Dhaka শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপান সফর শেষে যা বললেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৯ মে) সকালে সাত দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির জাপান থেকে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা আতাউর রহমান সরকার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকবো না। আমরা আওয়াজ তুলবো, প্রতিবাদ করবো, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি। আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, আমি আসলে ভাই বাস্তব দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার মানুষ। আমি এখানে (বিমানবন্দরে) নেমেই নিয়ত করেছি, সম্ভব হলে আজকে ঢুকবো, না হলে কালকে ঢুকবো। আমি যাবো পাইকারি বাজারে, আমি যাবো খুচরা বাজারে। আমি যাবো যেখান থেকে মালগুলা আসে এটা দুইশ মাইল দুরে হলেও ওখানেও যাবো। উৎপাদনস্থলে এটার দাম কত; এইখানে আসার পর পাইকারি মার্কেটে কি; তারপর খুচরা মার্কেটে কি, এই তিনটা যাচাই করার পরে আমরা আমাদের ভূমিকা নেব ইনশাআল্লাহ। আমরা চুপ থাকবো না।

গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর উদাহরণ টেনে নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার অতিরিক্ত রাজনৈতিক ব্যস্ততায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারছে না। এ কারণে তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারছে না। গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এর বাস্তব উদাহরণ।

জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।

এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।

আবহাওয়া

জাপান সফর শেষে যা বললেন জামায়াত আমির

জাপান সফর শেষে যা বললেন জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০৩:৪২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৯ মে) সকালে সাত দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির জাপান থেকে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা আতাউর রহমান সরকার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকবো না। আমরা আওয়াজ তুলবো, প্রতিবাদ করবো, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি। আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, আমি আসলে ভাই বাস্তব দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার মানুষ। আমি এখানে (বিমানবন্দরে) নেমেই নিয়ত করেছি, সম্ভব হলে আজকে ঢুকবো, না হলে কালকে ঢুকবো। আমি যাবো পাইকারি বাজারে, আমি যাবো খুচরা বাজারে। আমি যাবো যেখান থেকে মালগুলা আসে এটা দুইশ মাইল দুরে হলেও ওখানেও যাবো। উৎপাদনস্থলে এটার দাম কত; এইখানে আসার পর পাইকারি মার্কেটে কি; তারপর খুচরা মার্কেটে কি, এই তিনটা যাচাই করার পরে আমরা আমাদের ভূমিকা নেব ইনশাআল্লাহ। আমরা চুপ থাকবো না।

গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর উদাহরণ টেনে নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার অতিরিক্ত রাজনৈতিক ব্যস্ততায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারছে না। এ কারণে তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারছে না। গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এর বাস্তব উদাহরণ।

জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।

এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।