Dhaka শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটারকে বাধা দিলে কঠোরভাবে দমন করার হুঁশিয়ারি র‌্যাব ডিজির

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভোট দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোটদানে ভোটারকে বাধা দেওয়া বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বেআইনি। এই বেআইনি কাজ যারা করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শন এবং নির্বাচন কেন্দ্রে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

র‌্যাব ডিজি বলেন, ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে আমাদের একটা চমৎকার কোর্ডিনেশন রয়েছে। আমরা টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন এরই মধ্যে আমরা সেটা সম্পন্ন করেছি। আমি বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। দেখে মনে হয়েছে সব ঠিক আছে, সুন্দর পরিবেশ।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতি পাঁচ বছর পর একবার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়। ৭ জানুয়ারি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এরই মধ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য যারা রয়েছি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা পর‌্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের র‌্যাবের ইউনিট রয়েছে সেখানে আমরা স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে রোবাস্ট পেট্রলিং করছি। নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৭০০ মোবাইল পেট্রোল কাজ করবে। সে সঙ্গে আমাদের সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আমাদের সাইবার পেট্রলিংয়ের কাজ চলছে বিভিন্ন ধরনের গুজব প্রতিরোধ করার জন্য। আমাদের সুইপিং টিম কাজ করছে। থাকবে ডগ স্কোয়াড, বোম স্কোয়াড থাকবে। বিশেষ কোনো জরুরি প্রয়োজন হলে আমাদের হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, র‌্যাবের ডিভাইস ‘ওআইভিএস’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এক এলাকার ভোটার ব্যতিত অন্য এলাকার বহিরাগত আসতে চাইলে তাকে যেন আইডেন্টিফাই করা যায়। আমরা এ ব্যবস্থা রেখেছি যাতে করে বহিরাগতরা ভোট সেন্টারে প্রবেশ করতে না পারে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি নিজে সাতটা বিভাগ পরিদর্শন করেছি। র‌্যাবের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাদের আমি ব্রিফ করেছি। বিভাগীয় পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা যারা ছিলেন বিশেষ করে যারা নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।

এরই মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ও কিছু দল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে কেউ নির্বাচনে ভোট দিতেও পারে নাও পারে। কিন্তু কেউ যদি ভোট দিতে চায় আর তাকে যদি বাধা দেওয়া হয় বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তা হবে সম্পূর্ণ অসংবিধানিক ও বেআইনি। আর এ বেআইনি কাজ যারা করবে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছি তাদের আমরা কঠোর আছে দমন করব।

তবে তিনি বলেন, হ্যাঁ টাইম দিস টাইম, কিছু নাশকতা হয়েছে। এটা হতেই পারে। এটা হবে স্বাভাবিকভাবে। একদম হান্ডেট পার্সেন্ট আপনি সবকিছু ঠেকাতে পারবেন তা কিন্তু না। শুধু আমাদের দেশে না যুক্তরাষ্ট্রেও গত নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত অ্যাটাক হয়েছে। ভারতেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য অনেক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে অনেক লোক মারাও যায়। সে তুলনায় আমি মনে করি গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের তুলনায় এবারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমরা বিশ্বাস করি আস্থা রাখি, এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিরপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সক্ষম হব।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, আপনারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এ দেশের নাগরিক হিসেবে ও গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় গেলে তাকে নাশকতাকারী হিসেবে আমরা সনাক্ত করবো না। তবে জানতে চাইবো, আমরা তাকে ওয়াচ করবো। আপনি কেন এসেছেন, কি প্রয়োজন আপনার। আপনি অন্য কোনো কাজে ইনভলভ আছেন কিনা। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া কেউ কোথাও যাবেন না। নিজ নিজ এলাকায় থাকবেন।

