Dhaka শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তিন সন্তান ও তার এক শ্যালক রয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় পাঁচজনকে হত্যা করা হয়।

স্বীকারোক্তি দেওয়া ফোরকান (৪০) গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিকুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে। ফোরকান চার মাস ধরে স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন।

নিহতরা হলেন- ঘাতক মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০) এবং তাঁদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। নিহত শারমিন গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। তারা গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের মোবাইল করে খুনের কথা জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শনিবার সকালে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- বাড়ির গৃহকর্তা ফুরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে, তার সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা সেটা তদন্ত চলছে। ঘাতক ফোরকান হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনকল করে একজনকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দায়ীদের শাস্তি দাবি করছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

আবহাওয়া

রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যাত্রী আহত

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশের সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তিন সন্তান ও তার এক শ্যালক রয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় পাঁচজনকে হত্যা করা হয়।

স্বীকারোক্তি দেওয়া ফোরকান (৪০) গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিকুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে। ফোরকান চার মাস ধরে স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন।

নিহতরা হলেন- ঘাতক মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০) এবং তাঁদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। নিহত শারমিন গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। তারা গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচ জনকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের মোবাইল করে খুনের কথা জানান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শনিবার সকালে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- বাড়ির গৃহকর্তা ফুরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে, তার সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা সেটা তদন্ত চলছে। ঘাতক ফোরকান হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনকল করে একজনকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দায়ীদের শাস্তি দাবি করছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।