কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া বর্মণ (২১) নামের প্রবাসীর স্ত্রী। জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে ছেলে দুজন ও মেয়ে একজন। বর্তমানে মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩) দিবাগত রাতে ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার ডা. ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়া বর্মণ ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার গ্রিস প্রবাসী বিজয় বর্মণের স্ত্রী। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এটি এই দম্পতির প্রথম সন্তান। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ডা. ইসরাত জাহানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রিয়া বর্মণ। পরবর্তীতে চিকিৎসকের চিকিৎসায় তিনি গর্ভধারণ করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রিয়া বর্মণ। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডা. ইসরাত জাহান সিজারিয়ানের মাধ্যমে নবজাতকদের জন্ম হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম ফরহাদ জানান, নির্ধারিত সময়ের একটু আগে, অর্থাৎ সাড়ে সাত মাসের মাথায় গর্ভকালীন জটিলতা ও প্রসব ব্যথা নিয়ে প্রিয়া বর্মণকে হাসপাতালে আনা হয়। তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে তিন সন্তানকে নিরাপদে প্রসব করানো হয়। তিনি আরও জানান, তাদের হাসপাতালে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো একসঙ্গে তিনটি করে সন্তান সফলভাবে প্রসব করানো হলো।
সিনিয়র স্টাফ নার্স জিবা আক্তার বলেন, জন্মকালে ওজন কিছুটা কম থাকায় শিশুদের সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা এনআইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে তারা বিপদমুক্ত রয়েছে।
নবজাতকদের ফুফু রুপা বর্মণ বলেন, গর্ভাবস্থার দুই মাস বয়স থেকেই তারা তিন সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। নতুন অতিথিদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেবার প্রশংসা করেন।
তিন সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন নবজাতকদের মা প্রিয়া বর্মণ।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 
























