নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, আমরা আলোচনা করবো, বিতর্ক করবো, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এই সংসদে সিদ্ধান্ত নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে বার বার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্থ হওয়ার কারণে দেশ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে সংসদকে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের মেনিফেস্টোতে কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পর দ্রুততার সঙ্গে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কৃষকদের সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। আমি তাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, আমরা প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে চাই। কৃষক বলতে শুধু যারা ধান ফলায় তারা নয়; যারা মৎস্য চাষ করে, গবাদি পশু পালন করে—আমরা প্রত্যেক ধরনের কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে পৌঁছাব এবং তাদের পাশে দাঁড়াব।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারণার সময় গ্রামে গিয়ে কৃষকের কাছে ভোট চেয়েছি, তাদের অবস্থা আমরা জানি। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করার যে কাজ এই সংসদ শুরু করেছে, ইনশাআল্লাহ গ্যালারিতে বসা এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই কাজটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
লন্ডনের স্কুলের শিশুদের মতো বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যাতে সুন্দর পোশাকে ও উন্নত পরিবেশে শিক্ষা লাভ করতে পারে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার।
ব্রিটেনে প্রবাস জীবনের স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে বহু বছর আমাকে ব্রিটেনে থাকতে হয়েছিল। সেখানে যখন স্কুলগামী শিশুদের দেখতাম, মনে হতো— আহা! আমার দেশের স্কুলগুলো কেন এমন হতে পারে না? শিশুরা সুন্দর পোশাক, জুতো-মোজা পরে স্কুলে যাচ্ছে, শিক্ষকরা মমতা দিয়ে পড়াচ্ছেন। সেই দৃশ্য দেখে মনে কষ্ট হতো যে, আমার দেশের শিশুরা কবে এভাবে স্কুলে যাবে।
সেই আক্ষেপ দূর করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্কুল ব্যাগ দেওয়া শুরু হবে।
পাশাপাশি আমরা স্কুল ড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থাও করব।’
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশের পরিবর্তন অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা চাই প্রতিটি শিশু সুন্দর পরিবেশে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বেড়ে উঠুক এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এমন একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হয়।
বক্তৃতার একাংশে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
তিনি বলেন, এসব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নিজের চেয়ারের বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি জায়গা। এই চেয়ারে বসলে আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি যে আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় বা ‘পপুলার’ কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও এই দায়িত্বের চেয়ার তাকে সেই অনুমতি দেয় না। এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তাকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক বা রাইট ডিসিশনটি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা মেটানো এবং সমস্যা সমাধানের গুরুভার এই চেয়ারের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। আমরা যদি পপুলার ডিসিশনের পেছনে ছুটি, তবে হয়তো বাহবা পাব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্যই সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি পপুলার নয় বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানাই।
তারেক রহমান দেশের কৃষি ও পরিবেশগত সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, জলাবদ্ধতা এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরুর লক্ষ্যই হলো মাটির নিচের পানির স্তর রিফিল করা। এই কাজের শুভফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগবে, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নে কাজ করছি। প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের ব্যাগ, বই ও জুতো দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা গুণগত শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারেন। শুধু হাসপাতালের ভবন থাকলে হবে না, সেখানে ডাক্তার, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং ওষুধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য এক, আর তা হলো বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ দেশ গড়ে তোলা।
সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছে। তিনি ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় হয়তো কোনো সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে কিন্তু বুক চিরে কেউ বলতে পারবে না যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ক্ষতির মাসুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে।
