Dhaka শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে খালেদা জিয়া কালজয়ী দৃষ্টান্ত : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি অনন্য ও কালজয়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ‘ছবির গল্প’ প্রকাশিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘দেশনেত্রী’ শীর্ষক বর্ষপঞ্জির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের নেত্রী। তিনি ছিলেন জনগণের নেতা। তাঁকে দেশের মানুষ যেভাবে শেষ বিদায় দিয়েছে, তা একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য পরম আরাধ্যর বিষয়।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর মানুষের অবিরল অশ্রুধারা এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের নেত্রী। তিনি জনগণের নেতা ছিলেন। সাধারণ মানুষ কেনো অশ্রু বিসর্জন করবে একজন নেতার জন্য? যিনি চলে গিয়েছেন, যিনি আর কোনদিন তাদের কোনো উপকার করতে পারবেন না! আমরা সেদিন (বেগম জিয়ার জানাজার দিন) উপলব্ধি করেছি, যে ব্যাপক জনস্রোত, এত বড় জনস্রোত আমি তো কখনো দেখিনি। বাংলাদেশের মানুষও সম্ভবত দেখেনি। ভবিষ্যতেও দেখবে কিনা সেটি ভবিষ্যতে বলতে পারে। তার মৃত্যুতে প্রকৃত অর্থেই বিয়োগ বিহব্বল শোকাভূত জনতা তাকে যেভাবে শেষ বিদায় দিয়েছে, এটি একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য পরম আরাধ্য একটি বিষয়।

স্পিকার বলেন, বেগম জিয়া তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। তাকে মাফিয়া নেত্রী (শেখ হাসিনা) হাসপাতালে একটা চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। মনে হয় যে তিনি (বেগম জিয়া) জীবন্ত। এইমাত্র হয়তো এখনই একটু পরে এসে গাড়ি থেকে নামবেন। আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক অভিজ্ঞতা তাকে আর দেখতে পাবো না। তবে আশা করি, তিনি যে লিগ্যাসি রেখে গিয়েছেন, জনগণকে যেভাবে অনুপ্রাণিত করে গিয়েছেন, সেটি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে অতন্ত্র প্রহরীর মত কাজ করবে। তিনি আজ নাই। কিন্তু তাঁর পুত্র সন্তান তারেক রহমান আমাদের মাঝে আছেন। আমরা আশা করব তার পিতা এবং মাতার পথ অনুসরণ করে তিনি এই জাতিকে দিক নির্দেশনা দেবেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যাতে অক্ষুন্ণ থাকে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশে আমরা অর্জন করতে পেরেছি, এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব কোনভাবেই যাতে কেউ ক্ষুন্ন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রমাণের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘ছবির গল্প’য়ের উপদেষ্টা সম্পাদক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ড. আহমেদ মোস্তফা নোমান এবং ‘ছবির গল্প’য়ের সমন্বয়ক সাদমান সাকিব।

মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।

বর্ষপঞ্জিতে ‘ছবির গল্প’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের তোলা আলোকচিত্র এবং ‘ছবির গল্প’ টিমের লেখনীর মাধ্যমে দেশনেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের ১২টি বিশেষ দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘ছবির গল্প: সবার আগে দেশপ্রেম’ প্রতিপাদ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন প্রচারের জবাবে সত্য তুলে ধরতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশের প্রাণ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীও করা হয়।
এ সময় সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর, আরিফা সুলতানা রুমা, দীপিকা বিনতে হোসাইনসহ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, ‘ছবির গল্প’ টিমের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর সুষ্ঠু বিচার পাবেন, আশাবাদী রামিসার বাবা

সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে খালেদা জিয়া কালজয়ী দৃষ্টান্ত : স্পিকার

প্রকাশের সময় : ১০:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি অনন্য ও কালজয়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ‘ছবির গল্প’ প্রকাশিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘দেশনেত্রী’ শীর্ষক বর্ষপঞ্জির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের নেত্রী। তিনি ছিলেন জনগণের নেতা। তাঁকে দেশের মানুষ যেভাবে শেষ বিদায় দিয়েছে, তা একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য পরম আরাধ্যর বিষয়।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর মানুষের অবিরল অশ্রুধারা এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের নেত্রী। তিনি জনগণের নেতা ছিলেন। সাধারণ মানুষ কেনো অশ্রু বিসর্জন করবে একজন নেতার জন্য? যিনি চলে গিয়েছেন, যিনি আর কোনদিন তাদের কোনো উপকার করতে পারবেন না! আমরা সেদিন (বেগম জিয়ার জানাজার দিন) উপলব্ধি করেছি, যে ব্যাপক জনস্রোত, এত বড় জনস্রোত আমি তো কখনো দেখিনি। বাংলাদেশের মানুষও সম্ভবত দেখেনি। ভবিষ্যতেও দেখবে কিনা সেটি ভবিষ্যতে বলতে পারে। তার মৃত্যুতে প্রকৃত অর্থেই বিয়োগ বিহব্বল শোকাভূত জনতা তাকে যেভাবে শেষ বিদায় দিয়েছে, এটি একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য পরম আরাধ্য একটি বিষয়।

স্পিকার বলেন, বেগম জিয়া তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। তাকে মাফিয়া নেত্রী (শেখ হাসিনা) হাসপাতালে একটা চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। মনে হয় যে তিনি (বেগম জিয়া) জীবন্ত। এইমাত্র হয়তো এখনই একটু পরে এসে গাড়ি থেকে নামবেন। আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক অভিজ্ঞতা তাকে আর দেখতে পাবো না। তবে আশা করি, তিনি যে লিগ্যাসি রেখে গিয়েছেন, জনগণকে যেভাবে অনুপ্রাণিত করে গিয়েছেন, সেটি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে অতন্ত্র প্রহরীর মত কাজ করবে। তিনি আজ নাই। কিন্তু তাঁর পুত্র সন্তান তারেক রহমান আমাদের মাঝে আছেন। আমরা আশা করব তার পিতা এবং মাতার পথ অনুসরণ করে তিনি এই জাতিকে দিক নির্দেশনা দেবেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যাতে অক্ষুন্ণ থাকে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশে আমরা অর্জন করতে পেরেছি, এই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব কোনভাবেই যাতে কেউ ক্ষুন্ন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রমাণের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘ছবির গল্প’য়ের উপদেষ্টা সম্পাদক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ড. আহমেদ মোস্তফা নোমান এবং ‘ছবির গল্প’য়ের সমন্বয়ক সাদমান সাকিব।

মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।

বর্ষপঞ্জিতে ‘ছবির গল্প’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের তোলা আলোকচিত্র এবং ‘ছবির গল্প’ টিমের লেখনীর মাধ্যমে দেশনেত্রীর বর্ণাঢ্য জীবনের ১২টি বিশেষ দিক তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘ছবির গল্প: সবার আগে দেশপ্রেম’ প্রতিপাদ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন প্রচারের জবাবে সত্য তুলে ধরতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশের প্রাণ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীও করা হয়।
এ সময় সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর, আরিফা সুলতানা রুমা, দীপিকা বিনতে হোসাইনসহ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, ‘ছবির গল্প’ টিমের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।