Dhaka রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতি নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকতে চান এবং সেখানে তার একমাত্র পছন্দ আওয়ামী লীগ। সাবেক টাইগার অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ জানান, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছেও তার নেই এবং সেটি কখনোই ছিল না। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশে আওয়ামী রাজনীতি এখন নিষিদ্ধ হলেও সবসময় থাকবে না।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লিগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। তবে সেই বছরের ৫ অগাস্ট সরকার পতনের সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি।

ভারতের মুম্বাইয়ে সম্প্রতি সাকিব একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইভেন্টে এসেছিলেন। সেখান থেকে ফোনে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দেশের একটি অনলাইন পোর্টালকে। যেখানে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের প্রতিই নিবেদিত কি না, এই প্রশ্নেই তিনি সোজাসাপ্টা শোনালেন নিজের ভাবনা।

সাকিব বলেন, সেটাই তো হওয়ার কথা (আওয়ামী লীগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ) তাই না? আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই এবং কোনো কালেও ছিল না। আমি এই জিনিস কখনও করিনি। ঠিক আছে? আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।

দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, মাগুরার মানুষের জন্য সারা জীবন আছে আমার। মাগুরার মানুষ আমাকে আবার সুযোগ দেবেই। যতদিন সুযোগ না পাচ্ছিৃ. তারপরও যদি ভালো করতে পারি, হয়তো আরও সুযোগ দিবে। আমার ধারণা, একবার সুযোগ পেলে আমি যে কাজ করব, তাতে আর বারবার করা লাগবে না। আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, ওখানে নির্বাচন করলেই আমি জিতব। মানুষ আমাকে ভোট দেবে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।

এসময় সাকিব আল হাসান বলেন, আমি তো এবারের নির্বাচনই করতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম নির্বাচন করি, ভোটে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেই। পরে ভাবলাম, আমাকে নির্বাচন করতে দেবে না। এছাড়া দলেরও তো একটা সিদ্ধান্ত থাকে, সেটার বাইরে যাওয়া যায় না। নাহলে নির্বাচন করে দেখিয়ে দিতাম।

দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, আমি ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে। আমি তো বলছি না যে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। একটা স্বাভাবিক নিরাপত্তা তো আছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করা হবে না- এটুকু গ্যারান্টি কালকে দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।

সাকিব দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখায় তিনি চেক বাউন্সের মতো সাধারণ মামলাগুলোও নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। দেড় বছর তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম, ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলল যে, ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার!’ দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে সরকারের বড় ভুল বা ব্লান্ডার হিসেবে দেখছেন সাকিব। তার মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে। এর জন্য তৎকালীন বোর্ড কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা এবং বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পুরো উল্টো পিঠে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থাকায় আমি ঘটনার গভীরতা শুরুতে বুঝতে পারিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমি আপ-টু-ডেট ছিলাম না। সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছে, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো? আন্দোলনের সময় নিহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্য সমান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি যে দলের প্রতি নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না। ৫ আগস্টের পর নিজের দেশে ফেরা আটকে যাওয়াকে ‘সাজানো মব’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে দেশি ফেরার একদম শেষ প্রান্তে ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দুবাই পৌঁছানোর পর হুট করেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় তাকে। কেন বিমানে উঠেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা হয়নি, সেই ঘটনার আদ্যোপান্ত এবার নিজেই পরিষ্কার করলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সরকারের সবুজ সংকেত নিয়েই তিনি দেশের পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে সবকিছু নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।

সাকিব আল হাসান বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলা হলো- ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’

হুট করে কেন সিদ্ধান্ত বদলাল, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার! দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।

সাকিবের দেশে ফেরা ঠেকাতে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে কিছু মানুষ বিক্ষোভ করেছিল। সেই বিক্ষোভের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাকিব বলেন, নিউজে দেখলাম মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে ২০/২৫ জন বা সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে, প্রোটেস্ট করেছে। সবাই আমাকে বলছে এটা ছিল সাজানো নাটক। যদিও আমি তা বিশ্বাস করতে চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়।

সাকিব আরও বলেন, আমার ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। যারা আমাকে অনুমতি দিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারাই আবার কেন না করলেন, তা আজও আমার কাছে অস্পষ্ট।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে সরকারের বড় ভুল বা ব্লান্ডার হিসেবে দেখছেন সাকিব। তার মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে। এর জন্য তৎকালীন বোর্ড কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা এবং বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পুরো উল্টো পিঠে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থাকায় আমি ঘটনার গভীরতা শুরুতে বুঝতে পারিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমি আপ-টু-ডেট ছিলাম না। সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছে, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো? আন্দোলনের সময় নিহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্য সমান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাকিব বলেন, আমি যে দলের প্রতি নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না। ৫ আগস্টের পর নিজের দেশে ফেরা আটকে যাওয়াকে ‘সাজানো মব’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতি নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকতে চান এবং সেখানে তার একমাত্র পছন্দ আওয়ামী লীগ। সাবেক টাইগার অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ জানান, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছেও তার নেই এবং সেটি কখনোই ছিল না। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশে আওয়ামী রাজনীতি এখন নিষিদ্ধ হলেও সবসময় থাকবে না।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লিগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। তবে সেই বছরের ৫ অগাস্ট সরকার পতনের সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি।