শুক্রবার বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে নাশকতা ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হরতাল কর্মসূচি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ভোট দিতে যেতে পারবে? প্রশ্ন করা হয় তাকে। র‌্যাব ডিজি বলেন, নাশকতার ব্যাপারে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল- এ ধরনের নাশকতা ঘটনা ঘটতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই ভোট যারা বয়কট করেছেন বিশেষ করে জামায়াত-বিএনপির কথা আমরা জানি। আমরা গতকাল তিনজনকে পিকআপ করেছি। তাদের কাছে পেট্রোল বোমা পাওয়া গেছে ২৮টি, ককটেল পাওয়া গেছে ৩০টি। তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো ঘটনা যখন ঘটে আমরা অবশ্যই তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কারণ, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনা আন্ডার ইনভেস্টিগেশন। তথ্য পেলে আমরা অবশ্যই আপনাদের জানাবো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এমন কোনো থ্রেট বা হুমকি তৈরি হয়নি, এমন কোনো আশঙ্কা নেই যে মানুষ নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারবে না। শুধু র‌্যাব ফোর্সেস না সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার স্বাভাবিক। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবেন।

খুরশীদ আরও বলেন, আমরা নির্বাচন উপলক্ষে তিনটি ফেজে কাজ করছি। নির্বাচনী পূর্ববর্তী অবস্থা আজকে থেকে শেষ। আগামীকাল হবে নির্বাচন। এই নির্বাচনে যারা ভোট দিতে আসবেন আমাদের কাজ তাদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করা। ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা। যারা নির্বাচনী কাজে সংশ্লিষ্ট এবং ভোটকেন্দ্র রয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে যারা জয়ী হবেন বা পরাজিত হবেন তাদের মধ্যেও পরস্পর ঝামেলা হয়, সংঘর্ষ হয়। নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সেজন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। সুতরাং ভয় পাওয়ার বা আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কি ইন্টেলিজেন্স দুর্বলতা রয়েছে? পর্যাপ্ত তথ্য থাকার পরও কেন নাশকতা ঠেকানো যাচ্ছে না? প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ২০১৩-১৪ সালের দিকে আমি রাজশাহীর এডিশনাল ডিআইজি ছিলাম। সে সময়ের কথা যদি আপনি মনে করেন, সে তুলনায় এই বছরে তার ৩০ শতাংশ নাশকতাও নেই। আর ইন্টেলিজেন্স দুর্বলতা যেটি, হ্যাঁ আমাদের কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু কোন ধরনের তথ্য ছিল? নাশকতা ঘটনা ঘটতে পারে! কিন্তু কোথায় হবে এটা জানা কিন্তু ডিফিকাল্ট। তবে আমাদের নজরদারি অব্যাহত ছিল। যে কারণে আমরা রাতেই ইনস্ট্যান্ট বাই দিস টাইম কিছু ধরেছি। তদন্ত চলছে দেখি কি পাওয়া যায়।

আপনারা (র‌্যাব) অনসাইট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ওআইভিএস) নামে একটি প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন। আপনারা কি বলতে চাচ্ছেন, এক এলাকার মানুষ আগামীকাল আরেক এলাকায় যেতে পারবে না, বা চলাচল করতে পারবে না? উত্তরে র‌্যাব ডিজি বলেন, শুধুমাত্র কেন্দ্রভিত্তিক কেন্দ্রের সামনে বহিরাগতরা যেতে পারবেন না। এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় অবশ্যই চলাচল করতে পারবেন। কিন্তু আপনি এক এলাকার ভোটার, আপনি অন্য এলাকার ভোট সেন্টারে গেছেন বা যাচ্ছেন কিনা এটা আমরা দেখব। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসবেন, তবে বহিরাগতরা নয়।

এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় গেলে তাকে নাশকতাকারী হিসেবে আমরা সনাক্ত করবো না। তবে জানতে চাইবো, আমরা তাকে ওয়াচ করবো। আপনি কেন এসেছেন, কি প্রয়োজন আপনার। আপনি অন্য কোনো কাজে ইনভলভ আছেন কিনা। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া কেউ কোথাও যাবেন না। নিজ নিজ এলাকায় থাকবেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদে আসছে আদর-পূজার ‘নাকফুলের কাব্য’

