স্পোর্টস ডেস্ক :
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও হলো একপেশে লড়াই। তবে এবার আর জয়ী দলের নামটা বাংলাদেশ নয়; দাপুটে পারফরম্যান্সে মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল পাকিস্তান।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। তবে জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ফলে ডার্ক-লুইস পদ্ধতিতে বড় ব্যবধানে জয় পায় পাকিস্তান।
রান তাড়ায় শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম, ৭ বলে করেন মাত্র ১ রান। পরের বলেই মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে মিডঅফে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাইফ হাসান (১২ বলে ১২)।
নাজমুল হোসেন শান্তও এদিন উইকেটে থিতু হতে পারেনন। শাহিন আফ্রিদির বলে ব্যাট পাতার আগেই উড়ে যায় স্টাম্প। ফেরেন শূন্য রানে। ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলার পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি থামার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ফের খেলা শুরু হয়। তখন বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান। ফলে ২৫.৩ ওভারে ২১৬ রান করতে হতো স্বাগতিকদের।
নতুন লক্ষ্য তাড়ায় লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে শুরুটা ভালোই হয়। নবম ওভারে দুজনেই হাকান একটি করে চার। দশম ওভারে হারিস রউফকে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ত্রয়োদশ ওভারে আরেকটি ছক্কা মারার পরের বলে সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন লিটন। তার আগে করেন ৩৩ বলে ৪১ রান। তখনই মূলত বাংলাদেশের হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়!
এরপর ব্যাটিংয়ে নামা আফিফ হোসেন যেন লক্ষ্যটাই ভুলে গিয়েছিলেন! দেড় বছর ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নেমে আরেকটি কুৎসিত ইনিংস (১৫ বলে ১৪) খেলে দলকে বিপদে ফেলে আউট হন। আর লিটন আউট হওয়ার পর হৃদয়ও যেন খোলসে ঢুকে যান! এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দুজনই দ্রুত ফিরে যান। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৮ রান করেন তিনি। হৃদয় আর, লিটন আর রিশাদই, তিনজনই পার্ট টাইম স্পিয়ার মাজ সাদাকাতের বলে উইকেট বিলিয়ে দেন।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। তাওহিদ করেন ২৮ রান। এ দুই ব্যাটার ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেন। ফলে বড় ব্যবধানেই হারতে হয় টাইগারদের।
পাকিস্তানের পক্ষে ২৩ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন সাদাকাত। এছাড়া ৩টি শিকার করেন হারিস রউফও। শাহিন শাহ নেন ২টি উইকেট।
এর আগে টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ। তবে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি স্বাগতিকদের জন্য। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করা নাহিদ রানা এদিন শুরুতে ছিলেন ছন্নছাড়া। সেই সুযোগে পাকিস্তানি দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত রীতিমতো তান্ডব চালান। তাতে মাত্র ১২.২ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে পাকিস্তান।
তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। ব্রেক-থ্রু এনে দেন খোদ অধিনায়ক মিরাজ; সাজঘরে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা সাদাকাতকে। এরপরই পথ হারায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের বলে ফারহান এবং নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হয়ে শামিল হোসেন বিদায় নিলে ১২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা মিলে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান, যা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।
কিন্তু ম্যাচের সব নাটকীয়তা যেন জমা ছিল ইনিংসের ৩৯তম ওভারের জন্য। মিরাজের একটি ডেলিভারি রিজওয়ান বোলারের দিকে ঠেলে দিলে মিরাজ সেটি পা দিয়ে থামান। এসময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগা অনেকটা অসতর্কভাবেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং বলটি কুড়িয়ে মিরাজের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল তখনো ‘ডেড’ হয়নি দেখে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন মিরাজ; দ্রুত বল তুলে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ারদের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী সালমানকে আউট ঘোষণা করা হলে মাঠে গড়ায় চরম উত্তেজনা।
৬২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে এভাবে বিদায় নেওয়াটা মেনে নিতে পারেননি সালমান। সাজঘরে ফেরার আগে মিরাজের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় রাগে-ক্ষোভে হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মারতেও দেখা যায় এই ব্যাটারকে। সালমানের এই বিতর্কিত বিদায়েই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ। একই ওভারে মিরাজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন থিতু হওয়া রিজওয়ানও (৪৪)।
এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে না পারায় ১৫ বল বাকি থাকতেই ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান, এমনকি পুরো ৫০ ওভারও টিকতে পারেনি তারা
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান আসে সাদাকাতের ব্যাট থেকে; মাত্র ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৫৬ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক মিরাজ নেন ২টি উইকেট।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ রোববার।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