ভারতের মুম্বাইয়ে সম্প্রতি সাকিব একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইভেন্টে এসেছিলেন। সেখান থেকে ফোনে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দেশের একটি অনলাইন পোর্টালকে। যেখানে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের প্রতিই নিবেদিত কি না, এই প্রশ্নেই তিনি সোজাসাপ্টা শোনালেন নিজের ভাবনা।

সাকিব বলেন, সেটাই তো হওয়ার কথা (আওয়ামী লীগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ) তাই না? আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই এবং কোনো কালেও ছিল না। আমি এই জিনিস কখনও করিনি। ঠিক আছে? আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।

দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, মাগুরার মানুষের জন্য সারা জীবন আছে আমার। মাগুরার মানুষ আমাকে আবার সুযোগ দেবেই। যতদিন সুযোগ না পাচ্ছিৃ. তারপরও যদি ভালো করতে পারি, হয়তো আরও সুযোগ দিবে। আমার ধারণা, একবার সুযোগ পেলে আমি যে কাজ করব, তাতে আর বারবার করা লাগবে না। আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, ওখানে নির্বাচন করলেই আমি জিতব। মানুষ আমাকে ভোট দেবে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।

এসময় সাকিব আল হাসান বলেন, আমি তো এবারের নির্বাচনই করতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম নির্বাচন করি, ভোটে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেই। পরে ভাবলাম, আমাকে নির্বাচন করতে দেবে না। এছাড়া দলেরও তো একটা সিদ্ধান্ত থাকে, সেটার বাইরে যাওয়া যায় না। নাহলে নির্বাচন করে দেখিয়ে দিতাম।

দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, আমি ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে। আমি তো বলছি না যে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। একটা স্বাভাবিক নিরাপত্তা তো আছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করা হবে না- এটুকু গ্যারান্টি কালকে দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।

সাকিব দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখায় তিনি চেক বাউন্সের মতো সাধারণ মামলাগুলোও নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। দেড় বছর তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম, ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলল যে, ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার!’ দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে সরকারের বড় ভুল বা ব্লান্ডার হিসেবে দেখছেন সাকিব। তার মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে। এর জন্য তৎকালীন বোর্ড কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা এবং বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পুরো উল্টো পিঠে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থাকায় আমি ঘটনার গভীরতা শুরুতে বুঝতে পারিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমি আপ-টু-ডেট ছিলাম না। সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছে, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো? আন্দোলনের সময় নিহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্য সমান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি যে দলের প্রতি নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না। ৫ আগস্টের পর নিজের দেশে ফেরা আটকে যাওয়াকে ‘সাজানো মব’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে দেশি ফেরার একদম শেষ প্রান্তে ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দুবাই পৌঁছানোর পর হুট করেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় তাকে। কেন বিমানে উঠেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা হয়নি, সেই ঘটনার আদ্যোপান্ত এবার নিজেই পরিষ্কার করলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সরকারের সবুজ সংকেত নিয়েই তিনি দেশের পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে সবকিছু নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।

সাকিব আল হাসান বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলা হলো- ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’

হুট করে কেন সিদ্ধান্ত বদলাল, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার! দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।

সাকিবের দেশে ফেরা ঠেকাতে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে কিছু মানুষ বিক্ষোভ করেছিল। সেই বিক্ষোভের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাকিব বলেন, নিউজে দেখলাম মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে ২০/২৫ জন বা সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে, প্রোটেস্ট করেছে। সবাই আমাকে বলছে এটা ছিল সাজানো নাটক। যদিও আমি তা বিশ্বাস করতে চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়।

সাকিব আরও বলেন, আমার ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। যারা আমাকে অনুমতি দিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারাই আবার কেন না করলেন, তা আজও আমার কাছে অস্পষ্ট।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে সরকারের বড় ভুল বা ব্লান্ডার হিসেবে দেখছেন সাকিব। তার মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে। এর জন্য তৎকালীন বোর্ড কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা এবং বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পুরো উল্টো পিঠে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থাকায় আমি ঘটনার গভীরতা শুরুতে বুঝতে পারিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমি আপ-টু-ডেট ছিলাম না। সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছে, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো? আন্দোলনের সময় নিহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্য সমান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাকিব বলেন, আমি যে দলের প্রতি নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না। ৫ আগস্টের পর নিজের দেশে ফেরা আটকে যাওয়াকে ‘সাজানো মব’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।