ফরিদপুরে মহাসড়কে এক বছরে ৪৬৮ দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৮

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

ফরিদপুরে এক বছরে বিভিন্ন মহাসড়কে ৪৬৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন। আহত হয়েছেন আরও ৮৩৮ জন। এ সময়ে দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২২২টি।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদারীপুর রিজিয়নের আওতাধীন মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, মাদারীপুর রিজিয়নের আওতায় রয়েছে মোট ৩৯৯ কিলোমিটার মহাসড়ক। এ অঞ্চলে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নয়টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত টহল, যানবাহন তদারকি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অসাবধানতা ও ক্লান্তি, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং মহাসড়কে ধীরগতির ও ছোট যানবাহনের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, যত্রতত্র রাস্তা পারাপার এবং মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

পরিবহন চালক মো. বাচ্চু শেখ বলেন, সড়কের ত্রুটি ও দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানোর কারণে অনেক সময় চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে ছোট যানবাহনের এলোমেলো চলাচল যুক্ত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, অনেক সময় গাড়ি আছে কি না, তা না দেখেই পথচারীরা রাস্তা পার হন। ছোট যানবাহনও নিয়ম না মেনে চলাচল করে। দুর্ঘটনা ঘটলে বেশিরভাগ সময় সব দায় চালকের ওপর চাপানো হয়। অথচ দুর্ঘটনার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকে।

ফরিদপুরের মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, চালকের ক্লান্তি ও অসুস্থতা সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর চালকের মনোযোগ কমে যায় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, অসুস্থ বা অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায় কোনো চালকেরই গাড়ি চালানো উচিত নয়। পাশাপাশি মহাসড়কে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইয়াসিন মোল্লা বলেন, জাতীয় মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এর মধ্যে নছিমন, করিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধীরগতির যান রয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দক্ষিণবঙ্গের আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বেড়েছে। একই মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির যান চলাচল করায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে।

ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। যাত্রী ও পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশে দোকানপাট, স্কুল বা জনবসতি থাকলে অনেক সময় শিশু ও বয়স্করা হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া ধীরগতির নছিমন-করিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদেরও মহাসড়কে চলাচলের নিয়ম মানতে হবে।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের অসাবধানতা, অদক্ষতা, লাইসেন্সবিহীন চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের স্বল্পতা ও অপ্রশস্ততা, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিংয়ের মতো কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আইন ভঙ্গের প্রবণতা, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা, ফুটপাত দখল, মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাটবাজার ও স্থাপনা, যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের কারণেও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হয়।

এদিকে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক, পথচারী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের বিশ্রামের সুযোগ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার দাবি রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নের ফরিদপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোমতাজুল এহসান আহমেদ হুমায়ুন বলেন, মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। বেপরোয়া বা আইন অমান্য করে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদারীপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৩৯৯ কিলোমিটার মহাসড়কে নয়টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির টহল টিম কাজ করছে। এসব টিম শিফট ভাগ করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। মহাসড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলেন, এক বছরে ৪৬৮টি দুর্ঘটনায় ২৮৮ জনের প্রাণহানি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শত শত পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা ও আহত মানুষের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। তাই দুর্ঘটনা কমাতে শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা বা জরিমানা নয়, দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করে মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার ওপর সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮৪

ফরিদপুরে মহাসড়কে এক বছরে ৪৬৮ দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৮

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

ফরিদপুরে এক বছরে বিভিন্ন মহাসড়কে ৪৬৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন। আহত হয়েছেন আরও ৮৩৮ জন। এ সময়ে দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২২২টি।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদারীপুর রিজিয়নের আওতাধীন মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, মাদারীপুর রিজিয়নের আওতায় রয়েছে মোট ৩৯৯ কিলোমিটার মহাসড়ক। এ অঞ্চলে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নয়টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত টহল, যানবাহন তদারকি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অসাবধানতা ও ক্লান্তি, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং মহাসড়কে ধীরগতির ও ছোট যানবাহনের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, যত্রতত্র রাস্তা পারাপার এবং মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

পরিবহন চালক মো. বাচ্চু শেখ বলেন, সড়কের ত্রুটি ও দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানোর কারণে অনেক সময় চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে ছোট যানবাহনের এলোমেলো চলাচল যুক্ত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, অনেক সময় গাড়ি আছে কি না, তা না দেখেই পথচারীরা রাস্তা পার হন। ছোট যানবাহনও নিয়ম না মেনে চলাচল করে। দুর্ঘটনা ঘটলে বেশিরভাগ সময় সব দায় চালকের ওপর চাপানো হয়। অথচ দুর্ঘটনার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকে।

ফরিদপুরের মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, চালকের ক্লান্তি ও অসুস্থতা সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর চালকের মনোযোগ কমে যায় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, অসুস্থ বা অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায় কোনো চালকেরই গাড়ি চালানো উচিত নয়। পাশাপাশি মহাসড়কে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইয়াসিন মোল্লা বলেন, জাতীয় মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এর মধ্যে নছিমন, করিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধীরগতির যান রয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দক্ষিণবঙ্গের আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বেড়েছে। একই মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির যান চলাচল করায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে।

ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। যাত্রী ও পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশে দোকানপাট, স্কুল বা জনবসতি থাকলে অনেক সময় শিশু ও বয়স্করা হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া ধীরগতির নছিমন-করিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদেরও মহাসড়কে চলাচলের নিয়ম মানতে হবে।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের অসাবধানতা, অদক্ষতা, লাইসেন্সবিহীন চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের স্বল্পতা ও অপ্রশস্ততা, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিংয়ের মতো কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আইন ভঙ্গের প্রবণতা, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা, ফুটপাত দখল, মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাটবাজার ও স্থাপনা, যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের কারণেও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হয়।

এদিকে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক, পথচারী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের বিশ্রামের সুযোগ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার দাবি রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নের ফরিদপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোমতাজুল এহসান আহমেদ হুমায়ুন বলেন, মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। বেপরোয়া বা আইন অমান্য করে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদারীপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৩৯৯ কিলোমিটার মহাসড়কে নয়টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির টহল টিম কাজ করছে। এসব টিম শিফট ভাগ করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। মহাসড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলেন, এক বছরে ৪৬৮টি দুর্ঘটনায় ২৮৮ জনের প্রাণহানি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শত শত পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা ও আহত মানুষের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। তাই দুর্ঘটনা কমাতে শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা বা জরিমানা নয়, দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করে মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার ওপর সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।