সংস্কারের অভাবে বেহাল হাছননগর সড়ক, চরম দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাছননগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া কার্পেটিং ও খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের প্রায় ৫০ গ্রামের হাজারো মানুষ। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাছননগর, নতুন হাছননগর, গুজাউরা, আলমপুর, বুড়িস্থল, যোগীরগাঁওসহ আশপাশের দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীরা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয়।

হাছননগর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, আমরা নিয়মিত পৌর কর দিচ্ছি। অথচ নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছি না। বৃষ্টির দিনে আমাদের ছেলেমেয়েরা যানবাহন পায় না। রাস্তা ভাঙা থাকায় মাঝপথে নেমে হেঁটে যেতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে এই সড়ক দিয়ে হাঁটাই কষ্টকর হয়ে যায়। বারবার পৌরসভায় গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। হাছননগর ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ জেলা শহরে যেতে এ পথ ব্যবহার করেন। সদর হাসপাতালে যাতায়াতেরও এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু পৌরসভার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

ব্যবসায়ী শহীদ মিয়া বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে ট্রাক ও পিকআপ আসতে চায় না। ফলে মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। রিকশায় মাল আনার সময় প্রায়ই পণ্য কাদাপানিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক মামুন মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় অনেক সময় যাত্রী নিয়েও এ পথে আসতে চাই না।

আরেক অটোরিকশাচালক মাছুম বলেন, গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ২ দিন আগে আমার সিএনজি থেকে এক নারী যাত্রী ছিটকে পড়ে হাত ভেঙেছেন। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, হাছননগর সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সড়কটি পরিদর্শনও করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর কেন কান ধরে উঠবস করলেন সোনাক্ষী?

সংস্কারের অভাবে বেহাল হাছননগর সড়ক, চরম দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

প্রকাশের সময় : ০২:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাছননগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া কার্পেটিং ও খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের প্রায় ৫০ গ্রামের হাজারো মানুষ। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাছননগর, নতুন হাছননগর, গুজাউরা, আলমপুর, বুড়িস্থল, যোগীরগাঁওসহ আশপাশের দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীরা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয়।

হাছননগর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, আমরা নিয়মিত পৌর কর দিচ্ছি। অথচ নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছি না। বৃষ্টির দিনে আমাদের ছেলেমেয়েরা যানবাহন পায় না। রাস্তা ভাঙা থাকায় মাঝপথে নেমে হেঁটে যেতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে এই সড়ক দিয়ে হাঁটাই কষ্টকর হয়ে যায়। বারবার পৌরসভায় গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। হাছননগর ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ জেলা শহরে যেতে এ পথ ব্যবহার করেন। সদর হাসপাতালে যাতায়াতেরও এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু পৌরসভার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

ব্যবসায়ী শহীদ মিয়া বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে ট্রাক ও পিকআপ আসতে চায় না। ফলে মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। রিকশায় মাল আনার সময় প্রায়ই পণ্য কাদাপানিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক মামুন মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় অনেক সময় যাত্রী নিয়েও এ পথে আসতে চাই না।

আরেক অটোরিকশাচালক মাছুম বলেন, গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ২ দিন আগে আমার সিএনজি থেকে এক নারী যাত্রী ছিটকে পড়ে হাত ভেঙেছেন। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, হাছননগর সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সড়কটি পরিদর্শনও করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।