বর্তমানে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলের প্রতি অত্যন্ত উদার মনোভাব পোষণ করে জানান, ডেপুটি স্পিকার পদটি তাদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং তিনি নিজে বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চেয়ে এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল্যবান ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ডিবেট দিয়ে কোনো ক্ষুধার্ত মানুষের পেট ভরবে না কিংবা অসুস্থ শিশুর মায়ের মন শান্ত হবে না। মানুষ এখন ডিবেট নয়, তাদের সমস্যার সমাধান চায়।
তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি। একটি সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইটি শিল্পসহ দেশের প্রতিটি খাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে উভয় পক্ষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ ৭১ এর পরবর্তী বাংলাদেশ, যেরকম শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশ এবং বর্তমান সংসদ একইভাবে হাজারও শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। মাননীয় স্পিকার, অধিবেশন শেষ, অধিবেশনের দিনে আমি এইটুক আমার অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই। আমার সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই যে আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি, বিরোধী দলের সদস্যের সঙ্গে, বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যেকোনো আলাপ আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য এবং আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা উভয়ে সবাই একসঙ্গে এই দেশকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, আমি আন্তরিকভাবে আমার পক্ষ থেকে, আমার সরকারের পক্ষ থেকে, আমার সংসদের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিসভার মাননীয় সদস্যদের, মাননীয় চিফ হুইপদের এবং সব সংসদ সদস্যদের। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় সব সদস্যকে। কারণ একটু আগেই আমি বলেছি, আমরা ছাড়া আপনারা পরিপূর্ণ নন, আপনারা ছাড়া আমরা পরিপূর্ণ নই। সেই কারণেই আমি মাননীয় বিরোধী দলের নেতা এবং বিরোধীদলের সব সদস্যদের বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানাতে চাই।
সরকারপ্রধান জানান, আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই মাননীয় স্পিকার সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীকে, তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এই দেড় মাস। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যারা আমাদের এই সংসদকে সহযোগিতা করেছেন, এত অল্প সময়ে দ্রুততার সঙ্গে এতগুলো বিল উপস্থাপন করে এগুলোর সম্পূর্ণ কাজগুলো সমাধান করার জন্য। মাননীয় স্পিকার, আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই পুলিশ সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, গণপূর্ত বিভাগের সদস্য, বিদ্যুৎ ও টেলিগ্রাম ফোন বিভাগের সদস্য। আমি বিশেষভাবে আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিকে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলসহ দেশের সব গণমাধ্যম সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তিনি বলেন, আমি আবারও পরিষ্কারভাবে দৃঢ়চিত্তে বলতে চাই, যে সব ব্যক্তি এবং সংস্থাকে আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি তাদের সবার সহযোগিতার কারণেই আজ আমরা এই সংসদটি সুন্দরভাবে এই অধিবেশন সমাপ্ত করতে পারলাম এবং দেশ গঠনে এই প্রত্যেকটি সংস্থা এবং প্রত্যেক ব্যক্তির অবদান রয়েছে ও ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে। মাননীয় স্পিকার, মাননীয় বিরোধী দলের নেতা এই সংসদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরাসহ সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের সহায়ক হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তির বিষয়ে উনি বলেছেন তাদের কিছু সম্মানের ব্যবস্থা করার কথা, আপনাকে অনুরোধ জানিয়েছেন; আমি উনার এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাবাহিনী, তাদের আমরা যদি আমাদের ধন্যবাদের তালিকায় না আনি সেটি অন্যায় করা হবে। ফ্যাসিবাদের পলায়নের পরে মাননীয় স্পিকার, এই সশস্ত্র বাহিনী এবং সেনাবাহিনী তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছে যে দেশকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রাখা। দেশে যাতে কোনো অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তাদের দায়িত্ব সঠিক সুন্দরভাবে পালন করার জন্য। মাননীয় স্পিকার, আবারও আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। বক্তব্য শেষ করার আগে আবারও আমি বলছি, সব সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান থাকবে, আসুন আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব, যে প্রত্যাশা, যে আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের পাঠিয়েছে এখানে, আসুন আমরা সেই দায়িত্বের, সেই কর্তব্যের সর্বোচ্চ সম্মান আমরা প্রদান করি। যার মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করব। কারণ দেশ এবং জনগণ থাকলেই আমরা আছি। দেশ এবং জনগণ সম্মান যদি আমরা না করি তাহলে আমাদের রাজনীতি হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেইজন্যই আমাদের সবচেয়ে প্রথম হচ্ছে এই দেশের জনগণ এবং এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















