Dhaka বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকার অভাবে থেমে ছিল চিকিৎসা, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা আব্দুল হাসেম মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন অসহায় এই বৃদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সহায়তা চাইলে প্রশাসক ফরিদা খানম সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন মুন্সীগঞ্জের শ্রীপুরের আব্দুল হাসেম। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না।

সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাওয়ায় চিকিৎসা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল আব্দুল হাসেমের। এতে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তাকে কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলা হয়।

কিন্তু টাকার অভাবে সেসব পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে না পেরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সহযোগিতার কথা বলেন আব্দুল হাসেমের স্ত্রী শাহিদা বেগম। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানতে পেরে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, আব্দুল হাসেমের চিকিৎসা যাতে নিয়মিত ও যথাযথভাবে চালানো যায়, সে বিষয়ে সার্বিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আব্দুল হাসেমের স্ত্রী শাহিদা বলেন, টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আবার বাঁচার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, মিডফোর্ট হাসপাতালে রমজানের আগে ডাক্তার দেখাইছি। বেশ কিছু টেস্ট দিয়েছিল কোমর এবং রক্তের। তখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন এই সমস্যা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। হাত দিয়ে এখন টুপিটাও মাথায় দিতে পারে না। হাতগুলো অবশ হয়ে থাকে। বাথরুম করতে গেলেও পড়ে যায়। চিকিৎসা নিয়ে একটু সুস্থ হলে আমরা খুশি।

শাহিদা বেগম বলেন, আমাদের ভিটামাটি নেই। ছেলেরা অল্প কিছু টাকা দেয়, কিন্তু তা দিয়ে সংসার পুরোপুরি চলে না। সংসারে আমরা দুজন ছাড়া কেউ নেই। আমাদের এই অসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসককে আল্লাহ ভালো রাখুক।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল কাজ। আব্দুল হাসেমের মতো কেউ যেন শুধু টাকার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, এটা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, যেখানে রাষ্ট্রের সবাই যাতে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পান।

তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে। মানুষের কষ্ট দেখলে চুপ করে থাকা যায় না। যতটুকু সম্ভব, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে থাকব।

আবহাওয়া

সরকারের হস্তক্ষেপে ভেঙে গেল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড

টাকার অভাবে থেমে ছিল চিকিৎসা, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা আব্দুল হাসেম মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন অসহায় এই বৃদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সহায়তা চাইলে প্রশাসক ফরিদা খানম সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন মুন্সীগঞ্জের শ্রীপুরের আব্দুল হাসেম। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না।

সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাওয়ায় চিকিৎসা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল আব্দুল হাসেমের। এতে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তাকে কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলা হয়।

কিন্তু টাকার অভাবে সেসব পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে না পেরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সহযোগিতার কথা বলেন আব্দুল হাসেমের স্ত্রী শাহিদা বেগম। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানতে পেরে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, আব্দুল হাসেমের চিকিৎসা যাতে নিয়মিত ও যথাযথভাবে চালানো যায়, সে বিষয়ে সার্বিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আব্দুল হাসেমের স্ত্রী শাহিদা বলেন, টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আবার বাঁচার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, মিডফোর্ট হাসপাতালে রমজানের আগে ডাক্তার দেখাইছি। বেশ কিছু টেস্ট দিয়েছিল কোমর এবং রক্তের। তখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন এই সমস্যা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। হাত দিয়ে এখন টুপিটাও মাথায় দিতে পারে না। হাতগুলো অবশ হয়ে থাকে। বাথরুম করতে গেলেও পড়ে যায়। চিকিৎসা নিয়ে একটু সুস্থ হলে আমরা খুশি।

শাহিদা বেগম বলেন, আমাদের ভিটামাটি নেই। ছেলেরা অল্প কিছু টাকা দেয়, কিন্তু তা দিয়ে সংসার পুরোপুরি চলে না। সংসারে আমরা দুজন ছাড়া কেউ নেই। আমাদের এই অসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসককে আল্লাহ ভালো রাখুক।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল কাজ। আব্দুল হাসেমের মতো কেউ যেন শুধু টাকার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, এটা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, যেখানে রাষ্ট্রের সবাই যাতে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পান।

তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে। মানুষের কষ্ট দেখলে চুপ করে থাকা যায় না। যতটুকু সম্ভব, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে থাকব।