সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদের পরামর্শ যেকোনো সময় গ্রহণের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটিতে বিরোধীদল নাম না দিলেও তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। যেকোনো সময় বিরোধী দল পরামর্শ দিতে পারবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধানের সংস্কার করতে চায় সরকার, যা সার্বিক জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা সংবিধানে ধারণ করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের নতুন যাত্রা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর বিবর্তনের এই পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর সবই সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নেই কাজ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং শিগগিরই দিন-তারিখ ও তালিকা নির্ধারণ করা হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সেটি অনুধাবন করে নাম পাঠাবেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠকে এসে কথা বললে যেমন স্বাগতম জানানো হবে, তেমনি বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে দেওয়া তাদের পরামর্শও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব এবং প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সবসময় তাদের স্বাগত জানাব। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিটির সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই; বরং সবার মতামত নিয়ে একটি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা উদার ও উন্মুক্ত মনোভাব নিয়ে সবার কথা শুনতে চাই।

সংবিধান সংশোধনের পথে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটিকে কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন তারা। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, শহীদের রক্ত এবং জাতির বিশাল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ধারা তৈরিতে কাজ করছে এ কমিটি। এই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধারণ করতে হলে সংবিধান সংস্কারই প্রথম পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিবিদেরাই নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো আগ্রহ প্রকাশ করলে সবার সঙ্গেই পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। ফলে আলোচনা শেষ করার নির্দিষ্ট সময় এখনই বেঁধে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ সংগৃহীত বিষয়গুলো এবং যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি সরকারি দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সংবিধান সংস্কারের পথেই এগোচ্ছে কমিটি।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জাতির প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে সংবিধানেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

কারা আলোচনায় অংশ নেবেন এবং কী বিষয়ে আলোচনা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়গুলো এখনো নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পেশাজীবীসহ আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। তাই এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো সম্ভব নয়।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৪৮ দফা প্রস্তাবের মধ্যে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, সেগুলোও যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা এবং জুলাই জাতীয় সনদে প্রতিফলিত না হলেও আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেখ হাসিনার মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে ভারতের সরকারের সম্পৃক্ততা নেই : রণধীর জয়সওয়াল

সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদের পরামর্শ যেকোনো সময় গ্রহণের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটিতে বিরোধীদল নাম না দিলেও তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। যেকোনো সময় বিরোধী দল পরামর্শ দিতে পারবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধানের সংস্কার করতে চায় সরকার, যা সার্বিক জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা সংবিধানে ধারণ করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের নতুন যাত্রা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর বিবর্তনের এই পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর সবই সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নেই কাজ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং শিগগিরই দিন-তারিখ ও তালিকা নির্ধারণ করা হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সেটি অনুধাবন করে নাম পাঠাবেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠকে এসে কথা বললে যেমন স্বাগতম জানানো হবে, তেমনি বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে দেওয়া তাদের পরামর্শও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব এবং প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সবসময় তাদের স্বাগত জানাব। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিটির সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই; বরং সবার মতামত নিয়ে একটি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা উদার ও উন্মুক্ত মনোভাব নিয়ে সবার কথা শুনতে চাই।

সংবিধান সংশোধনের পথে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটিকে কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন তারা। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, শহীদের রক্ত এবং জাতির বিশাল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ধারা তৈরিতে কাজ করছে এ কমিটি। এই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধারণ করতে হলে সংবিধান সংস্কারই প্রথম পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিবিদেরাই নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো আগ্রহ প্রকাশ করলে সবার সঙ্গেই পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। ফলে আলোচনা শেষ করার নির্দিষ্ট সময় এখনই বেঁধে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ সংগৃহীত বিষয়গুলো এবং যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি সরকারি দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সংবিধান সংস্কারের পথেই এগোচ্ছে কমিটি।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জাতির প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে সংবিধানেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

কারা আলোচনায় অংশ নেবেন এবং কী বিষয়ে আলোচনা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়গুলো এখনো নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পেশাজীবীসহ আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। তাই এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো সম্ভব নয়।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৪৮ দফা প্রস্তাবের মধ্যে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, সেগুলোও যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা এবং জুলাই জাতীয় সনদে প্রতিফলিত না হলেও আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।