নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নাকি তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন- এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও ব্যাখ্যা হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে এবং আপিল করতে চাইলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির আপিলের অধিকার আছে কি না, সেটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়; প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারণ করা হবে।
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আশা করি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। তারা কখন কীভাবে এটা সমাধান করতে হয়, দে আর কম্পিটেন্ট এনাফ।
বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই ব্যবস্থা অন্যান্য সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হলে একজন ব্যক্তির বিবাহসংক্রান্ত তথ্য এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে ভিসার আবেদনেও এসব তথ্য কাজে লাগবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনেক অনিয়ম বন্ধ হবে। এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধের পাশাপাশি বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতিও ঠেকানো সম্ভব হবে। বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, প্লাস আপনার জালিয়াতি রোধ হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ভিসা নিতে গেলে সেখান থেকেও এক ক্লিকে সমস্ত ইনফরমেশন পাওয়া যাবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির আওতায় প্রথমে ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
ব্র্যাকের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের দুর্বলতার কারণে ব্র্যাককে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং বিবাহসংক্রান্ত বিষয়ে মাঠপর্যায়ে ব্র্যাকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্র্যাক ইজ ওয়ার্কিং সিন্স ইটস ইনসেপশন। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট লেভেল পর্যন্ত নারীদের এই বৈবাহিক অবস্থানে ব্র্যাক কাজ করছে। তাদের একটা এক্সপেরিয়েন্স আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব আমাদের কাজিদের জন্য। এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় না। আমরা শুধু তাদের এক্সপার্টাইজ কাজে লাগাচ্ছি।
বিচার বিভাগে জনকল্যাণমূলক ও উদ্ভাবনী বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে মামলাজট কমানোর পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে জনকল্যাণমূলক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লিগ্যাল এইড কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন মামলা দায়েরের প্রবাহ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যমান মামলার সংখ্যাও কমানো সম্ভব হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে মানিকগঞ্জের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান মামলার প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। যেসব মামলা সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, সেগুলো মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে না। অন্যান্য জেলাও মানিকগঞ্জের এই উদ্যোগ অনুসরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ঝিনাইদহের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে বিচার বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অন্যান্য আদালত ও জেলাতেও কার্যকর উদ্যোগগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মামলা জট কমানো সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