ভোটারকে বাধা দিলে কঠোরভাবে দমন করার হুঁশিয়ারি র‌্যাব ডিজির

প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভোট দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোটদানে ভোটারকে বাধা দেওয়া বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বেআইনি। এই বেআইনি কাজ যারা করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শন এবং নির্বাচন কেন্দ্রে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

র‌্যাব ডিজি বলেন, ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে আমাদের একটা চমৎকার কোর্ডিনেশন রয়েছে। আমরা টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন এরই মধ্যে আমরা সেটা সম্পন্ন করেছি। আমি বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। দেখে মনে হয়েছে সব ঠিক আছে, সুন্দর পরিবেশ।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতি পাঁচ বছর পর একবার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়। ৭ জানুয়ারি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এরই মধ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য যারা রয়েছি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা পর‌্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের র‌্যাবের ইউনিট রয়েছে সেখানে আমরা স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে রোবাস্ট পেট্রলিং করছি। নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৭০০ মোবাইল পেট্রোল কাজ করবে। সে সঙ্গে আমাদের সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আমাদের সাইবার পেট্রলিংয়ের কাজ চলছে বিভিন্ন ধরনের গুজব প্রতিরোধ করার জন্য। আমাদের সুইপিং টিম কাজ করছে। থাকবে ডগ স্কোয়াড, বোম স্কোয়াড থাকবে। বিশেষ কোনো জরুরি প্রয়োজন হলে আমাদের হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, র‌্যাবের ডিভাইস ‘ওআইভিএস’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এক এলাকার ভোটার ব্যতিত অন্য এলাকার বহিরাগত আসতে চাইলে তাকে যেন আইডেন্টিফাই করা যায়। আমরা এ ব্যবস্থা রেখেছি যাতে করে বহিরাগতরা ভোট সেন্টারে প্রবেশ করতে না পারে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি নিজে সাতটা বিভাগ পরিদর্শন করেছি। র‌্যাবের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাদের আমি ব্রিফ করেছি। বিভাগীয় পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা যারা ছিলেন বিশেষ করে যারা নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।

এরই মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ও কিছু দল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে কেউ নির্বাচনে ভোট দিতেও পারে নাও পারে। কিন্তু কেউ যদি ভোট দিতে চায় আর তাকে যদি বাধা দেওয়া হয় বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তা হবে সম্পূর্ণ অসংবিধানিক ও বেআইনি। আর এ বেআইনি কাজ যারা করবে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছি তাদের আমরা কঠোর আছে দমন করব।

তবে তিনি বলেন, হ্যাঁ টাইম দিস টাইম, কিছু নাশকতা হয়েছে। এটা হতেই পারে। এটা হবে স্বাভাবিকভাবে। একদম হান্ডেট পার্সেন্ট আপনি সবকিছু ঠেকাতে পারবেন তা কিন্তু না। শুধু আমাদের দেশে না যুক্তরাষ্ট্রেও গত নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত অ্যাটাক হয়েছে। ভারতেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য অনেক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে অনেক লোক মারাও যায়। সে তুলনায় আমি মনে করি গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের তুলনায় এবারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমরা বিশ্বাস করি আস্থা রাখি, এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিরপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সক্ষম হব।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, আপনারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এ দেশের নাগরিক হিসেবে ও গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় গেলে তাকে নাশকতাকারী হিসেবে আমরা সনাক্ত করবো না। তবে জানতে চাইবো, আমরা তাকে ওয়াচ করবো। আপনি কেন এসেছেন, কি প্রয়োজন আপনার। আপনি অন্য কোনো কাজে ইনভলভ আছেন কিনা। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া কেউ কোথাও যাবেন না। নিজ নিজ এলাকায় থাকবেন।

