বগুড়ায় বাসের সাইড বক্সে মিলল ১০৩ প্যারাকিট টিয়া, পরে অবমুক্ত

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি : 

ঢাকাগামী বাসের সাইড বক্সে প্লাস্টিকের খাঁচায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া পাখি। খবর পেয়ে বগুড়ার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাখিগুলোর সঙ্গে থাকা পাচারকারী বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান। পরে বন বিভাগের সহযোগিতায় পাখিগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ টিয়া পাখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী আল বারাকা ট্রাভেলস নামের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাসের সাইড বক্সের ভেতর ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার করা হয়। তবে পাখিগুলো বহনকারী ব্যক্তিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া পাখিগুলোর মধ্যে ‘মেথ টিয়া’ ও ‘লাল মাথা টিয়া’ প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা দুলাল কুমার সাহা।

দুলাল কুমার সাহা বলেন, এসব টিয়া মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের পাহাড়ি এলাকার বুনো পাখি। খাদ্যের সন্ধানে বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচখেতে এসব পাখি চলে আসে। এ সময় একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পাখিগুলো ধরে অবৈধভাবে কেনাবেচা ও পাচারের চেষ্টা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানের বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বুনো টিয়া ধরা, বিক্রি বা কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে বাসটি আটক করার আগেই পাখি বহনকারী ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। ওই নম্বরের সূত্র ধরে পাখি পাচারের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে নিয়মিত মামলা করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ ভাবেনি আ.লীগ পালাইয়া বিদায় নিবে : ধর্মমন্ত্রী

বগুড়ায় বাসের সাইড বক্সে মিলল ১০৩ প্যারাকিট টিয়া, পরে অবমুক্ত

প্রকাশের সময় : ০৪:১১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি : 

ঢাকাগামী বাসের সাইড বক্সে প্লাস্টিকের খাঁচায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া পাখি। খবর পেয়ে বগুড়ার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাখিগুলোর সঙ্গে থাকা পাচারকারী বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান। পরে বন বিভাগের সহযোগিতায় পাখিগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ টিয়া পাখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী আল বারাকা ট্রাভেলস নামের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাসের সাইড বক্সের ভেতর ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার করা হয়। তবে পাখিগুলো বহনকারী ব্যক্তিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া পাখিগুলোর মধ্যে ‘মেথ টিয়া’ ও ‘লাল মাথা টিয়া’ প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা দুলাল কুমার সাহা।

দুলাল কুমার সাহা বলেন, এসব টিয়া মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের পাহাড়ি এলাকার বুনো পাখি। খাদ্যের সন্ধানে বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচখেতে এসব পাখি চলে আসে। এ সময় একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি পাখিগুলো ধরে অবৈধভাবে কেনাবেচা ও পাচারের চেষ্টা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানের বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বুনো টিয়া ধরা, বিক্রি বা কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে বাসটি আটক করার আগেই পাখি বহনকারী ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। ওই নম্বরের সূত্র ধরে পাখি পাচারের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে নিয়মিত মামলা করা হবে।