যরত চার কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করতে রেলের ঈশ্বরদী সার্কেলের এএসপিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি 




















