নিজস্ব প্রতিবেদক :
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ফেসবুক-নির্ভর রাজনীতি কখনোই বাস্তব রাজনীতি হতে পারে না বরং মাঠে আন্দোলন, সংগ্রাম ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততাই প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, রাজনৈতিক অর্জন ও পরিবর্তন এসেছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই। যারা মাঠে থেকে গুলি, টিয়ার গ্যাস ও নির্যাতনের মুখেও রাজনীতি করেছে, তারাই প্রকৃত অর্থে গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিকৃত করার প্রবণতা অতীতে দেখা গেছে। ইতিহাসকে ব্যক্তিগত বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নয়, বরং নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
তিনি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তরুণদের আন্দোলন ও অংশগ্রহণ রাজনীতিকে নতুনভাবে প্রাণবন্ত করেছে। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য বা প্রচারণার মাধ্যমে রাজনীতি হয় না— বাস্তব ত্যাগ, মাঠের লড়াই এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোই মূল রাজনৈতিক দায়িত্ব।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। কাদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।
রাষ্ট্রপতি এবং তার ভাষণের বৈধতা নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের শহীদ এবং গত ১৭ বছর ধরে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ৫ আগস্ট পেয়েছি। এরপর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার এসেছিল, সেই সরকারকে এই রাষ্ট্রপতি শপথ পড়িয়েছিলেন। সেই সরকারের সামনে বসে থাকা আমার ছোট ভাইয়েরাও সদস্য ছিলেন। এখন রাষ্ট্রপতি বা তার ভাষণ যদি অবৈধ হয়, তাহলে তৎকালীন সরকারও অবৈধ ছিল কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।
বর্তমান সংসদকে তিনি ‘ইউনিক পার্লামেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেন। শামা বলেন, বিরোধী দলের নেতা ঠিকই বলেছেন, এটি মজলুমদের সংসদ। এখানে গুম থেকে ফিরে আসা, ‘আয়নাঘর’ থেকে ফেরা এবং ফাঁসির মঞ্চ থেকে বেঁচে আসা সংসদ সদস্যরা আছেন। হাজারো মামলার ভার মাথায় নিয়ে কারাভোগ করা মানুষরাও এখানে আছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র, শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির পক্ষে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য এই মজলুমদের আন্দোলনেরই প্রতিফলন।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিকে জ্ঞান দিয়ে লাভ নেই। দেশের জন্মের পর থেকে খাল খনন, গার্মেন্টস শিল্প, সংসদীয় গণতন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে নারী শিক্ষার মতো বড় সংস্কারগুলো বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে। বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ডসহ নতুন প্রজন্মের জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সবই তারেক রহমান ও বিএনপির হাত দিয়ে হচ্ছে। ভবিষ্যতে জুলাই সনদ এবং গুম-খুনের বিচারও বিএনপির হাত দিয়েই বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহ তাআলা, নিজের নির্বাচনী এলাকা নগরকান্দা-সালথাবাসী, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্পিকারের আসনে বসায় দেশ ও জাতি গর্বিত বলে মন্তব্য করেন।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের মতো করে ইতিহাস বিকৃত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনা ইতিহাসবিদদের মাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত, যাতে প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্টভাবে জানা যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















