Dhaka মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেগা প্রকল্পে অপচয় নয়, জনগণের সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে জনগণের অর্থ অপচয় করতে চায় না সরকার বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, যে কোনো প্রকল্পের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে এবং ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনার ঘাটতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রকল্পে অর্থ অপচয় হয়েছে। সময়মতো ভূমি অধিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন না হলে প্রকল্প অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, আগের মতো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বড় প্রকল্প নেওয়া হবে না। আমরা চাই প্রতিটি প্রকল্পে যেন জনগণ সরাসরি সুফল পায় এবং এক টাকাও অপচয় না হয়।

তিনি বলেন, ৫৩ বছরের অবকাঠামো নির্মাণের যে রাষ্ট্রীয় প্র্যাকটিস, সেটি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।

সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা এমনভাবে অর্থ ব্যয় করতে চাই যাতে অপচয় না হয় এবং জনগণ সুফল পায়। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বড় প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা পরিবর্তনের জন্য এখন কঠোর প্রতিজ্ঞা (কমিটমেন্ট) দরকার।

প্রস্তাবিত ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে আটিবাজার ও আবদুল্লাহপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের যানজট প্রায় অর্ধেক কমে যাবে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।

তবে প্রকল্পের অতীত অভিজ্ঞতার সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে আমাদের অনেক টাকা অপচয় হয়েছে। সঠিক সময়ে জমি অধিগ্রহণ না করায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে। আমরা আগের মতো ভুল করতে চাই না।

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, যানজট দেশের জ্বালানি ও উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবস্থা চালু হলে যাতায়াত সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বড় প্রকল্প মানেই দুর্নীতি, এই ধারণা ভাঙতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

মো. রাজিব আহসান বলেন, বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি-জনমনে গেঁথে যাওয়া এই ধারণা আমরা ভেঙে দিতে চাই। আগের প্রকল্পগুলো জন্ম থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছে। আমরা চাই এবারের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেন পুরোপুরি বিতর্কহীন হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এক্সপ্রেসওয়েটি শুধু সড়ক নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রকল্প পরিচালক কাজী মো. ফেরদাউস জানান, প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় হবে আরও ১৪ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ২০৩০ সালে চালু হলে প্রতিদিন ২১ থেকে ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করবে, যা ২০৫০ সালে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা গঠনমূলক পরামর্শ দেন।

আবহাওয়া

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭২ পরিবারে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা সহায়তা বিআরটিএ’র

মেগা প্রকল্পে অপচয় নয়, জনগণের সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে জনগণের অর্থ অপচয় করতে চায় না সরকার বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, যে কোনো প্রকল্পের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে এবং ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনার ঘাটতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রকল্পে অর্থ অপচয় হয়েছে। সময়মতো ভূমি অধিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন না হলে প্রকল্প অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, আগের মতো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বড় প্রকল্প নেওয়া হবে না। আমরা চাই প্রতিটি প্রকল্পে যেন জনগণ সরাসরি সুফল পায় এবং এক টাকাও অপচয় না হয়।

তিনি বলেন, ৫৩ বছরের অবকাঠামো নির্মাণের যে রাষ্ট্রীয় প্র্যাকটিস, সেটি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।

সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা এমনভাবে অর্থ ব্যয় করতে চাই যাতে অপচয় না হয় এবং জনগণ সুফল পায়। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বড় প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা পরিবর্তনের জন্য এখন কঠোর প্রতিজ্ঞা (কমিটমেন্ট) দরকার।

প্রস্তাবিত ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে আটিবাজার ও আবদুল্লাহপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের যানজট প্রায় অর্ধেক কমে যাবে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।

তবে প্রকল্পের অতীত অভিজ্ঞতার সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে আমাদের অনেক টাকা অপচয় হয়েছে। সঠিক সময়ে জমি অধিগ্রহণ না করায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে। আমরা আগের মতো ভুল করতে চাই না।

সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, যানজট দেশের জ্বালানি ও উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবস্থা চালু হলে যাতায়াত সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বড় প্রকল্প মানেই দুর্নীতি, এই ধারণা ভাঙতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

মো. রাজিব আহসান বলেন, বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি-জনমনে গেঁথে যাওয়া এই ধারণা আমরা ভেঙে দিতে চাই। আগের প্রকল্পগুলো জন্ম থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছে। আমরা চাই এবারের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেন পুরোপুরি বিতর্কহীন হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এক্সপ্রেসওয়েটি শুধু সড়ক নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কর্মশালায় প্রকল্প পরিচালক কাজী মো. ফেরদাউস জানান, প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় হবে আরও ১৪ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ২০৩০ সালে চালু হলে প্রতিদিন ২১ থেকে ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করবে, যা ২০৫০ সালে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা গঠনমূলক পরামর্শ দেন।