Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্ধেক দামে সোলার পাবেন কৃষকরা : কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

কৃষিখাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ডিপ-টিউবওয়েল ও শ্যালো মেশিনে সোলার সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন)। এ উদ্যোগের আওতায় কৃষকরা ভর্তুকিমূল্যে অর্ধেক দামে সোলার কেনার সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষি কার্ড প্রদান। তখন এ উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করলেও সরকার গঠনের পর দ্রুতই সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।

আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে। কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে ডিপ টিউবওয়েল ও শ্যালোমেশিনে সোলার সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হবে, ফলে অর্ধেক খরচে সোলার সুবিধা পাবেন তারা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় কৃষি ঋণমুক্তকরণ, সারের ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষকদের জন্য নানা সহায়ক নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা কৃষি খাতকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’- এই দর্শন থেকেই সেই সময়কার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই কৃষিবান্ধব আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কৃষি ঋণমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মতো উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনি ইশতেহারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভর্তুকি ব্যবস্থার সূচনা অতীতে হলেও বর্তমান সময়ে তা আরও সম্প্রসারিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিও রয়েছে। এর মাধ্যমে বহু কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে উপকৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলা গেলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষিখাতকে আধুনিক ও লাভজনক করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত আরও মজবুত হবে। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে এবং কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া এবং আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় প্রথম ধাপে মোট ১ হাজার ৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।

আবহাওয়া

অর্ধেক দামে সোলার পাবেন কৃষকরা : কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

কৃষিখাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ডিপ-টিউবওয়েল ও শ্যালো মেশিনে সোলার সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন)। এ উদ্যোগের আওতায় কৃষকরা ভর্তুকিমূল্যে অর্ধেক দামে সোলার কেনার সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষি কার্ড প্রদান। তখন এ উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করলেও সরকার গঠনের পর দ্রুতই সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।

আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে। কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে ডিপ টিউবওয়েল ও শ্যালোমেশিনে সোলার সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হবে, ফলে অর্ধেক খরচে সোলার সুবিধা পাবেন তারা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় কৃষি ঋণমুক্তকরণ, সারের ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষকদের জন্য নানা সহায়ক নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা কৃষি খাতকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’- এই দর্শন থেকেই সেই সময়কার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই কৃষিবান্ধব আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কৃষি ঋণমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মতো উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনি ইশতেহারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভর্তুকি ব্যবস্থার সূচনা অতীতে হলেও বর্তমান সময়ে তা আরও সম্প্রসারিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিও রয়েছে। এর মাধ্যমে বহু কৃষক পরিবার ইতোমধ্যে উপকৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলা গেলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষিখাতকে আধুনিক ও লাভজনক করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত আরও মজবুত হবে। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে এবং কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া এবং আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় প্রথম ধাপে মোট ১ হাজার ৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।