Dhaka রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্র ও মানবাধিকারকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে: সুলতানা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘খুবই খারাপ’ উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, মানবাধিকারের কথা তুললে সরকার বিরক্ত হচ্ছে। যাঁরা মানবাধিকারের কথা বলছেন, তাঁদের বৈরিতার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র ও মানবাধিকারকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৩: এমএসএফের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।

সুলতানা কামাল বলেন, বিদায়ী বছর মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের কোনো মনোযোগ ছিল না। মানবাধিকারের প্রসঙ্গ এলেই সরকার আত্মরক্ষামূলক কথা বলেেছ।

দেশের গত এক বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানবাধিকারের প্রতি সম্মান করা, সুরক্ষা দেওয়া এবং মানবাধিকারবোধ বাস্তবায়ন করা। এ বছর এসব ব্যাপারে রাষ্ট্র মনোযোগী ছিল না। যখনই মানবাধিকারের কথা উঠেছে, তারা আত্মরক্ষামূলক কথা বলেছে।

মানবাধিকার সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান করা হয়নি। মানবাধিকারবোধ সঞ্চারে বুদ্ধিবৃত্তিক পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের আচরণ দেখলে মনে হয়, মানবাধিকারের বিষয়গুলো তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। মানবাধিকারের কথা শুনলেই সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সুলতানা কামাল বলেন, সরকার মনে করছে, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও যথেষ্ট। মানুষের মনমানসিকতা, মানবাধিকারবোধ উন্নয়নে যেন তাদের দায়িত্ব নেই।

সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেই বেশি মনোযোগী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে মানবাধিকারের নীতি বা বোধ জাগাতে তারা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেই চলবে, মানুষের মন মানসিকতার উন্নয়নের বিষয়ে তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নাই।

মানবাধিকার ইস্যুতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি, তাদের অন্তর্নিহিত অনেক দুর্বলতা রয়েছে। যেখানে মানবাধিকার ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা সর্বজনগ্রাহ্য নাগরিক ব্যক্তিত্বদের, সেখানে বছরের পর বছর নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক যে ব্যবস্থাপনা, তাদের যে জনবল, তাদের যে তদন্ত করার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এ কমিশনের কাজগুলো হওয়ার কথা প্যারিস প্রিন্সিপালের আলোকে, তবে প্যারিস প্রিন্সিপালের নীতিগুলো ফলো করা হয়নি। এ কারণে আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী, স্বাধীন কমিশন তৈরি করতে পারিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৩: এমএসএফের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এমএসএফের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান।

তিনি জানান, চলতি বছরে নির্বাচনী সহিংসতার ১৩৮টি ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। মুখোশ পরে গুপ্ত হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ১৫টি ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অপহরণের অভিযোগ এসেছে ৮৯টি।

এ বছর পুলিশ হেফাজতে ১৭ জন, কারা হেফাজতে ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে অজ্ঞাতনামা ৩৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৬২টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৩ জন। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩২ জন।

এ বছর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কমে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিলো ৮১, এ বছর তা নেমে এসেছে ৬৩তে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদে আসছে আদর-পূজার ‘নাকফুলের কাব্য’

রাষ্ট্র ও মানবাধিকারকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে: সুলতানা কামাল

প্রকাশের সময় : ০৩:২২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘খুবই খারাপ’ উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, মানবাধিকারের কথা তুললে সরকার বিরক্ত হচ্ছে। যাঁরা মানবাধিকারের কথা বলছেন, তাঁদের বৈরিতার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র ও মানবাধিকারকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৩: এমএসএফের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।

সুলতানা কামাল বলেন, বিদায়ী বছর মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের কোনো মনোযোগ ছিল না। মানবাধিকারের প্রসঙ্গ এলেই সরকার আত্মরক্ষামূলক কথা বলেেছ।

দেশের গত এক বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানবাধিকারের প্রতি সম্মান করা, সুরক্ষা দেওয়া এবং মানবাধিকারবোধ বাস্তবায়ন করা। এ বছর এসব ব্যাপারে রাষ্ট্র মনোযোগী ছিল না। যখনই মানবাধিকারের কথা উঠেছে, তারা আত্মরক্ষামূলক কথা বলেছে।

মানবাধিকার সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান করা হয়নি। মানবাধিকারবোধ সঞ্চারে বুদ্ধিবৃত্তিক পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের আচরণ দেখলে মনে হয়, মানবাধিকারের বিষয়গুলো তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। মানবাধিকারের কথা শুনলেই সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সুলতানা কামাল বলেন, সরকার মনে করছে, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও যথেষ্ট। মানুষের মনমানসিকতা, মানবাধিকারবোধ উন্নয়নে যেন তাদের দায়িত্ব নেই।

সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেই বেশি মনোযোগী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে মানবাধিকারের নীতি বা বোধ জাগাতে তারা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেই চলবে, মানুষের মন মানসিকতার উন্নয়নের বিষয়ে তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নাই।

মানবাধিকার ইস্যুতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি, তাদের অন্তর্নিহিত অনেক দুর্বলতা রয়েছে। যেখানে মানবাধিকার ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা সর্বজনগ্রাহ্য নাগরিক ব্যক্তিত্বদের, সেখানে বছরের পর বছর নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক যে ব্যবস্থাপনা, তাদের যে জনবল, তাদের যে তদন্ত করার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এ কমিশনের কাজগুলো হওয়ার কথা প্যারিস প্রিন্সিপালের আলোকে, তবে প্যারিস প্রিন্সিপালের নীতিগুলো ফলো করা হয়নি। এ কারণে আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী, স্বাধীন কমিশন তৈরি করতে পারিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৩: এমএসএফের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এমএসএফের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান।

তিনি জানান, চলতি বছরে নির্বাচনী সহিংসতার ১৩৮টি ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। মুখোশ পরে গুপ্ত হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ১৫টি ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অপহরণের অভিযোগ এসেছে ৮৯টি।

এ বছর পুলিশ হেফাজতে ১৭ জন, কারা হেফাজতে ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে অজ্ঞাতনামা ৩৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৬২টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৩ জন। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩২ জন।

এ বছর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কমে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিলো ৮১, এ বছর তা নেমে এসেছে ৬৩তে।