Dhaka শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর সুষ্ঠু বিচার পাবেন, আশাবাদী রামিসার বাবা

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এসেছি। তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেওয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি ১০০ ভাগ বিশ্বাসী যে, আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রামিসার বাবা হান্নান বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে। নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।

অন্যদিকে একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, ‘আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না ও সান্ত্বনার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।

আবহাওয়া

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর সুষ্ঠু বিচার পাবেন, আশাবাদী রামিসার বাবা

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর সুষ্ঠু বিচার পাবেন, আশাবাদী রামিসার বাবা

প্রকাশের সময় : ১০:২০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এসেছি। তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেওয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি ১০০ ভাগ বিশ্বাসী যে, আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রামিসার বাবা হান্নান বলেন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে। নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।

অন্যদিকে একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, ‘আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না ও সান্ত্বনার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।