শুক্রবার বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে নাশকতা ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হরতাল কর্মসূচি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে ভোট দিতে যেতে পারবে? প্রশ্ন করা হয় তাকে। র‌্যাব ডিজি বলেন, নাশকতার ব্যাপারে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল- এ ধরনের নাশকতা ঘটনা ঘটতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই ভোট যারা বয়কট করেছেন বিশেষ করে জামায়াত-বিএনপির কথা আমরা জানি। আমরা গতকাল তিনজনকে পিকআপ করেছি। তাদের কাছে পেট্রোল বোমা পাওয়া গেছে ২৮টি, ককটেল পাওয়া গেছে ৩০টি। তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো ঘটনা যখন ঘটে আমরা অবশ্যই তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কারণ, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনা আন্ডার ইনভেস্টিগেশন। তথ্য পেলে আমরা অবশ্যই আপনাদের জানাবো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এমন কোনো থ্রেট বা হুমকি তৈরি হয়নি, এমন কোনো আশঙ্কা নেই যে মানুষ নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারবে না। শুধু র‌্যাব ফোর্সেস না সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার স্বাভাবিক। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবেন।

খুরশীদ আরও বলেন, আমরা নির্বাচন উপলক্ষে তিনটি ফেজে কাজ করছি। নির্বাচনী পূর্ববর্তী অবস্থা আজকে থেকে শেষ। আগামীকাল হবে নির্বাচন। এই নির্বাচনে যারা ভোট দিতে আসবেন আমাদের কাজ তাদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করা। ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা। যারা নির্বাচনী কাজে সংশ্লিষ্ট এবং ভোটকেন্দ্র রয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে যারা জয়ী হবেন বা পরাজিত হবেন তাদের মধ্যেও পরস্পর ঝামেলা হয়, সংঘর্ষ হয়। নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সেজন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। সুতরাং ভয় পাওয়ার বা আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কি ইন্টেলিজেন্স দুর্বলতা রয়েছে? পর্যাপ্ত তথ্য থাকার পরও কেন নাশকতা ঠেকানো যাচ্ছে না? প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ২০১৩-১৪ সালের দিকে আমি রাজশাহীর এডিশনাল ডিআইজি ছিলাম। সে সময়ের কথা যদি আপনি মনে করেন, সে তুলনায় এই বছরে তার ৩০ শতাংশ নাশকতাও নেই। আর ইন্টেলিজেন্স দুর্বলতা যেটি, হ্যাঁ আমাদের কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু কোন ধরনের তথ্য ছিল? নাশকতা ঘটনা ঘটতে পারে! কিন্তু কোথায় হবে এটা জানা কিন্তু ডিফিকাল্ট। তবে আমাদের নজরদারি অব্যাহত ছিল। যে কারণে আমরা রাতেই ইনস্ট্যান্ট বাই দিস টাইম কিছু ধরেছি। তদন্ত চলছে দেখি কি পাওয়া যায়।

আপনারা (র‌্যাব) অনসাইট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ওআইভিএস) নামে একটি প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন। আপনারা কি বলতে চাচ্ছেন, এক এলাকার মানুষ আগামীকাল আরেক এলাকায় যেতে পারবে না, বা চলাচল করতে পারবে না? উত্তরে র‌্যাব ডিজি বলেন, শুধুমাত্র কেন্দ্রভিত্তিক কেন্দ্রের সামনে বহিরাগতরা যেতে পারবেন না। এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় অবশ্যই চলাচল করতে পারবেন। কিন্তু আপনি এক এলাকার ভোটার, আপনি অন্য এলাকার ভোট সেন্টারে গেছেন বা যাচ্ছেন কিনা এটা আমরা দেখব। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসবেন, তবে বহিরাগতরা নয়।

এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় গেলে তাকে নাশকতাকারী হিসেবে আমরা সনাক্ত করবো না। তবে জানতে চাইবো, আমরা তাকে ওয়াচ করবো। আপনি কেন এসেছেন, কি প্রয়োজন আপনার। আপনি অন্য কোনো কাজে ইনভলভ আছেন কিনা। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া কেউ কোথাও যাবেন না। নিজ নিজ এলাকায় থাকবেন।