Dhaka বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাহিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ২০৬ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

নাহিদ রানার পেসে বিধ্বস্ত হয়ে টেনেটুনে তিন অঙ্ক পেরিয়েই গুটিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তাদের মামুলি পুঁজি টি-টোয়েন্টি ঘরানায় উড়িয়ে দিয়ে তুড়ি মেরে ম্যাচ শেষ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দল মিলে খেলা হলো স্রেফ ৪৫.৫ ওভার। অর্থাৎ একটি ওয়ানডে ম্যাচ শেষ হয়ে গেল যেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ব্যাপ্তিতে।

১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে সাইফ হাসানকে (৪) ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ২.৪ ওভারে ১ উইকেটে ২৭ রানে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ পাওয়ার প্লে (প্রথম ১০ ওভার) শেষ করেছে ১ উইকেটে ৮১ রানে। তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত একের পর এক বাউন্ডারি মেরেছেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (তামিম-শান্ত)।

১৪তম ওভারের পঞ্চম বলে শান্তকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। হালকা লাফিয়ে ওঠা বল শান্ত খোঁচা লাগালে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩৩ বলে ৫ চারে শান্ত করেন ২৭ রান। এক ওভার বিরতিতে ওয়াসিম বোলিংয়ে আসতেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। ১৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান করে স্বাগতিকেরা। ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তানজিদ তামিম।

২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। ৭ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। এর আগে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন মোস্তাফিজ। লর্ডসে সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের শুরুটা ছিলো সতর্ক পথে। প্রথম পাওয়ার প্লের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দিচ্ছিলো তারা। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য আনেন নাহিদ।

নাহিদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ধয়া দেন অভিষিক্ত শাহিবজাদা ফারহান। এরপর নিজের প্রতি ওভারে টানা উইকেট নিতে থাকেন তিনি।

আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন একবার জীবন পাওয়ার পর সোজা ক্যাচ তুলে ফিরে যান। অভিষেক হওয়া অন্য ওপেনার মাজ সাদাকাত শর্ট বলে হন কাবু। তার সহজ ক্যাচ লুফেন সাইফ হাসান।

পাকিস্তানের এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান নাহিদের দারুণ ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে।

১৮তম ওভারে সালমান আলি আঘাকে ফরোয়ার্ড শট লেগে ক্যাচে পরিণত করেন নাহিদ। তার লাফিয়ে উঠা বল শরীর থেকে সরাতে গিয়েছিলেন সালমান। দারুণ রিফ্লেক্সে সেই ক্যাচ মুঠোয় জমান তানজিদ হাসান তামিম। পরের ওভারে মিরাজ অভিষিক্ত আব্দুল সামাদকে ফিরিয়ে দিলে ৭০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় পাকিস্তান।

মিরাজ তার পরের ওভারে হোসেইন তালাতকে এলবিডব্লিউতে ছেঁটে নিলে পাকিস্তানের স্কোর পরিণত হয় ৭ উইকেটে ৭৭। পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি নেমে এক চার মারার পর তিনিও মিরাজের শিকার হলে ৮ম উইকেটের পতন হয়ে যায় সফরকারীদের (৮ উইকেটে ৮১)। আর ১ রান যোগ করে পড়ে তাদের নবম উইকেটও। মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র তাসকিনের বলে ক্যাচ দেন স্লিপে।

শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ৪৭ বলে ৩৭ রান করে দলকে পার করান তিন অঙ্ক। তাকে আউট করে ইনিংস মুড়ে দেন মোস্তফিজ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কাতা‌রে আট‌কে পড়া‌দের জন‌্য দু‌টি বি‌শেষ ফ্লাই‌টের ব‌্যবস্থা

নাহিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৭:২৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

নাহিদ রানার পেসে বিধ্বস্ত হয়ে টেনেটুনে তিন অঙ্ক পেরিয়েই গুটিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তাদের মামুলি পুঁজি টি-টোয়েন্টি ঘরানায় উড়িয়ে দিয়ে তুড়ি মেরে ম্যাচ শেষ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দল মিলে খেলা হলো স্রেফ ৪৫.৫ ওভার। অর্থাৎ একটি ওয়ানডে ম্যাচ শেষ হয়ে গেল যেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ব্যাপ্তিতে।

১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে সাইফ হাসানকে (৪) ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ২.৪ ওভারে ১ উইকেটে ২৭ রানে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ পাওয়ার প্লে (প্রথম ১০ ওভার) শেষ করেছে ১ উইকেটে ৮১ রানে। তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত একের পর এক বাউন্ডারি মেরেছেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (তামিম-শান্ত)।

১৪তম ওভারের পঞ্চম বলে শান্তকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। হালকা লাফিয়ে ওঠা বল শান্ত খোঁচা লাগালে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩৩ বলে ৫ চারে শান্ত করেন ২৭ রান। এক ওভার বিরতিতে ওয়াসিম বোলিংয়ে আসতেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। ১৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান করে স্বাগতিকেরা। ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তানজিদ তামিম।

২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। ৭ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। এর আগে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন মোস্তাফিজ। লর্ডসে সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের শুরুটা ছিলো সতর্ক পথে। প্রথম পাওয়ার প্লের প্রায় পুরোটাই কাটিয়ে দিচ্ছিলো তারা। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য আনেন নাহিদ।

নাহিদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ধয়া দেন অভিষিক্ত শাহিবজাদা ফারহান। এরপর নিজের প্রতি ওভারে টানা উইকেট নিতে থাকেন তিনি।

আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন একবার জীবন পাওয়ার পর সোজা ক্যাচ তুলে ফিরে যান। অভিষেক হওয়া অন্য ওপেনার মাজ সাদাকাত শর্ট বলে হন কাবু। তার সহজ ক্যাচ লুফেন সাইফ হাসান।

পাকিস্তানের এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান নাহিদের দারুণ ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে।

১৮তম ওভারে সালমান আলি আঘাকে ফরোয়ার্ড শট লেগে ক্যাচে পরিণত করেন নাহিদ। তার লাফিয়ে উঠা বল শরীর থেকে সরাতে গিয়েছিলেন সালমান। দারুণ রিফ্লেক্সে সেই ক্যাচ মুঠোয় জমান তানজিদ হাসান তামিম। পরের ওভারে মিরাজ অভিষিক্ত আব্দুল সামাদকে ফিরিয়ে দিলে ৭০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় পাকিস্তান।

মিরাজ তার পরের ওভারে হোসেইন তালাতকে এলবিডব্লিউতে ছেঁটে নিলে পাকিস্তানের স্কোর পরিণত হয় ৭ উইকেটে ৭৭। পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি নেমে এক চার মারার পর তিনিও মিরাজের শিকার হলে ৮ম উইকেটের পতন হয়ে যায় সফরকারীদের (৮ উইকেটে ৮১)। আর ১ রান যোগ করে পড়ে তাদের নবম উইকেটও। মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র তাসকিনের বলে ক্যাচ দেন স্লিপে।

শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ৪৭ বলে ৩৭ রান করে দলকে পার করান তিন অঙ্ক। তাকে আউট করে ইনিংস মুড়ে দেন মোস্তফিজ।