Dhaka রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিন পরিবহণের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সেন্টমার্টিন পরিবহণের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। তিনি এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাম পাশের পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে ফেলেন।

রিটে ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মালিকানাধীন অনুমোদনহীন দ্বিতল সেন্টমার্টিন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারাদেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও মহাসড়কের পাশে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই দলে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোর বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতিটি বাসে দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কিউআর কোড স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এই রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি সেন্টমার্টিন পরিবহন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনায় আহত আইনজীবী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকতে হওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সেন্টমার্টিন পরিবহণের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সেন্টমার্টিন পরিবহণের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। তিনি এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাম পাশের পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে ফেলেন।

রিটে ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মালিকানাধীন অনুমোদনহীন দ্বিতল সেন্টমার্টিন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারাদেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও মহাসড়কের পাশে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই দলে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোর বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতিটি বাসে দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কিউআর কোড স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এই রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি সেন্টমার্টিন পরিবহন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনায় আহত আইনজীবী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকতে হওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।