স্পোর্টস ডেস্ক :
সবমিলিয়ে ৩০ বছর এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ৪৪ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে ভাঙা আঙুল নিয়েও দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ নিয়ে নিজের খেলা সাতটি ফাইনালেই তিনি জয়ের শতভাগ রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখেছেন।
বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস পার্কে ভিলার শিরোপা উৎসবে হাজির হয়েছিলেন ক্লাবটি পাড়ভক্ত যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়ামও। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ক্লিনশিটও ধরে রাখেন মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে জানা যায়, ফাইনালের আগেই ভাঙা আঙুল নিয়েই খেলেছেন তিনি।
পছন্দের ক্লাবের স্মরণীয় জয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে তিনি বুনো উদযাপন করেছেন, নেচেছেন, গেয়েছেন, হয়েছেন আবেগাপ্লুত। ইউরোপা লিগের ম্যাচটি খেলতে নামার আগে ওয়ার্মআপের সময় চোট পান ভিলার গোলরক্ষক মার্টিনেজ। যা তার মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেন, ‘আজ আমরা যা অর্জন করেছি, সেটা সত্যিই অসাধারণ। ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে আমার আঙুল ভেঙে যায়। জীবনে আগে কখনো এমন হয়নি। বল ধরতে গেলেই আঙুলটা অন্যদিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি এটাকে খারাপ কিছু হিসেবে দেখিনি। ফুটবলে এসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয়।’
ওয়ার্মআপের সময় চিকিৎসকদের সহায়তায় কিছুক্ষণ মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। পরে আঙুলে ব্যান্ডেজ বেঁধেই মাঠে ফেরেন এবং কিকঅফের সময় ঠিকই গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ান। ফাইনালে শুরু থেকেই দাপট দেখায় উনাই এমেরির দল।
ইউরি টিলেমান্স, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মরগান রজার্সের গোলে এক ঘণ্টার মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভিলা। আর গোলপোস্টে মার্তিনেজ থাকায় ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই পায়নি জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গ।
ভাঙা আঙুল নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক। হাসিমুখেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এমন চোটে আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে এমির খেলা নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভক্তরা।
তবে সে শঙ্কার কথা উড়িয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘ইউরোপা জিতে আমি ভীষণ খুশি। এখন সময় সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করার। এই দল অনেক দিন এমন আনন্দ পায়নি। এরপর পুরো মনোযোগ থাকবে বিশ্বকাপে।’
দিবু মার্টিনেজের আঙুলের চোট নিয়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ‘তার অস্বস্তি তেমন গুরুতর কিছু নয় এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য তার প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হবে না।’ আঙুলের ব্যথা সত্ত্বেও ভিলার হয়ে মার্টিনেজ পুরো ৯০ মিনিটই খেলেছেন। ক্লাবটির হয়ে নিজের প্রথম শিরোপা জয়ে প্রবল উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন, কখনও কোচ উনাই এমেরি আবার সতীর্থ এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে কাঁধে তুলে নেচেছেন, আবার গ্যালারিতে গিয়ে ভিলা সমর্থকদের সঙ্গে গায়ে গা মিলিয়ে গলা ফাটিয়েছেন।
অথচ ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক অ্যাস্টন ভিলা ছাড়তে চাওয়া নিয়ে কম নাটক হয়নি। আগের মৌসুম শেষে তিনি বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত উঁচু করে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত আর ঠিকানা পরিবর্তন হয়নি মার্টিনেজের। ভিলার সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। যাকে নিজের পরিবার উল্লেখ করে মার্টিনেজ বলছেন, ‘সত্যি হচ্ছে…এই সমর্থক ও ক্লাব আমার পরিবারের মতো। সবসময়ই আমি গর্বের সঙ্গে খেলি এবং দলের গোলবার সামলাই। আমি (কোচ উনাই) এমেরিকে খুব ভালোবাসি, অনেক বছর ধরেই চিনি, সেই আর্সেনাল (সাবেক ক্লাব) থেকে। তিনিও আমার মতো একজন বিজয়ী, জয়ের জন্য মরিয়া থাকেন। এখন আমার বিশ্বকাপে মনোযোগ দেওয়ার সময়।’
এখন পর্যন্ত কোনো ফাইনালেই হারের রেকর্ড নেই মার্টিনেজের। তার এই জয়যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে আর্সেনালের হয়ে। ওই বছর এফএ কাপ ফাইনালে চেলসি এবং কমিউনিটি শিল্ডে লিভারপুলকে হারিয়ে ফাইনাল জয় শুরু। এরপর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে নম্বর ওয়ান গোলরক্ষক হিসেবে ২০২১ কোপা আমেরিকা (ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০), ২০২২ ফিনালিসিমা (ইতালির বিপক্ষে ৩-০), ২০২২ বিশ্বকাপ (ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকার) এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকায় (কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























