Dhaka বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হলে থৈ থৈ পানি, বেঞ্চে পা তুলে লিখলেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮৩ জন দেখেছেন

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

জলাবদ্ধতার মধ্যেই বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষিকাকেও চেয়ারে পা তুলে বসে থাকতে দেখা যায়। এই রকম একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পরে কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে প্রায় বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। অল্প সময়ের এই ভারী বর্ষণেই নগরীর কান্দিরপাড়, চকবাজার, টমছমব্রিজ, স্টেডিয়াম রোড, সালাউদ্দিন মোড়, শিক্ষা বোর্ড এলাকা, মহিলা কলেজ রোড, ঝাউতলা, বাগিচাগাঁও, রেইসকোর্স, ধর্মপুর, নজরুল অ্যাভিনিউসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। বিশেষ করে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেক কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে কক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে।

কুমিল্লা ইশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী মুস্তাকিম খান জানায়, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি শুরু হয় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কক্ষে পানি উঠতে থাকে। একপর্যায়ে হাঁটুসমান পানির মধ্যেই পরীক্ষা দিতে হয় তাদের। এতে পরীক্ষায় মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে বলে সে অভিযোগ করে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষও। টমছমব্রিজ এলাকায় রিকশাচালক মিল্লাত হোসেন জানান, পানি জমে তাঁর অটোরিকশা বিকল হয়ে গেছে। ব্যাটারি নষ্ট হলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কুমিল্লায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তবে এবারের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তাঁদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-নালা দখল ও ভরাটের কারণেই পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, পুরো এলাকায়ই পানি উঠেছে, যেখানে-সেখানে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। নতুন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন করা হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে, তবে দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

কেন্দ্রের নিচতলার কয়েকটি কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছিল। সেসব কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সচিব এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পরীক্ষাগুলো ওই কেন্দ্রে অন্য কক্ষে নেওয়া হবে কিনা, কিংবা পরীক্ষার্থীদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে কি না এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর শহর কুমিল্লা ২০১১ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

Tag :

আবহাওয়া

সরকারের হস্তক্ষেপে ভেঙে গেল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড

হলে থৈ থৈ পানি, বেঞ্চে পা তুলে লিখলেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : ১১:২১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 

জলাবদ্ধতার মধ্যেই বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষিকাকেও চেয়ারে পা তুলে বসে থাকতে দেখা যায়। এই রকম একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পরে কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে প্রায় বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। অল্প সময়ের এই ভারী বর্ষণেই নগরীর কান্দিরপাড়, চকবাজার, টমছমব্রিজ, স্টেডিয়াম রোড, সালাউদ্দিন মোড়, শিক্ষা বোর্ড এলাকা, মহিলা কলেজ রোড, ঝাউতলা, বাগিচাগাঁও, রেইসকোর্স, ধর্মপুর, নজরুল অ্যাভিনিউসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। বিশেষ করে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেক কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে কক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে।

কুমিল্লা ইশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী মুস্তাকিম খান জানায়, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি শুরু হয় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কক্ষে পানি উঠতে থাকে। একপর্যায়ে হাঁটুসমান পানির মধ্যেই পরীক্ষা দিতে হয় তাদের। এতে পরীক্ষায় মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে বলে সে অভিযোগ করে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষও। টমছমব্রিজ এলাকায় রিকশাচালক মিল্লাত হোসেন জানান, পানি জমে তাঁর অটোরিকশা বিকল হয়ে গেছে। ব্যাটারি নষ্ট হলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কুমিল্লায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তবে এবারের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তাঁদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-নালা দখল ও ভরাটের কারণেই পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, পুরো এলাকায়ই পানি উঠেছে, যেখানে-সেখানে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। নতুন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন করা হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে, তবে দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

কেন্দ্রের নিচতলার কয়েকটি কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছিল। সেসব কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সচিব এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পরীক্ষাগুলো ওই কেন্দ্রে অন্য কক্ষে নেওয়া হবে কিনা, কিংবা পরীক্ষার্থীদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে কি না এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর শহর কুমিল্লা ২০১১ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।